ঢাকা মহানগর দক্ষিণ: হাসনাত-মুরাদ দ্বন্দ্ব তুঙ্গে

কেন্দ্র ঘোষিত বর্ধিত সভায় আপত্তি সাধারণ সম্পাদকের, নির্বাহী কমিটির বৈঠক হলে বয়কট করবেন সভাপতি!

  রেজাউল করিম প্লাবন ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাসনাত-মুরাদ

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অনির্ধারিত বৈঠকে পুরনো এই দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নির্ধারিত আগামী ২৪ অক্টোবর মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত সভা করা, না করা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপে জানা যায়, আসন্ন সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে ২৩ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও ২৪ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণকে বর্ধিত সভা করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ফোনে দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এই নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত।

উত্তরে কেন্দ্রের নির্দেশিত বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হলেও দক্ষিণে আপত্তি জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। এতে একমত হতে পারছেন না সভাপতি আবুল হাসনাত। তিনি বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র বলেছে বর্ধিত সভা করতে। অথচ তিনি (মুরাদ) বর্ধিত সভা করবেন না। আমাকে অবহিত না করেই নির্ধারিত দিনে কার্যনির্বাহী সভা করতে চিঠি ইস্যু করে সবাইকে ধরিয়ে দিয়েছেন। আমি বলেছি, বর্ধিত সভা হবে।

অন্যথায় সেদিনের বৈঠকে আসা সম্ভব না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে উভয় সংগঠনকে (উত্তর-দক্ষিণ) বর্ধিত সভা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সভা করে বর্ধিত সভা করতে চাইছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। বৃহস্পতিবারের অনির্ধারিত বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বর্ধিত সভা করে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

কিন্তু সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ একক সিদ্ধান্তে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করতে চাইছে। বর্ধিত সভা ছেড়ে কার্যনির্বাহী সভা কেন?- এমন প্রশ্নে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সংগঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। এই ধরুন, কেন্দ্র থেকে যে সম্মেলনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার জন্য প্রস্তুত না থাকলে সেটি কেন্দ্রে জানানোর সিদ্ধান্ত নির্বাহী কমিটির।

কারও অপকর্ম কিংবা জনপ্রিয়তার প্রমাণপত্র কিন্তু নির্বাহী কমিটির বৈঠকের রেজ্যুলেশন। এটিকে ইচ্ছামত বানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করার ইচ্ছা থাকতে পারে কারও। মহানগরের সম্মেলন বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিতেও কার্যনির্বাহী কমিটির সভা হতে পারে। সে হিসেবে বর্ধিত সভা ছেড়ে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা হতে পারে।

মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের মহানগর কমিটির ঘোষণা পরপরই সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সম্পর্কে চিড়ধরে। ওয়ার্ড, থানা কমিটি গঠন ও দলীয় কর্মসূচিতে সভাপতি অনুমতি না নেয়ার অভিযোগ শুরু থেকেই। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংগঠনটির অনির্ধারিত বৈঠকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×