সেমিনারে বক্তারা

বীমা খাতের উন্নয়নে অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধের তাগিদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের অর্থনীতির আকার অনুসারে বীমা কোম্পানি বেশি। ফলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এ প্রতিযোগিতার কারণেই গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা, দাবি পরিশোধ না করা এবং অনৈতিক কমিশন বাণিজ্য এ খাতকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। মূলকথা হল- বীমা খাত নিয়মের মধ্যে চলছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত বেপরোয়া। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বীমা খাতে অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বীমা খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি যৌথভাবে বীমাবিষয়ক এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, অনৈতিক চর্চা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আশা করছি ২০১৮ সালের মধ্যেই তা করা যাবে।

বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইডিআরএ’র সদস্য গকুল চাঁদ দাস, বোরহান উদ্দিন আহমেদ, বীমা ব্যক্তিত্ব ড. মোহাম্মাদ সোহরাব উদ্দিন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়েত উল ইসলাম, জীবন বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. শেলীনা আফরোজা, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তৌহিদ সামাদ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান বিএম ইউসূফ আলী, বিআইএ’র প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর রুবিনা হামিদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট একেএম মনিরুল হক এবং ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডির সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বলেন, উন্নত দেশগুলোয় ব্যাংকের চেয়ে বীমা খাতের আকার বড়। কিন্তু বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম। এখানে বীমা খাতের নাম শুনলে নেতিবাচক ধারণা আসে। তিনি বলেন, বীমা খাতে অনৈতিক কমিশন বাণিজ্য বড় সমস্যা। এ সমস্যা বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে উদ্যোক্তারা সম্মতি দিয়েছেন। এরপর আইডিআরএ উদ্যোগ নেবে। তিনি আরও বলেন, এ খাতের নীতিমালার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তার মতে, এ খাতের জন্য ৪০টি বিধিমালা করা দরকার। ইতিমধ্যে কয়েকটির কাজ চলছে। আগামী দিনে আরও ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া হবে।

গকুল চাঁদ দাস বলেন, কমিশন নিয়ে সমস্যার সমাধান না করলে নতুন পণ্য আনলে কোনো লাভ হবে না। সাধারণ ও জীবন বীমা দুই খাতেই এজেন্টদের কমিশন দেয়ার অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনেও দেশে বীমানীতি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি বেশ কিছু আইনের পরিবর্তন করা যেতে পারে।

শিবলী রুবাইয়েত উল ইসলাম বলেন, এ খাতের আস্থার অভাব রয়েছে। এর কারণ একই ব্যক্তির কাছে পলিসির জন্য সব কোম্পানির লোকেরাই যায়। কিন্তু কোনো নতুন পণ্য ডিজাইনের কোম্পানিগুলো গুরুত্ব দেয় না। কোম্পানিগুলোকে আইটি খাতে গুরুত্ব দিয়ে ই-পণ্য চালু করতে হবে। না হলে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং দেশের প্রচার রয়েছে। কিন্তু ইসলামী বীমা সে ক্ষেত্রে প্রচার নেই। এটা প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বীমা চালু করা জরুরি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্য বীমা চালু করতে পারলে তা জনপ্রিয়তা পাবে। এ ছাড়াও পুনঃবীমার প্রিমিয়ামের টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটা বন্ধ করা দরকার।

মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো নিয়মের মধ্যে চলছে না। ফলে এ খাতে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, ভারত এবং উন্নত দেশগুলোতে ব্যক্তির নামে কোম্পানির লাইসেন্স দেয়া হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যক্তির নামে লাইসেন্স দেয়। এরপর লাইসেন্স নিয়ে একটি কোম্পানি হাজার হাজার এজেন্ট ও জনবল নিয়োগ দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ইচ্ছামতো খরচ করে। এর কারণ হল কোম্পানিগুলোর হাতে বিশাল সময় থাকে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১২ বছরের জন্য বীমা পলিসি নেয়া হলে, ওই সময়ের আগে কোম্পানিগুলোকে টাকা পরিশোধ করতে হয় না। ফলে বেপরোয়াভাবে খরচ করে। কিন্তু পলিসির মেয়াদ শেষ হলে মুনাফাতো দূরের কথা কোম্পানিগুলো গ্রাহককে আসল টাকাও দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাতটি কোম্পানি বাদে বাকি সবই গ্রাহকের টাকা দিতে পারে না।

তিনি বলেন, বীমা কোম্পানিতে যে টাকা রয়েছে, তার ৯৫ শতাংশের বেশি সাধারণ গ্রাহকদের। কিন্তু টাকা খরচ করার সময় এদের কথা কেউ ভাবে না। তিনি আরও বলেন, দুই বছর পরপর কোম্পানিগুলো অডিট করানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সরকারের কাছে আবেদন করে এই অডিট বন্ধ রাখা হয়েছে। কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র আদেশও মানছে না। ওইসব কোম্পানি মনে করে, কেউ তাকে কিছু করতে পারবে না।

বিএম ইউসুফ আলী বলেন, বীমা কোম্পানির এমডি নিয়োগে সর্বনিু বয়স ৪০ সীমা রয়েছে। এটা আরও কমানোর পাশাপাশি বীমা সম্পর্কে প্রচারণা বাড়ানো দরকার।

মানিক চন্দ্র দে বলেন, আইন প্রণয়নে বড় সমস্যা হল একটি আইনের খসড়া করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরে অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেগুলো আইডিআরএ পাঠানোর পর স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অনেক সময় নষ্ট হয়। এতে সঠিক সময়ে সঠিক আইন করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

একেএম মনিরুল হক বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় এ খাতে বীমা কোম্পানি বেশি। ফলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এতে গ্রাহক ও কোম্পানি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বড় কোম্পানিগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.