খোঁজখবর নিয়েই ক্লাবে অভিযান চালানো উচিত

হুইপ সামশুল হক

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানে ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সরকারদলীয় হুইপ ও ক্লাবের মহাসচিব সামশুল হক চৌধুরী এমপি। রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, কোনো ক্লাবে যদি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জুয়া বা ক্যাসিনো ব্যবসা চলে, তা নিশ্চিত হয়ে এবং খোঁজখবর নিয়েই অভিযান চালানো উচিত। ক্যাসিনো বা জুয়া চলে না অথচ ৪-৫ ঘণ্টা ক্লাব ঘিরে রেখে অভিযান পরিচালনা করা হল। তাতে ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

এদিকে মোহামেডান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীমও তাদের ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হুইপ আরও বলেন, চট্টগ্রামে আবাহনী, মোহামেডানসহ বেশকিছু ক্লাব আছে যেগুলো প্রিমিয়ার লীগে খেলে। এগুলো প্লেয়িং ক্লাব। নিজেদের অবসর সময় কাটাতে ক্লাবের মেম্বাররা চাঁদা দিয়ে নিজেরাই তাস খেললে, তা দোষের নয়। চট্টগ্রাম ক্লাব, সিনিয়র্স ক্লাব, প্রশাসন পরিচালিত ক্লাব, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবে তাস খেলা হয়। এটাকে জুয়া বলা যায় না। কারণ এখানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনায় ঢাকায় বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ায় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানান তিনি।

র‌্যাব হালিশহরে চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাব লিমিটেড, সদরঘাটে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আইসফ্যাক্টরি রোডে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ক্লাবে শনিবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে মোহামেডান ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে জুয়ার বোর্ড, ঘুঁটি, ডাব্বাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পেলেও আবাহনী ক্লাবে তাসের প্যাকেট ছাড়া কিছুই পায়নি র‌্যাব।

সামশুল হক চৌধুরী আরও বলেন, আবাহনী ক্লাবে অভিযানে তাসের প্যাকেট পাওয়া গেছে মাত্র। সেখানে তো ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর ছিল না। মাদক ছিল না। তাহলে অভিযান কেন?

ক্লাবের মেম্বাররা ২০০ টাকা চাঁদা দিয়ে তাস খেলে। সেই চাঁদার টাকায় ক্লাবের পরিচালনা ব্যয় বহন করা হয়। কোনো কোনো খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। ফুটবল ফেডারেশন বা অন্য কোনো সংস্থা তো ক্লাবকে টাকা দেয় না। এভাবে যদি অভিযান চালানো হয়, তাহলে লোকজন খেলাধুলা ছেড়ে চলে যাবে। ক্রীড়ার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম বলেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সদস্যরা ক্লাবে এসে বসে অবসর সময় কাটান। কার্ড খেলেন। ডোনেশন দেন। কার্ড খেলাকে যেভাবে প্রশাসন অবৈধ ও জুয়া বলছে, সেটা তারা মানতে পারছেন না। কারণ তাস খেলা ক্লাবের ব্যবসা না। এটা দীর্ঘদিন চলে আসছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকলে ভবিষ্যতে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে। ক্লাবে অভিযান চালিয়ে সরকারের মূল উদ্দেশ্যকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টিও ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×