ঢাবির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ
jugantor
ঢাবির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ

  ঢাবি প্রতিনিধি  

২৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে। ঢাবির ইতিহাসের এটি সবচেয়ে বড় প্রস্তাবিত বাজেট। বৃহস্পতিবার সিনেট অধিবেশনে বাজেটটি উপস্থাপন করা হয়। এ বাজেট বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুদান রয়েছে ৭৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।

আর শিক্ষার্থীদের ফি, ভর্তি ফরম বিক্রি, বেতন-ভাতা, সম্পত্তিসহ নিজস্ব খাত থেকে ৭১ কোটি টাকা আয় দেখানো হচ্ছে। ঘাটতি দেখানো হয়েছে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এবারের বাজেটে ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি গবেষণায় বরাদ্দ। এ বাজেটে শুধু গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা; যা মোট বাজেটের ১.০৯ শতাংশ। গত বছর শুধু গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা; যা মোট বাজেটের ২.১ শতাংশ। এছাড়া অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৮৪৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। গত বাজেটের আকার ছিল ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

বাজেট উপস্থাপনকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মু. সামাদ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো বরাদ্দ সমন্বয় করার প্রয়োজন হলে বা কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সমন্বয় ও সংযোজন করা হবে।

এদিকে করোনাভাইরাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ঢাবিতে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও আধুনিক ডিভাইসের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারছেন না। বাজেটেও কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে স্মার্টফোন কিনে দিতে সরকারের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ আবেদনের প্রস্তাব উঠেছে অধিবেশনে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক সামাদ আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হল ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম। এ কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব আসছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিনেটের চেয়ারম্যান ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বাজেট উপস্থাপন করেন। করোনা পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ জুন সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে বাজেটটি উপস্থাপন করা যায়নি। এ কারণে সিনেটের এ অধিবেশন ২৩ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছিল।

সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ও গবষণার উৎকর্ষ সাধন, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মপ্রয়াস ও উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। করোনাকালে ও করোনাউত্তর সমস্যা মোকাবেলা করে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা প্রদান এবং শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর পিচ অ্যান্ড লিবার্টি’-এর জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানান উপাচার্য।

ঢাবির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ

 ঢাবি প্রতিনিধি 
২৪ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে। ঢাবির ইতিহাসের এটি সবচেয়ে বড় প্রস্তাবিত বাজেট। বৃহস্পতিবার সিনেট অধিবেশনে বাজেটটি উপস্থাপন করা হয়। এ বাজেট বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুদান রয়েছে ৭৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।

আর শিক্ষার্থীদের ফি, ভর্তি ফরম বিক্রি, বেতন-ভাতা, সম্পত্তিসহ নিজস্ব খাত থেকে ৭১ কোটি টাকা আয় দেখানো হচ্ছে। ঘাটতি দেখানো হয়েছে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এবারের বাজেটে ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি গবেষণায় বরাদ্দ। এ বাজেটে শুধু গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা; যা মোট বাজেটের ১.০৯ শতাংশ। গত বছর শুধু গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা; যা মোট বাজেটের ২.১ শতাংশ। এছাড়া অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৮৪৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। গত বাজেটের আকার ছিল ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

বাজেট উপস্থাপনকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মু. সামাদ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো বরাদ্দ সমন্বয় করার প্রয়োজন হলে বা কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সমন্বয় ও সংযোজন করা হবে।

এদিকে করোনাভাইরাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ঢাবিতে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও আধুনিক ডিভাইসের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারছেন না। বাজেটেও কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে স্মার্টফোন কিনে দিতে সরকারের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ আবেদনের প্রস্তাব উঠেছে অধিবেশনে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক সামাদ আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হল ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম। এ কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব আসছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিনেটের চেয়ারম্যান ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বাজেট উপস্থাপন করেন। করোনা পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ জুন সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে বাজেটটি উপস্থাপন করা যায়নি। এ কারণে সিনেটের এ অধিবেশন ২৩ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছিল।

সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ও গবষণার উৎকর্ষ সাধন, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মপ্রয়াস ও উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। করোনাকালে ও করোনাউত্তর সমস্যা মোকাবেলা করে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা প্রদান এবং শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর পিচ অ্যান্ড লিবার্টি’-এর জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানান উপাচার্য।