মধ্যরাতে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কারাদণ্ড
jugantor
মধ্যরাতে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কারাদণ্ড
বিএফইউজে ও ডিইউজের প্রতিবাদ: মধ্যরাতে তুলে নেয়া বেআইনি -টিআইবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ও কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

১৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যরাতে কুড়িগ্রামে বাড়ি থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, প্রশাসন থেকে বলা হয়- টাস্কফোর্সের মাদকবিরোধী অভিযানে গভীর রাতে শহরের চড়ুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে রিগ্যানকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৪৫০ এমএল দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ, আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে রিগ্যান দোষ স্বীকার করায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে রিগ্যানকে আটক ও সাজা দেয়ার ঘটনাটি আইনসঙ্গত হয়েছে কি-না তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব) মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন ও সাক্ষ্য নেন। অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ কয়েকজনের সাক্ষ্যও তিনি নিয়েছেন।

রিগ্যানকে আটক করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। শনিবার দুপুরে শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব, সাংবাদিক রাজু মোস্তাফিজ, হুমায়ুন কবির সূর্য, ছানালাল বকসী, শ্যামল ভৌমিক, দুলাল বোস প্রমুখ।

সাংবাদিক নির্যাতনে বিএফইউজে ও ডিইউজের প্রতিবাদ : দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলা-মামলা ও হয়রানি নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল ও মহাসচিব শাবান মাহমুদ এবং ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এক যৌথ বিবৃতিতে শনিবার এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও রিপোর্টার আল-আমীনের মামলা সাংবাদিক সমাজের কাছে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকাশিত রিপোর্টে কারও নাম না থাকলেও সম্পাদক ও রিপোর্টারের বিরুদ্ধে মামলা বাকস্বাধীনতা তথা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। এছাড়া বেশ কয়েক দিন ধরে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ থাকলেও তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য না পাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাংবাদিক সমাজ। সর্বশেষ কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের দ্বন্দ্ব তৈরি করার অপচেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো। এসব ঘটনার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বারবার ব্যাহত করার চক্রান্তে ব্যস্ত নানা চিহ্নিত মহল। নেতারা এ ধরনের অপচেষ্টাকারীদের সতর্ক করে দিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দাবি করেন। নতুন চিহ্নিত এ মহলের মুখোশ উন্মোচনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মধ্যরাতে সাংবাদিককে তুলে আনা বেআইনি- টিআইবি : মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে কারাদণ্ড দেয়া বেআইনি বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনের এমন যথেচ্ছ অপপ্রয়োগ আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ধরনের কাজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রশাসন তথা সরকারের ওপরই জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। তিনি বলেন, দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। সে অনুযায়ী রাতের বেলা কোনো নাগরিককে বাড়ি থেকে তুলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করাটা অবৈধ।

মধ্যরাতে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কারাদণ্ড

বিএফইউজে ও ডিইউজের প্রতিবাদ: মধ্যরাতে তুলে নেয়া বেআইনি -টিআইবি
 যুগান্তর রিপোর্ট ও কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
১৫ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যরাতে কুড়িগ্রামে বাড়ি থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, প্রশাসন থেকে বলা হয়- টাস্কফোর্সের মাদকবিরোধী অভিযানে গভীর রাতে শহরের চড়ুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে রিগ্যানকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৪৫০ এমএল দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ, আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে রিগ্যান দোষ স্বীকার করায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে রিগ্যানকে আটক ও সাজা দেয়ার ঘটনাটি আইনসঙ্গত হয়েছে কি-না তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব) মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন ও সাক্ষ্য নেন। অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ কয়েকজনের সাক্ষ্যও তিনি নিয়েছেন।

রিগ্যানকে আটক করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। শনিবার দুপুরে শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব, সাংবাদিক রাজু মোস্তাফিজ, হুমায়ুন কবির সূর্য, ছানালাল বকসী, শ্যামল ভৌমিক, দুলাল বোস প্রমুখ।

সাংবাদিক নির্যাতনে বিএফইউজে ও ডিইউজের প্রতিবাদ : দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলা-মামলা ও হয়রানি নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল ও মহাসচিব শাবান মাহমুদ এবং ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এক যৌথ বিবৃতিতে শনিবার এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও রিপোর্টার আল-আমীনের মামলা সাংবাদিক সমাজের কাছে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকাশিত রিপোর্টে কারও নাম না থাকলেও সম্পাদক ও রিপোর্টারের বিরুদ্ধে মামলা বাকস্বাধীনতা তথা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। এছাড়া বেশ কয়েক দিন ধরে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ থাকলেও তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য না পাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাংবাদিক সমাজ। সর্বশেষ কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের দ্বন্দ্ব তৈরি করার অপচেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো। এসব ঘটনার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বারবার ব্যাহত করার চক্রান্তে ব্যস্ত নানা চিহ্নিত মহল। নেতারা এ ধরনের অপচেষ্টাকারীদের সতর্ক করে দিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দাবি করেন। নতুন চিহ্নিত এ মহলের মুখোশ উন্মোচনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মধ্যরাতে সাংবাদিককে তুলে আনা বেআইনি- টিআইবি : মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে কারাদণ্ড দেয়া বেআইনি বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনের এমন যথেচ্ছ অপপ্রয়োগ আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ধরনের কাজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রশাসন তথা সরকারের ওপরই জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। তিনি বলেন, দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। সে অনুযায়ী রাতের বেলা কোনো নাগরিককে বাড়ি থেকে তুলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করাটা অবৈধ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : কুড়িগ্রাম ডিসি সুলতানার কাণ্ড