গণবিস্ফোরণে উৎখাত হবে সরকার

-মওদুদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার হটাতে ‘আরও কিছুদিন অপেক্ষায়’ রাজপথে আন্দোলনে গণবিস্ফোরণ ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। মঙ্গলবার ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক স্মরণসভায় তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন আর কতদিন। এতদিন তো সহ্য করেছি। আমাদের আরও কিছুদিন সহ্য করতে হবে। এমন একটি সময় আসবে যখন এ দেশের এই জালিম সরকারকে উৎখাত করার জন্য বা অপসারণ করবার জন্য গণবিস্ফোরণ ঘটবে বলে আমি মনে করি।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে বলে আমি মনে করি না। সুতরাং এর অবসান একমাত্র হতে পারে রাজপথে। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে, প্যারোলের মাধ্যমে নয়। এই মুক্তি আমাদের আনতে হবে। এটা এখন সময়ের ব্যাপার। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মরণে এই স্মরণসভা হয়। জোটের নেতাকর্মী এ সময় কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার, আবদুল হালিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, এনপিপির অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির মাহমুদ খান, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, এনডিপির আবু তাহের, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের ২০ দলীয় জোটসহ আরও বৃহত্তর ঐক্যজোট সৃষ্টি করতে হবে বাংলাদেশে। সব দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের আন্দোলন শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারি, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারি।

মওদুদ আহমদ বলেন, আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছে, সে চলে গেছে, জান্নাতবাসী হবে। সে একটা জিনিস প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশে ভিন্নমত যদি অবলম্বন করা হয় তাকে হত্যা পর্যন্ত করতে তারা কার্পণ্য করে না। এই যে মনোভাব, এই যে মাইন্ড সেটটা এটা হল ফ্যাসিস্ট মনোভাব। সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি, শুধু বুয়েটে নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের প্রত্যেকটি হলে ৫-৬টি করে টর্চার সেল আছে। এটা তো আগে আমরা জানতাম না। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সব বিশ্ববিদ্যালয়েই এ রকম টর্চার সেল আছে। আবরার হত্যাকাণ্ড যদি না ঘটত তাহলে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভবপর হতো না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলা হচ্ছে। এটাও কিন্তু আমাদের জন্য আত্মহত্যার শামিল। অনেকদিন পর শুনলাম, র‌্যাগিং। এটা আবার কী? র‌্যাগিংয়ের যে চিত্র, যে কাহিনী- এটা তো পতিতালয়েও এই ধরনের জঘন্য নোংরা ঘটনা ঘটে না। ছাত্ররাজনীতি নেই বলেই আজকে রাজনীতির নামে যে অপকর্ম সেটা বন্ধ করার জন্য ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হয় না। কারণ এ দেশের ছাত্ররা ইতিহাসের পাতায় প্রত্যেকটা পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং আগামী প্রজšে§ এই ছাত্ররা যে সময় পায় যে, যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার, সেই যৌবনের অধিকারী ছাত্ররা- এই বয়সটা তার প্রতিবাদী বয়স, তখনই সত্যটাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুলে ধরেন, কর্মজীবনে মানুষ ততটা পারে না। সুতরাং ছাত্ররাজনীতি বন্ধ- এটা একটা চক্রান্ত। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির পক্ষে দলের ভেতর একটি দালাল শ্রেণি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ভোটারবিহীন এই সরকার দেশের প্রতিটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের করায়ত্ত করে প্রত্যেক সেক্টরে নতুন নতুন সম্রাট জন্ম দিয়েছে। যেমন ক্যাসিনো সম্রাট, বিদ্যুৎ সম্রাট, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্রাট, সম্রাটের ভাই বাংলাদেশে এখন আর অভাব নাই। একটা ভোটারবিহীন বড় সম্রাট, তার অধীনে এই ছোট ছোট রাজ্য গড়ে ওঠায় অনেকে সম্রাটের জন্ম দিয়েছে। এই সম্রাটদের অন্যায়, অবিচার, নির্যাতন, মনুষ্যত্ববিহীন চিন্তাধারা ছাড়া আর কিছুই নাই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×