কালাচাঁদপুরে গারো মা-মেয়ে খুন

খাটের ওপরে মেয়ের লাশ নিচে মায়ের

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি বাসায় গারো সম্প্রদায়ের দুই নারীকে খুন করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- বেসেথ চিরান (৬৫) ও তার মেয়ে সুজাত চিরান (৪২)। তারা সম্পর্কে মা-মেয়ে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে।

জানা যায়, খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর গুলশান থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা সুজাতকে খাটের ওপর গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পায়। আর সুজাতের মা বেসেথ চিরানকে পায় খাটের নিচে। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কারণে তাদের দু’জনকে খুন করা হয়েছে। সুজাতের বোনের ছেলে সঞ্জিত ও তার বন্ধুরা খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। রাত ১টার দিকে নিহত দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সুজাতের স্বামীর নাম আশীষ মানকিন। তাদের তিন মেয়ে- মায়াবী চিরান, মাধবী চিরান ও সুরভী চিরান। তাদের মধ্যে মায়াবীর বিয়ে হয়েছে। তার স্বামীর নাম পেলেস্তা। তারা সবাই কালাচাঁদপুরের ক-৫৮/২ নম্বর বাসার চতুর্থ তলায় থাকতেন। ঘটনার সময় সুজাত ও তার মা বেসেথ ছাড়া বাসায় কেউ ছিলেন না। দুপুরে সঞ্জিত ২-৩ জন বন্ধু নিয়ে বাসায় এসেছিল। তখন সুজাতের দুই মেয়েও বাসায় ছিলেন। দুপুরের পর তারা কাজে যাওয়ার সময় সঞ্জিত ও তার বন্ধুরা বাসায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে তারাই দু’জনকে হত্যা করে পালিয়েছে। ওই বাড়ির মূল ফটকে একটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশ সেই ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে।

গুলশান থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুজাতের মেয়ে মায়াবীর স্বামী পেলেস্তা বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ছিটকিনি খুলে ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, সুজাতের গলাকাটা লাশ খাটের ওপর পড়ে আছে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশও যায়। তখনও তারা জানেন না, খাটের নিচে সুজাতের মা বেসেথের লাশ রয়েছে। এক ঘণ্টা পর তারা খাটের নিচে বেসেথের লাশ দেখতে পান। সুজাতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর বেসেথকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, দু’জনের শরীরেই একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে বলা যাবে এর পেছনের কারণ কী এবং কারা হত্যা করেছে। এদিকে আশপাশের একাধিক প্রতিবেশী জানান, ওই বাসায় কয়েকদিন ধরেই খুব উচ্চৈঃস্বরে ঝগড়া হতো। তবে কী কারণে ঝগড়া হতো তা জানাতে পারেননি তারা।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.