মোল্লাবস্তিতে আগুন

‘ঘরের আগুন নিভলেও বুকের আগুন নেভেনি’

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগুন

রাজধানীর পল্লবীর মোল্লাবস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে গ্যাসের চুলা, বৈদ্যুতিক এটি বা অন্য কোনো কারণ আছে কিনা সে বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ও এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রধান দেবাশীষ বর্ধন মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও নিরূপন করা যায়নি। বস্তিতে ৪ হাজারের বেশি ঘর ছিল (স্থানীয়দের মতে, ৮ হাজারের বেশি)। সোমবার ভোরের আগুনে সব পুড়ে গেছে। বাসিন্দাদের জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে।

বস্তিঘরে নানা ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার পোড়া বস্তিতে গিয়ে ঝুট কাপড়, প্লাস্টিক ও তৈজসপত্রের উৎকট পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। সর্বস্ব হারানো অনেককে কিছু পাওয়ার আশায় ভস্ম নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। অনেককে আবার নিষ্পলক দৃষ্টিতে শূন্যে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।

সব হারানোদের মধ্যে বরিশালের রিয়াজ উদ্দিন একজন। আলাপকালে তিনি বলেন, বস্তিতে তার তিনটি ঘর ছিল। জায়গা ভাড়া নিয়ে ঘর করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন। তিনটি ঘরে তার প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল ছিল। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হওয়ায় সেখানে বেশ কয়েকটি ফ্যান ছিল। তিনি কিছুই বের করতে পারেননি।

গৃহবধূ আলেয়া বেগম হাউমাউ করে কান্না করতে করতে বলছিলেন, ‘আগুনতো নিভে নাই, বাবা আগুন নিভে নাই। ঘরে লাগা আগুন নিভলেও বুকের ভেতর আগুন দাউ দাউ কইরা জ্বলতাছে। আমি ৪ বছরে ২ লাখ ট্যাকা জমাইছিলাম, মাইয়া বিয়া দিমু। ট্যাকা ঘরেই রাখছিলাম। ট্যাকা শেষ ট্যাকা অহন ছাই।’

আলেয়ার স্বামী একজন দিনমজুর। তার চার মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে সালমার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। আগুন ঘরের কাছে আসার পর ঘুম ভাঙে। তাই জীবন নিয়ে কোনোরকমে বেরিয়েছেন। ঘর থেকে একটা সুতাও বের করতে পারেননি বলে জানালেন।

গৃহবধূ শেফালি জানান, ৬ জনের সংসার তাদের। মঙ্গলবার দুপুরে এমপি ইলিয়াস মোল্লা খিচুড়ি পাঠিয়েছেন। সর্বস্ব হারানো অর্ধেক মানুষ খিচুড়ি পাননি। বাইরে থেকে লোকজন এসে মারধর করে খিচুড়ি লুট করে নিয়ে যায়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

 

mans-world

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
close
close
.