‘পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম নিউইয়র্কে খুন
jugantor
‘পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম নিউইয়র্কে খুন

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ খুন হয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্টসাইডে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার খণ্ড-বিখণ্ড মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ফাহিমের মৃতদেহটি ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করা হলেও মেঝেতে কোনো রক্তের দাগ ছিল না। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে সবকিছু দেখেশুনে মনে হচ্ছে- হত্যাকারী একজন পেশাদার খুনি।

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ৯১১ নম্বরে এক টেলিফোন কলের মাধ্যমে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পারে। এরপর অত্যাধুনিক কন্ডমেনিয়াম ভবনের সপ্তম তলায় ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পুলিশ ড্রয়িং রুমের মেঝেতে তার মস্তকবিহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখে। হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা ছিল।

মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল ইলেকট্রিক করাত। এ ছাড়া কয়েকটি প্লাস্টিক ব্যাগে ফাহিমের খণ্ডবিখণ্ড দেহের কয়েকটি অংশ পাওয়া যায়। ফাহিমের খালাতো বোন মীরান চৌধুরী ৯১১ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানান, তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এ কারণে তিনি পুলিশের সহায়তা চান। এর আগে সোমবার বিকালের পর থেকে মীরান চৌধুরী বেশ কয়েক দফায় ফাহিমের নম্বরে ফোন করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরের পর সরাসরি তার অ্যাপার্টমেন্টে চলে যান। কিন্তু সেটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং অনেকবার নক করার পরও খোলা হয়নি। এরপরই তিনি পুলিশকে ফোন করেন।

সূত্র জানায়, ভবনের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ফাহিম সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের সময় সর্বশেষ তার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। এ সময় সপ্তম তলায় যাওয়ার জন্য তিনি যখন নিচতলা থেকে এলিভেটর বা লিফটে চড়েন তখন আরেক ব্যক্তি লিফটে ওঠে। স্যুট পরা লোকটির মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস ছিল এবং সে একটি ব্রিফকেস বহন করছিল। ফাহিম সন্দেহের দৃষ্টিতে অচেনা ওই লোকটির দিকে তাকিয়েছেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। এরপর সে ফাহিমের সঙ্গেই সপ্তম তলায় নেমে পড়ে এবং ফাহিম তার অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলা মাত্রই লোকটি তার ওপর আক্রমণ চালায় এবং ধাক্কা দিয়ে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে। কিন্তু এরপর কী ঘটেছে তা আর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি ইউনিভার্সিটিতে ইনফরমেশন টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে ফাহিম ২০১৪ সালে দেশে ফিরে পাঠাও প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। পাঠাও-র মতো কলম্বিয়া এবং নাইজেরিয়ায় আরও দুটি রাইডশেয়ারিং কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। গত বছর প্রায় ২২ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে তিনি ম্যানহাটনে অত্যাধুনিক অ্যাপার্টমেন্টটি কিনেছিলেন।

গোকোডো নামে নাইজেরিয়ার একটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি এবং পিকআপ নামে কলম্বিয়ার আরেকটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানিরও তিনি অংশীদার। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে গোকোডো বড় ধরনের বিপর্যয়ের কবলে পড়লে গত বছরের শেষদিকে ফাহিম কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায়ও একই ধরনের ব্যবসায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ফাহিম সালেহের বাড়ি চট্টগ্রামে। ১৯৮৬ সালে জন্ম হওয়া ফাহিম সালেহ বেড়ে উঠে চট্টগ্রাম মহানগরে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের হরিসপুরের সন্তান আইবিএমের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমেদের ছেলে ফাহিম।


তার বাবাও বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরে। তবে তার মা নোয়াখালীর মানুষ। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে তিনি নিউইয়র্ক সিটির পাশে পোকিস্পিতে মা-বাবার সঙ্গে ছিলেন। কয়েকদিন আগে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন।

‘পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম নিউইয়র্কে খুন

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ খুন হয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্টসাইডে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার খণ্ড-বিখণ্ড মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ফাহিমের মৃতদেহটি ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করা হলেও মেঝেতে কোনো রক্তের দাগ ছিল না। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে সবকিছু দেখেশুনে মনে হচ্ছে- হত্যাকারী একজন পেশাদার খুনি।

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ৯১১ নম্বরে এক টেলিফোন কলের মাধ্যমে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পারে। এরপর অত্যাধুনিক কন্ডমেনিয়াম ভবনের সপ্তম তলায় ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পুলিশ ড্রয়িং রুমের মেঝেতে তার মস্তকবিহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখে। হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা ছিল।

 

মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল ইলেকট্রিক করাত। এ ছাড়া কয়েকটি প্লাস্টিক ব্যাগে ফাহিমের খণ্ডবিখণ্ড দেহের কয়েকটি অংশ পাওয়া যায়। ফাহিমের খালাতো বোন মীরান চৌধুরী ৯১১ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানান, তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এ কারণে তিনি পুলিশের সহায়তা চান। এর আগে সোমবার বিকালের পর থেকে মীরান চৌধুরী বেশ কয়েক দফায় ফাহিমের নম্বরে ফোন করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরের পর সরাসরি তার অ্যাপার্টমেন্টে চলে যান। কিন্তু সেটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং অনেকবার নক করার পরও খোলা হয়নি। এরপরই তিনি পুলিশকে ফোন করেন।

সূত্র জানায়, ভবনের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ফাহিম সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের সময় সর্বশেষ তার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। এ সময় সপ্তম তলায় যাওয়ার জন্য তিনি যখন নিচতলা থেকে এলিভেটর বা লিফটে চড়েন তখন আরেক ব্যক্তি লিফটে ওঠে। স্যুট পরা লোকটির মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস ছিল এবং সে একটি ব্রিফকেস বহন করছিল। ফাহিম সন্দেহের দৃষ্টিতে অচেনা ওই লোকটির দিকে তাকিয়েছেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। এরপর সে ফাহিমের সঙ্গেই সপ্তম তলায় নেমে পড়ে এবং ফাহিম তার অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলা মাত্রই লোকটি তার ওপর আক্রমণ চালায় এবং ধাক্কা দিয়ে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে। কিন্তু এরপর কী ঘটেছে তা আর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি ইউনিভার্সিটিতে ইনফরমেশন টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে ফাহিম ২০১৪ সালে দেশে ফিরে পাঠাও প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। পাঠাও-র মতো কলম্বিয়া এবং নাইজেরিয়ায় আরও দুটি রাইডশেয়ারিং কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। গত বছর প্রায় ২২ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে তিনি ম্যানহাটনে অত্যাধুনিক অ্যাপার্টমেন্টটি কিনেছিলেন।

গোকোডো নামে নাইজেরিয়ার একটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি এবং পিকআপ নামে কলম্বিয়ার আরেকটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানিরও তিনি অংশীদার। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে গোকোডো বড় ধরনের বিপর্যয়ের কবলে পড়লে গত বছরের শেষদিকে ফাহিম কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায়ও একই ধরনের ব্যবসায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ফাহিম সালেহের বাড়ি চট্টগ্রামে। ১৯৮৬ সালে জন্ম হওয়া ফাহিম সালেহ বেড়ে উঠে চট্টগ্রাম মহানগরে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের হরিসপুরের সন্তান আইবিএমের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমেদের ছেলে ফাহিম।


তার বাবাও বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরে। তবে তার মা নোয়াখালীর মানুষ। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে তিনি নিউইয়র্ক সিটির পাশে পোকিস্পিতে মা-বাবার সঙ্গে ছিলেন। কয়েকদিন আগে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পাঠাও সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ খুন