ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীতে খুলেছে মার্কেট-দোকান

  মোয়াজ্জেম হোসেন নাননু ১৫ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে সীমিত আকারে কিছু মার্কেট ও বিপণিবিতান খুলেছে। কিছু মার্কেটে করোনা সংক্রমণ রোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তবে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ছোটখাটো বিপণি বিতানগুলোতে কিছু ক্রেতার দেখা মিললেও নগরীর মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি নগরবাসী কেনাকাটায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়া হাতে নগদ টাকা না থাকায় বেশিরভাগ মানুষ এখনও মার্কেটমুখী হননি। আর এ কারণে এ বছর ঈদে বেচাকেনা নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা। তবে আগামী সপ্তাহ নাগাদ মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা বাড়তে পারে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে গত সপ্তাহে সীমিত আকারে মার্কেট ও শপিংমল খোলার বিষয়ে ঘোষণা দেয় সরকার। তবে সরকারি ঘোষণার পরও রাজধানীর বড় বড় শপিংমল না খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনের সময় ঢাকার পল্টনে গাজী সুপার মার্কেটসহ আশপাশের অভিজাত কয়েকটি মার্কেট খোলা দেখতে পাওয়া যায়। এসব মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানেই চোখে পড়েছে স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা। মার্কেটের প্রবেশমুখে জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক মার্কেটে তাপমাত্রা মেপে ক্রেতাদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনের সময় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তান, পল্টনসহ মিরপুর-১, ২, ১০, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকায় ছোটখাটো মার্কেট ও পাড়া-মহল্লার দোকানপাট খোলা দেখা গেছে। তবে এসব মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই কম। যারাও বা আসছেন দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। এসব মার্কেট ও বিপণিবিতানের বেশ কয়েকজন দোকানি যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ঈদ মৌসুমে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় তারা হতাশ। এসব মার্কেট ও বিপণিবিতানের বেশ কয়েক ব্যবসায়ী যুগান্তরকে বলেছেন, ঈদ মৌসুমে প্রতিবছর এ সময়ে ক্রেতাদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা থাকে না। সারা বছরের অর্ধেকের বেশি পণ্যসামগ্রী বিক্রি হয় ঈদ বাজারে। এবার করোনার কারণে সেই ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আগামী সপ্তাহে ক্রেতাসমাগম কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, চারদিন ধরে মার্কেট ও শপিংমলগুলো খুলে দেয়া হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই কম। বেচাকেনা নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, শুধু মানবিক কারণে ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মার্কেট ও শপিংমল খুলে দেয়ার ব্যাপারে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সরকার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীদের সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে রাজধানীর শপিংমল ও বিপণিবিতান খোলার অনুমতি দেয় সরকার। তবে করোনা মোকাবেলা ও সংক্রমণ রোধে ঈদের আগে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ আছে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার সব পাইকারি মার্কেট, নিউমার্কেট, মৌচাক ও আনারকলি মার্কেট। নিউমার্কেটের পাশাপাশি গাউছিয়া, চাঁদনী চক, হকার্স মার্কেট ও চন্দ্রিমা মার্কেটও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এসব মার্কেটের দোকান মালিক সমিতি।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত