মানব পাচারকারী চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ৩

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভিয়েতনাম থেকে সম্প্রতি ১১ বাংলাদেশি অভিবাসী দেশে ফিরেছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অনুসন্ধানের পর বুধবার রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকা হতে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিয়েতনামে পাঠানো পাচার চক্রের মূল হোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় জব্দ করা হয় বিভিন্ন নামীয় ২৫৪টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হল- মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা জামাল উদ্দিন সোহাগ (৩৪), মো. কামাল হোসেন (৩৯) ও মো. জামাল হোসেন (৩৭)। বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল রকিবুল হাসান। তিনি বলেন, ৩ জুলাই বিশেষ ফ্লাইট নং-ভিজে ৬৯৫৮তে ভিয়েতনাম থেকে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসী ফেরেন। এছাড়া আরও ২৭ অভিবাসী ভিয়েতনামে আটকাবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ভিয়েতনাম ফেরত ১১ জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সঙ্গে মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস, দ্য জেকে ওভারসিস লিমিটেড, অ্যাডভেন্ট ওভারসিস লিমিটেড, মেসার্স সন্ধানী ওভারসিস লিমিটেড এবং আল নোমান হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডসহ স্থানীয় দালাল ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশি দালাল আবদুল জব্বার, মোস্তফা, গোলাম আজম সুমন, কল্পনা, আজমির, মিলন, শোভন ও আতিকের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ এর একটি বিশেষ দল মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস ও দ্য জেকে ওভারসিস লিমিটেড ওই তিন মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতাররা একাধিকবার ভিয়েতনামে গিয়ে সেখানকার দালালদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে ভিয়েতনামের দালালরা জানায়, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের ভিয়েতনামে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এরপর উল্লিখিত এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের সাধারণ লোকজনকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ভিয়েতনামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আয় করা সম্ভব বলে প্রলোভন দেখায়।

ভিয়েতনামের দালালরা পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভিয়েতনাম হতে অফার লেটার (ভিয়েতনামের ভাষায়) বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোতে প্রেরণ করে। ওই অফার লেটারের মাধ্যমে ভিয়েতনাম দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভিয়েতনাম সরকার স্বল্প মেয়াদে (সর্বোচ্চ ১ বছরের জন্য) বিনিয়োগকারীকে ডিএন ভিসা দিয়ে থাকে। ডিএন ভিসায় ভিয়েতনামে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে নগদ অর্থ নিয়ে যেতে হয়। এজন্য প্রত্যেক অভিবাসীকে দুই হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে যেতে বাধ্য করে।

এরপর বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে আগ্রহীদের বিএমইটি কার্ড প্রদান করে। ভিয়েতনামে যাওয়ার পর সেখানকার দালালরা এয়ারপোর্টে রিসিভ করে, তাদের পাসপোর্টসহ ঘরে আটকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। লে. কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, কুমিল্লার বাসিন্দা নাজমুল হাসান (২৬) মার্চের মাঝামাঝিতে অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় ৩ এপ্রিল মারা যান। নাজমুলের স্বজনরা স্থানীয় দালাল ও জেকে ওভারসিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পায়নি। ২৭ জুন ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির মুসলিম কলোনিতে নাজমুল হাসানের দাফন সম্পন্ন হয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত