ব্যাংক খাত সংস্কারে আইএমএফের পাঁচ পরামর্শ

  যুগান্তর ডেস্ক ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ খাতের সংস্কারে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এগুলো হচ্ছে- ব্যাংক খাতের বিধিবিধান ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার, ব্যাংক খাতে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের বিভিন্ন শর্ত কঠোর করা, ঋণের টাকা পুনরুদ্ধারের আইনি পদক্ষেপ শক্তিশালী এবং ব্যাংকের কর্পোরেট সুশাসন জোরদার করা।

আইএমএফের আর্টিকেল-৪ মিশনের প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে এসব পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। চলতি মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত আর্টিকেল-৪ মিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করেন। ওয়াশিংটনে ফিরে তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বুধবার রাতে প্রকাশ করে সংস্থাটি।

ব্যাংক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উচ্চহারে বাড়ছে। ঋণের পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সংখ্যা বাড়ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজার ভালোভাবে কার্যকর হলে ব্যাংক খাত থেকে অর্থায়নের চাপ কমে যেত। সঞ্চয়পত্র নিয়ে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ। সঞ্চয়পত্রের দাম, মুনাফাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবকাঠামো খাতের উন্নতির জন্য রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। করজাল বৃদ্ধির পাশাপাশি কর প্রশাসনের সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে আইএমএফ। কর প্রশাসনকে আধুনিক করতে হবে। ছাড় কমিয়ে দিয়ে করভিত্তি বাড়াতে হবে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকে স্বাগত জানালেও অনেকগুলো ভ্যাট হার জটিলতা তৈরি করছে বলে মনে করে সংস্থাটি। একাধিক ভ্যাট হারের প্রয়োগ আরও সহজ করা উচিত, তাতে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

অর্থনীতির ঝুঁকি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাত সংস্কারে ধীরগতি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে এবং আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা কমে যাওয়ার কারণে রেমিটেন্স ও রফতানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করে আইএমএফ বলেছে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে হবে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত দেড় দশকে কিছুটা উন্নতি করেছে। তবে সরকারি উদ্যোগগুলো কার্যকারিতায় সামান্য পিছিয়েছে। আইনি মান সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মানে নেই বাংলাদেশ।

রফতানি বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা জোরদারের পরামর্শ দিয়ে আইএমএফ বলেছে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এর গুরুত্ব রয়েছে। ব্যবসা পরিবেশের উন্নতি, মানব পুঁজির উন্নয়ন এবং বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে আইএমএফ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×