ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ আজ

দুই বছরেও ১০৫ জেলায় নতুন কমিটি হয়নি

  মাহাদী হাসান ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। কিন্তু এই সময়ে ১০৫টি জেলা ইউনিটে নতুন কমিটি হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে ইউনিটগুলো। এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার ১৪ মাস পার হলেও দায়িত্ব বুঝে পাননি এ পদে থাকা নেতারা। এভাবে সংগঠনটির কার্যক্রম বিশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের পর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সভাপতি পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগে পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের আগেই ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এই দুই নেতা। তাদের অব্যাহতির পর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান লেখক ভট্টাচার্য। ৩ মাস ভারপ্রাপ্ত থাকার পর ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

দুই বছরেও হয়নি ১০৫ জেলার কমিটি : ছাত্রলীগের মোট ১১১টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর এবং জেলা ইউনিটের মেয়াদ এক বছর। সেই হিসাবে শোভন রাব্বানীর কমিটি এক বছর দুই মাস দায়িত্ব পালন করে। এই ১৪ মাসে শোভন-রাব্বানী ছাত্রলীগের মোট ১১১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র দুটিতে কমিটি দিয়েছেন। শোভন-রাব্বানীর পদত্যাগের পর নতুন সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ভারমুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, অবশিষ্ট যে কয়েক মাস তারা দায়িত্ব পালন করবেন তার মধ্যে গুরুত্ব বিবেচনা করে যেসব ইউনিটের কমিটির মেয়াদ নেই সেগুলোতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস অতিক্রম হলেও তারা মাত্র চারটি জেলা কমিটি দিতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে বাকি ১০৫টি জেলা কমিটি চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। এ কারণে তৃণমূলে এক ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কমিটি না দেয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, এটা আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। তাই আমরা বাকি জেলাগুলোর কমিটি দেইনি।

সম্মেলন হলেও হয়নি কমিটি : ২০১৯ সালের ১৩, ২০, ২৪ ও ২৭ জুলাই শোভন-রাব্বানী দায়িত্বে থাকাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের কমিটি ভেঙে দিয়ে সম্মেলন করা হয়। কিন্তু দেয়া হয়নি কমিটি। আর এই শাখাগুলো কমিটি নিয়ে নতুন কোনো তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ থাকলেও দায়িত্ব পাননি : পদ দেয়া হয়েছে ১৪ মাস আগে। কিন্তু এখনও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নেতাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়নি দায়িত্ব। দায়িত্ব বণ্টন না হওয়ায় একরকম বিশৃঙ্খলভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত। দায়িত্ব বুঝে না পাওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আরিফ হোসাইন বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা পদ পেয়েছিলাম তাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ পদ নিয়ে একটি বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এখনও দায়িত্ব বুঝে পাইনি। দায়িত্ব বণ্টন না করায় সংগঠনের মধ্যে এখন এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, যা আমাদের কারও কাম্য নয়। এ বিষয়ে লেখক ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, দায়িত্ব বণ্টনের কাজ আমরা অলরেডি সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু লকডাউনের কারণে সব স্থগিত আছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরে এটা পাবলিশ করা হবে।

ঢাবির কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও হয়নি হল কমিটি : ছাত্রলীগের সবচেয়ে সক্রিয় শাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অবস্থা অনেকটা নড়বড়ে। কারণ এই শাখার বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হলেও ১৮টি হল ইউনিটের কমিটি দিতে পারেনি ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে ইউনিটগুলো। হল কমিটি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন পদ প্রত্যাশীরা। কারণ তাদের বয়স বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত