রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত ৮ হাজার

চিকিৎসক-নার্স নেই ভোগান্তি চরমে

রোগীরা ঠিকমতো অক্সিজেন পাচ্ছেন কোনো অভিযোগ নেই -রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক

  রাজশাহী ব্যুরো ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। রাজশাহী নগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে নগরীতেই ১ হাজার ১৮১ জন। বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৯০ জন। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি- ৩ হাজার ৫৯২ জন। সরকারি হিসাবে রাজশাহী বিভাগে করোনায় মারা গেছেন ১১০ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৮৫৩ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার অনেক কম। তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন নেই, ডাক্তার নেই, নার্স নেই, ওষুধ নেই- আছে কেবল ভোগান্তি। এত নাইয়ের মধ্যে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না স্বজনরা। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের সেই পুরনো দাবি বিভাগের সব জেলায় করোনা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভাগে আক্রান্ত ৭ হাজার ৮৯০ জনের মধ্যে মাত্র ৬২১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাধ্য হয়েই বাকিরা বাসায় রয়েছেন। কথা হয় রাজশাহীর খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক করোনা রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে। তারা বলেছেন, হাসপাতালের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। অন্ধকার কুঠুরির মতো একেকটি কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। দেখে মনে হয় মেঝে ও টয়লেটগুলো দুই মাস ধরে পরিষ্কার করা হয় না। রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার মতো কোনো স্বাস্থ্যকর্মী বা নার্সও নেই। ডেকেও পাওয়া যায় না কাউকে। এ হাসপাতালে ৩৬ জন করোনা রোগী ভর্তি। সপ্তাহেও ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায় না। অক্সিজেন বা ওষুধপত্র, পানি, খাবারসহ পথ্যাদি রোগীকেই জোগাড় করতে হয়। অব্যবস্থাপনার কারণে কয়েক দিনে সুস্থ হওয়ার আগেই ১৮ জন করোনা রোগী স্বেচ্ছায় হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে গিয়ে আইসোলেশনে আছেন। কোভিড ডেডিকেটেড এ হাসপাতালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কে? গত দুই দিনেও তা জানা সম্ভব হয়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অবস্থাও একই রকম প্রায়। হাসপাতালটির দুটি করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর স্বজন আমিনুল ইসলাম বলছিলেন, শুরু থেকেই কোনো ডাক্তার ওয়ার্ড দুটিতে প্রবেশ করেননি। সিনিয়র নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দেখা পাইনি। ইন্টার্ন ডাক্তাররা গত দুই সপ্তাহ ধরে নিজেরাই স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে আছেন। শুধু শিক্ষানবিস নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওয়ার্ডের বাইরে দেখা পেলাম। ওষুধ লাগলে স্বজনদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। রাজশাহীতে করোনা ডেডিকেডেট এ দুটি হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেনও। প্রয়োজনে স্বজনরাই বাইরে থেকে অক্সিজেন কিনে রোগীদের সরবরাহ করছেন। খাবার ও পথ্যাদিও বাইরে থেকে দিচ্ছেন স্বজনরা। যদিও রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌসের দাবি, রাজশাহীতে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুদ রয়েছে। তাহলে রোগীরা কেন অক্সিজেন পাচ্ছেন না- জানতে চাইলে উপ-পরিচালক বলেন, রোগীরা ঠিকমতো অক্সিজেন পাচ্ছেন। কোনো অভিযোগ নেই।

চিকিৎসায় অবহেলা নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অধিক সংখ্যায় স্বাস্থ্যকর্মী নার্স ও চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ায় সবার মাঝেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রামেক ও মিশন হাসপাতালে অক্সিজেনসহ বিভিন্ন রসদ সরবরাহে অবহেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি রামেক হাসপাতালের পরিচালকের আওতাধীন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার নিম্নহার প্রসঙ্গে পরিচালক আরও বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয়বার নমুনা নিয়ে পরীক্ষার ফলাফল দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে সুস্থতার হিসাবটা দেরিতে যোগ হচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে কম সুস্থ হচ্ছে। তবে অধিকাংশ আক্রান্তের শারীরিক পরিস্থিতি ভালো বলে দাবি করেন তিনি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত