নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সংলাপে বক্তারা

প্রশাসনে সমন্বয়হীনতার সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন কাজে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনে অনেক সিদ্ধান্ত অস্পষ্ট। কার কথা শুনছে, সেটিও বোঝা যাচ্ছে না। চিকিৎসা সংক্রান্ত কেনাকাটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কুক্ষিগত রাখা হচ্ছে। শুরুতে টেস্টের বিষয়টি শুধু আইইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র) মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। আর বর্তমানে সরকারের ক্যাবিনেট ডিভিশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতর থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা আসছে। এগুলোর মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা দেখা যায়। ফলে কোনটি চূড়ান্ত সে ব্যাপারে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ অবস্থায় পরিস্থিতির উত্তরণে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে সোমবার দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা এসব মতামত দেন। সংলাপের বিষয় ছিল সাধারণ ছুটি-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ সময় বক্তারা লকডাউন আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো এবং র‌্যাপিড টেস্টিং চালু করার পক্ষে মত দেন। সংলাপে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ড. খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের উপদেষ্টা ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী, সরকারের করোনা বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য ও হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা ডা. আবু জামিল ফয়সাল, আইসিডিডিআরবি’র মিউকোসাল ইমিউনোলজি এবং ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান ডা. ফেরদৌসী কাদরি, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. দিবালোক সিংহ, ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ডা. মোরশেদা চৌধুরী, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এমএইচ চৌধুরী লেলিন এবং ডেভরেজোন্যান্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ নাজমি সাবিনা।

ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, মহামারীর ইংরেজি হল পেনডামিক। শব্দটির শুরুতে পি এবং সি। এই পি দিয়ে পলিসি বা নীতিনির্ধারণী এবং সি-তে করোনা বিবেচনা করি। এখানে শুধু সমন্বয়ের অভাব বলা ঠিক হবে না। কারণ আমি এখানে কাজ করেছি, কোনোভাবেই সমন্বয় করা যায় না। ক্যাবিনেট ডিভিশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদা পলিসি দিচ্ছে। এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে সরকার সবকিছু চালু করেছে। কিন্তু এখানে করোনা ট্রান্সমিশন রোধে কী করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।

ডা. এমএইচ চৌধুরী লেলিন বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে ২ লাখ ৭০ হাজার বেড রয়েছে। আর ডাক্তার রয়েছে ৯০ হাজারের মতো। হাসপাতালের বেডের এক-তৃতীয়াংশ সরকারি এবং বাকিগুলো বেসরকারি খাতে। আর ডাক্তারদের মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ হাজার সরকারি এবং বাকিরা বেসরকারি খাতে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম করোনা মোকাবেলায় সরকারের পরিকল্পনা সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রিক। অর্থাৎ পুরো স্বাস্থ্যসেবার দুই-তৃতীয়াংশকেই বাদ রাখা হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও কোভিড এবং নন-কোভিড আলাদা করা হয়েছে। ফলে নন-কোভিড হাসপাতালগুলো করোনা রোগী নিচ্ছে না। অন্যদিকে শুরুতে করোনা টেস্টকে আইইডিসিআরে কুক্ষিগত করা হয়। এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হল, টেস্টের জন্য সিরিয়াল পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার পাওয়ার চেয়েও দুর্লভ হয়ে গেল। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা হোক। তার মতে, নিয়তির হাতে মানুষকে না ছেড়ে লকডাউন আরও ১৫ দিন বাড়ানো হোক। আরটিপিসিআর টেস্টের পাশাপাশি র‌্যাপিড টেস্ট চালু করা উচিত; যার মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করা যাবে।

এছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য কোর গ্রুপ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত