সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী

ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে অন্যথায় ব্যাংকের ব্যবসা বন্ধ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যাংক ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে, অন্যথায় তাদের (ব্যাংক মালিক) ব্যাংকের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে আরও স্পষ্ট করে বলেন, দুঃখের বিষয় হল- গত বছরেই তারা (ব্যাংক মালিক) ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। এজন্য তারা সরকারের কাছে কিছু শর্ত ও চাহিদা দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তা পূরণ করেছেন। এর মধ্যে অনেকেই সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করেছে। আবার কেউ কেউ করেনি। যারা করেনি তাদেরকেও আসতে হবে, না হলে তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান। তারা ব্যবসা করলে লাভ করবে-কেউ কম, কেউ বেশি করবে। কিন্তু রেট সবার এক হতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, টাকা আদায় করতে আমি কাউকে (ঋণখেলাপি) জেলে পাঠাতে চাই না। এজন্য খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে অনেকেই ধারণা করছেন যে, ভালো-মন্দ এক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভালো-মন্দ কখনও এক হবে না। যারা দুই শতাংশ টাকা দেবে, তারা আবার ব্যবসা করতে পারবে না। ব্যবসা করতে হলে তাদের আবার কিছু ডিপোজিট দিতে হবে। আর যারা ভালো ঋণগ্রহীতা তাদের ব্যবসা করার জন্য কোনো অতিরিক্ত ডিপোজিট লাগবে না। এক্ষেত্রে খেলাপিদের দায়বদ্ধতা আছে। তবে সবাই যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে তাহলে সবাই ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ ২ শতাংশ কোনো বিষয় না। ২ শতাংশের শর্ত মেনেই তারা ঐকমত্য পোষণ করবে যে, তারা আমাদের সঙ্গে আছে। ঋণখেলাপিরা এই শর্ত পূরণ করার জন্য এগিয়ে আসবে। আমরা এক্ষেত্রে একটি কাজ করতে চাচ্ছি, সেটা হল, কাউকে জেলে না পাঠিয়ে টাকা আদায়। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে তাদের সবাইকে টাকা ফেরত দিতে হবে। যেভাবেই হোক এ টাকা আমরা আদায় করবই। এগুলো রাষ্ট্রের সব মানুষের টাকা। তবে আমরা সময়টা একটু বাড়িয়ে দিয়েছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কপি যখন আসবে, তখন আমরা সেটি কার্যকর করব। কার্যকর করতে গেলে আমাদেরও সবাইকে একটু সময় দিতে হবে। রায়ে কিছু পরিবর্তন হবে। আমাদের কিছু বাড়তি চাহিদা আছে। আগে রায়ের কপি আসুক। এর আগে কিছু বলা ঠিক হবে না। বেশি পরিবর্তন হবে না, মোটামুটি ঠিক থাকবে। কোর্ট আর আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। আমরা একই পক্ষ। আমরা যে কাজটি করতে যাচ্ছি, সেটি দেশের মানুষের জন্য, জনকল্যাণের জন্য। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব আইন আমরা করতে যাচ্ছি। এখানে অনেক ইস্যু রয়েছে, তা একত্র করে ব্যাংকিং খাতকে দাঁড় করানোটাই হল আমাদের উদ্দেশ্য। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথাবার্তা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংক ঋণে সুদের হার ১০ এর ওপরে যাবে না। এটা ৯ দশমিক ৭৫ হবে। অর্থাৎ সিঙ্গেল ডিজিট হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ও বাজেটে সেটা উল্লেখ আছে। যাই হোক, আমরা ব্যাংক ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ আদায় করব। এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে ব্যাংক, ঋণগ্রহীতা, সরকার ও দেশের মানুষ না ঠকে। এক্ষেত্রে একটি বিরাট কর্মযজ্ঞে সবাইকে সম্পৃক্ত করে এ কাজটি করতে হবে। ব্যাংকগুলো এখনও কোনো ‘কম্পাউন্ড’ সুদের হার করতে পারেনি-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখানে আমরা এখন পর্যন্ত কিছু করতে পারিনি। তবে ব্যাংকগুলো করবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কম্পাউন্ড’ সুদের হার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানবে না- এমন কোনো ব্যাংকের অস্তিত্ব বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। যদি না মানে, সেজন্য আমরা আইনে পরিবর্তন নিয়ে আসছি। প্রয়োজনে মার্জার করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত মানবে না, এটা হতেই পারে না। তবে যারা মানবে তাদেরকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। এজন্য যে সুযোগ-সুবিধাগুলো আছে তা দিয়ে সহযোগিতা করব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানে আসতে এ দেশের মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। আমাদের তাঁতি, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, কামার, কুমার, জেলে, সাংবাদিক সবারই অবদান রয়েছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা সৌভাগ্যবান, কারণ সুন্দর সময়ের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার রাস্তাগুলো হচ্ছে সংস্কার। বিভিন্ন খাতে আমাদের সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে, যেমন: পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত, নন-ব্যাংকিং খাত, এনবিআর, শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে সংস্কার লাগবে। আমরা যদি সংস্কার না আনি তাহলে পিছিয়ে থাকব। অন্যান্য দেশ এসব কাজ ২৫ বছর আগে করেছে। আমরা কিছুতেই কোনো জায়গায় হাত দিতে পারিনি।

ব্যাংক কমিশনের বিষয়ে কী ভাবা হচ্ছে-জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কমিশন যে আমরা করব সেটা বাজেটেও বলেছি। সুতরাং আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনেই ব্যাংক কমিশন করব। শিগগিরই করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×