চাঁদা না দেয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন

খুলনায় ৩ এসআইসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  খুলনা ব্যুরো ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনায় এক ব্যবসায়ীর কছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় পুলিশের তিন এসআইসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শিকদার লিটন (৩৬)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নিদের্শ দিয়েছেন। আসামিরা হলেন- খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই রহিত কুমার বিশ্বাস, এসআই সঞ্জয় কুমার দাশ ও এসআই আশিক, ওই ব্যবসায়ীর সাবেক কর্মচারী মেজবাহ উদ্দীন, ইসলাম শিকদার, ঈশা মিয়া ও আরিফা সুলতানা মুক্তা।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের একটি ভাড়া বাড়িতে স্ট্যান্ডার্ড বায়োনিউট্রিশন নামে একটি কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত বছর ডিসেম্বরে এসআই রহিত কুমার বিশ্বাস, এসআই সঞ্জয় কুমার দাশ ও এসআই আশিক তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ২৭ ডিসেম্বর তিনি তাদের ১০ হাজার টাকা দেন। বাকি ৯০ হাজার টাকা না দেয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন তিন এসআই। বাধ্য হয়ে ৩১ ডিসেম্বর তিনি কেএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিন পুলিশ সদস্য তাকে হুমকি দিতে থাকেন। ১৭ জানুয়ারি তার ছাঁটাইকৃত কর্মচারী মেজবাহ উদ্দীনের মা হাফিজা বেগমকে দিয়ে তিন এসআই তার বিরুদ্ধে মামলা করায়। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার স্ত্রীকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করে। আত্মীয়স্বজনদের মোবাইল ফোনে কল করেও টাকা দাবি করা হয়। রিমান্ড চলাকালে অত্যাচারে লিটন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরদিন লিটন ও তার স্ত্রীকে জেলহাজতে পাঠালে কারা কর্তৃপক্ষ পুনরায় তাকে খুমেক হাসপাতালে পাঠায়। পরে তিন এসআইসহ অন্য আসামিরা তার (লিটন শিকদার) বাসায় ব্যাপক লুটপাট চালায়। ঘরের আসবাবপত্রসহ ২০ লাখ টাকার বেশি মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। মামলার বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, রিমান্ডের নামে তাকে শারীরিকভাবে চরম নির্যাতন করা হয়েছে। বিদ্যুতের শকসহ বেধড়ক পেটানো হয়েছে।

বাদীর আইনজীবী শহিদুল ইসলাম জানান, মামলা হয়েছে সোমবার বিকালে। পুলিশের পক্ষ থেকে বাদীর সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চলছে। কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.