যাদের ধরা হয়েছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী

এইচটি ইমাম

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ধরা পড়া সবাই এক সময় যুবদল, বিএনপি, জামায়াত অথবা শিবির করত বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। তিনি বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে যাদের ধরা হয়েছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী। আপনারা জানেন- আমাদের দলে দীর্ঘ দিন থেকে একটি দাবি উঠছিল যে, এই অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের ভয়ানক ক্ষতি করছে। তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। যেহেতু তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে ফেলেছি, তাই এতদিন তাদের পক্ষ হয়ে যারা কাজ করছিল সেই লোকগুলোও চিহ্নিত হয়ে গেছে। তাদের গাত্রদাহটা ওইখানেই।’ রোববার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভার আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এতদিন যারা মদদ দিয়েছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে এইচটি ইমাম বলেন, ‘এখন তো ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে তথ্য পাওয়া যাবে। সেই সমস্ত তথ্য নিয়ে বিচার করা হবে, কার কার কোথায় সম্পৃক্ততা আছে। আমাদের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও বলেছেন এবং আমাদের সাধারণ সম্পাদক বারবার বলেছেন যে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না; সে যে পর্যায়েরই হোক না কেন। অতএব এই যে আমাদের নীতি এখানে খুব পরিষ্কার। আমরা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা দলকে পরিচ্ছন্ন করতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে দেখেছি এবং অনেকেই বলেছেন- তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান; তিনি যে লন্ডনে আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন সেখানে নাকি তিনি তার ইনকামের একটি উৎস দেখিয়েছেন ক্যাসিনো থেকে আয়। এটা আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। অনেকেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।’ ‘অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে’- বিএনপির এমন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এই দাবি গত দশ বছর ধরে শুনে আসছি। আসলে তো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের ব্যর্থতার দায় নিয়ে বহু আগেই মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত ছিল।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকোর টাকা ধরা পড়েছে সিঙ্গাপুরে এবং তার পাচারকৃত ২০ কোটি টাকা বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে। বিএনপির অর্থমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে কালো টাকা সাদা করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন আজকে সাজা ভোগ করছেন কেন? এতিমের টাকা এসেছে এতিমখানার জন্য। সেই টাকা এতিমখানার জন্য ব্যয় না করে তিনি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছেন। সেই কারণে তিনি সাজা ভোগ করছেন।’

সরকারকে জুয়াড়ি সরকার বলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আয়নায় চেহারা দেখার পরামর্শ দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি ওনাকে বলব আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার জন্য। বাংলাদেশের ক্যাসিনো কালচার শুরু করেছিল কে? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মদ, জুয়া, হাউজি বন্ধ করেছিল। সেগুলো আবার চালু করেছিল জিয়াউর রহমান। মদ, জুয়া, হাউজিসহ উদাম নৃত্য- এগুলো জিয়াউর রহমানই চালু করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় যখন বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করেন, তখন কিন্তু এই ক্যাসিনো কালচার আবার ষোলোকলায় পূর্ণ করে। মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা এবং মোসাদ্দেক হোসেন ফালু- ওনারা বিভিন্ন ক্লাবের ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারাই এটা শুরু করেছিলেন।’ হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এগুলো সমূলে উৎপাটনের জন্য প্রধানমন্ত্রী অভিযান শুরু করেছেন। সেখানে কে কোন মতের, কে কোন পথের সেটি দেখা হচ্ছে না। আমি বরং মনে করি- বিএনপি মহাসচিবের উচিত সরকারকে সাধুবাদ জানানো।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব আরও একটি কথা বলেছেন, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে নাকি সাপ বেরিয়ে আসছে। ওনাদের যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উনি তো বড় অজগর সাপ। যেন সব গিলে খেয়ে ফেলে। কারণ তার নেতৃত্বেই তো হাওয়া ভবন করা হয়েছিল। হাওয়া ভবন খুলে সেখানে দশ ‘পারসেন্ট’ কমিশন বাণিজ্য করা হতো। খোয়াব ভবন খুলে সেখানে আমোদ-ফুর্তি করা হতো। সুতরাং বিএনপির তো এ নিয়ে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকারই নেই। যারা দেশটাকে পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন, উপকমিটির সদস্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, আনিস আহম্মেদ প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×