করোনায় বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা

এত প্রচার, তারপরও সচেতনতার ঘাটতি

রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলায় ছুটছে মানুষ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। করোনা প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি নানা নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এর পরও অনেকের মধ্যে সচেতনতাবোধ লক্ষ করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তারা অহেতুক রাস্থায় বের হচ্ছেন। বের হওয়া অনেকে মাস্কও ব্যবহার করছেন না। যত্রতত্র থুথু ফেলছেন। হাঁচি দিচ্ছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক, শ্রমিক ও ভিক্ষকদের মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে রাজধানীর সড়কে আগের চেয়ে বেড়েছে যানবাহন। গণপরিবহনের ওপর লকডাউন থাকলেও ভাড়ায়চালিত সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাও বেড়েছে। শুধু তাই নয়, এসব গণপরিবহনে চড়ে শত শত মানুষকে দূরপাল্লার রুটে চলতে দেখা গেছে। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এদিন গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল থেকে শত শত মানুষ বিভিন্ন জেলায় গেছেন। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভাড়ায়চালিত সিএনজি অটোরিকশা, টেম্পো ও মোটরসাইকেলে চড়ে দূরপাল্লার রুটে যাত্রা করেন তারা। এভাবে অন্যান্য টার্মিনাল থেকেও মানুষ দূরপাল্লার রুটে রওনা হন। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। যাত্রীরা গাদাগাদি ছোট ছোট গণপরিবহরে বসেন। আর এই সুযোগে তাদের কাছে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেন পরিবহন মালিকরা। যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই দেখা গেছে ১০-১২টি মোটরসাইকেল। এসব মোটরসাইকেলের চালকরা জোরে জোরে যাত্রীদের ডাকছিলেন।

আজমত উল্লাহ নামের একজন চালক জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে তিনি উবার ও পাঠাওয়ের অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালাতেন। এখন এসব অ্যাপ বন্ধ থাকায় নিজে ডেকেই যাত্রী তুলছেন। একই তথ্য জানান আরও কয়েকজন চালক।

এসব মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে মাদারীপুরের যাত্রী মো. রুবেল বলেন, সাধারণ সময়ে বাসে ৭০-৮০ টাকায় মাওয়া যেতাম। এখন বাস বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়ায় ৩০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি মোটরসাইকেলে চালক ছাড়াও দু’জন যাত্রী বহন করা হয়। তাদের হাতে ব্যাগও থাকে। অনেক সময় হেলমেটও দেয়া হয় না। ঢাকায় কাজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।

শরীয়তপুরের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যত সমস্যা ঢাকাতেই। এলাকায় (শরীয়তপুরে) সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলাচল করে। কোনোমতে কষ্ট করে মাওয়া পর্যন্ত যেতে পারলেই হলো। মাওয়াতে ফেরি চলাচল করে। পদ্মার ওপারে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলে। সেগুলোতে চড়েই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে এভাবে চলাচল কতটা নিরাপদ- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। কতজনকে করোনা ধরেছে- পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।’

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত