প্রাথমিকের ৬৫ ভাগ শিক্ষার্থী বাংলা পড়তে পারে না

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থী

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার ৯৮ শতাংশ হলেও মানসম্মত শিক্ষা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্র্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রাথমিকের ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলাই পড়তে পারে না। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা আরও বেশি।

এদিকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কোর) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার সবচেয়ে কম।

গবেষণাগুলোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়মানুযায়ী শিশুদের বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ওই শ্রেণিতে পড়ার দক্ষতা শিশুটির নেই। এছাড়া একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের সবার প্রতি আলাদাভাবে নজর দেয়া রীতিমতো অসম্ভব বলে জানান শিক্ষকরা।

দুর্বল শিক্ষার্থীদের কাছে পঠনপ্রক্রিয়া সহজ করে তুলতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষকের সেই প্রশিক্ষণ নিয়মিত হয় না। বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষকের বছরের পর বছর কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ হয় না বলে ইউনেস্কোর এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশে এখনও স্কুল পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে ইউনেস্কো।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এই হার অবশ্য কম। গত বছর বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একে তো শিক্ষার্থীদের অনুপাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ শিক্ষকের অভাব, এর মধ্যে যে কয়েকজন আছেন তারাও তাদের পুরো সময় পাঠদানে দিতে পারেন না। সব মিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব শেখ ইকরামুল কবির।

এমন অবস্থায় শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাথমিকের প্রতিটি দুর্বল শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্বব্যাংক ও ইউনেস্কোর প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী বছরের মধ্যে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের সবল করে তোলার বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×