সাংবাদিকদের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

অফিসে একসঙ্গে ২৫ শতাংশের বেশি লোকবল নয়

১৫ দিন ইস্যু হবে না দর্শনার্থী পাস

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ২৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী একসঙ্গে অফিস করতে পারবেন না। তাদের চার ভাগ করে পর্যায়ক্রমে অফিস করতে হবে। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিন সচিবালয়ে প্রবেশে দর্শনার্থী পাস ইস্যু হবে না।

সচিবালয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অফিস খুলে দেয়া হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সরকারি দফতরগুলোয় একসঙ্গে ২৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে অবস্থান করতে নিষেধ করা হচ্ছে। কর্মকর্তা- কর্মচারীরা যেন কোনোভাবেই সংক্রমিত না হন, সেটি আমাদের প্রথম লক্ষ্য। সে জন্য ন্যূনতম সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করব। আর ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা ঘরে বসে ভার্চুয়ালি অফিস করতে পারবেন। তার মানে একসঙ্গে ৫০ শতাংশ কর্মকর্তা সব সময়ই কানেকটেড থাকছেন।

ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা নিষেধাজ্ঞাসহ স্বল্পপরিসরের সরকারি অফিস খুলেছি। অনেক বেসরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। আমাদের ১৮টি মন্ত্রণালয় স্বল্পপরিসরে এতদিন চালু ছিল। রোববার প্রথম দিন আমরা সচিবালয়ে যে চিত্র দেখেছি অধিকাংশ মন্ত্রণালয়, যেভাবে আমরা বলেছি যে, বয়স্ক কর্মকর্তারা আসবেন না, অসুস্থ এবং সন্তানসম্ভবা নারী কর্মকর্তারা আসবেন না, সেটা আমরা মেইনটেন করেছি। দর্শনার্থী যাতে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে না পারে, এ জন্য এই ১৫ দিনে কোনো পাস ইস্যু করা হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, অত্যাবশ্যকীয় যে কাজগুলো আছে, এখন আমরা সেই কাজগুলো করতে চাই। সে ক্ষেত্রে চার ভাগের এক ভাগ (২৫ শতাংশ) বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। যারা অসুস্থ আছেন, তারা ঘরে বসে কাজ করবেন তারা অফিসে আসবেন না, এভাবে আমরা সাজিয়েছি। যাতে কেউ এখানে ইনফেক্টেড না হন। যারা একটু দূরে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকে আমরা তাদের শনাক্ত করেছি। আমরা লক্ষ করেছি কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে কোনো কোনো কর্মকর্তার প্রয়োজন ছিল না, তারপরও তারা এসেছে। তাদের কোনো কাজ ছিল না। তাদের কাছে বার্তা ঠিকমতো পৌঁছায়নি। করোনার সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ অবস্থায় আছে জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের কাজগুলো করতে হবে। প্রথম দিন আমাদের অবজারভেশনে কিছু ত্রুটি পেয়েছি। এই ১৫ দিনে আমরা ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর বেসিসে’ কাজ করব। আজ যে ভুলগুলো হয়েছে কাল যাতে সেই ভুলগুলো না হয়, সেটাই আমরা করতে চাই।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকাল ৯টায় অফিসে এসে কেউ যদি দুই ঘণ্টায় কাজ শেষ করতে পারেন, তাহলে কাজ শেষেই তিনি চলে যাবেন। বিকাল ৫টায় অফিস ছুটির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে না। কেউ বেলা ১১টায় অফিস থেকে চলে গেলে ওই দফতরে তার জায়গায় অন্য কেউ অফিসে আসতে পারবেন। অফিসে কোনো কারণে যদি ২৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তার উপস্থিতির প্রয়োজন হয়, তাহলে কী করতে হবে সেই নির্দেশনাও দিয়ে তিনি বলেন, যদি আরও বেশি কর্মকর্তার অফিসে উপস্থিতির প্রয়োজন হয়, তাহলে সকাল ৯টায় যারা অফিসে আসবেন তারা কাজ শেষে চলে যাওয়ার পর অন্যরা অফিসে আসতে পারবেন।

ওদিকে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কক্ষেই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অফিস করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কিছু রুমে গাদাগাদি করে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে সচিবালয়ের টয়লেটগুলোয় সাবান-পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেখা যায়নি। তবে ওয়াশরুমে গমনকারী কর্মচারীদের হাতে সাবান ও স্যানিটাইজার দেখা গেছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত