পশু জবাইয়ে অব্যবস্থাপনায় ছড়াতে পারে করোনা ডেঙ্গু

চামড়ার প্রকৃত মূল্য পেতে বাধা হতে পারেন ট্যানারি মালিকরা * গরুর হাট ঘিরে অপরাধীরা তৎপর

  সিরাজুল ইসলাম ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর মধ্যেই ঈদুল আজহায় নেয়া হচ্ছে পশু কোরবানির আয়োজন। সাধারণত সড়ক, গলি, পার্কিং এরিয়া, মাঠ- যে যেখানে পারেন সেখানেই পশু জবাই করে থাকেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। আর এতে অধিক জনসমাগমে করোনা আরও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে দেখা দিতে পারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও। করোনা মহামারীর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটলে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হবে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোকে এজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ পশু কোরবানি হলেও এ বছর পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ২৫-৩০ শতাংশ কম পশু কোরবানি হতে পারে। তবে পশুর হাটকে ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও জাল টাকা কারবারিদের তৎপরতা দেখা দিয়েছে। বলা হয়, করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঢাকায়। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর ফ্ল্যাট বাড়ির পার্কিং এরিয়া, বাসাবাড়ির আঙ্গিনা ও সামনের রাস্তাসহ যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাই করা হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কসাই, সহায়তাকারী ও মাংস সংগ্রহকারীদের অধিক সমাগম ঘটবে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হবে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। ডেঙ্গুর সময় চলায় যত্রতত্র পশু জবাই করা হলে পরিবেশ দূষণের ফলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি এড়াতে সিটি কর্পোরেশনে এলাকাভিত্তিক জবাইখানা নির্ধারণ করে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য ফেলার কারণে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে হিমশিম খেতে হয়। পশুর সংখ্যা সঠিকভাবে নিরূপণও করা সম্ভব হয় না। এ থেকে নির্ধারিত করও আদায় করা যায় না। পাশাপাশি পশু জবাইয়ের পূর্বে তার শারীরিক অবস্থার কথাও জানা যায় না। কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকেও ছাড়পত্র নেয়া হয় না। গত বছরও ডেঙ্গুর প্রকোপে নাজেহাল হয়ে উঠেছিল নগরবাসী। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ বছর এডিস মশাবাহিত এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার হতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন বসন্তের প্রথম দিক থেকেই মশার উপদ্রব বেশি ছিল। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে তৈরি হবে প্রাণের শঙ্কাও। বরাবরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার প্রকৃত মূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, গত বছরে সারা দেশে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রিতে ধস নামে। গরুর একটি চামড়া বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা দরে, খাসির একশ’ টাকা দরে। মূল্য না পাওয়ায় কয়েক স্থানে চামড়া খাল-নদী ও ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়ার ঘটনাও ঘটে। রাজধানীতে এমন ঘটনা না ঘটলেও আড়তে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সাভার, হেমায়েতপুরসহ ঢাকার প্রধান পাইকারি বাজার লালবাগের পোস্তায় আড়তদাররা মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে চামড়া কেনায় তারা লোকসানের মুখে পড়েন। পাশাপাশি মূল্য কম হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কোরবানির চামড়ার প্রকৃত সুবিধাভোগী এতিম, মিসকিন, দুস্থ ও তাদের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যানারি মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য হ্রাস, পূর্বের চামড়া অবিক্রীত অবস্থায় মজুদ থাকাসহ বিভিন্ন অজুহাত দিলেও বিয়ষটি ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও তাদের অ্যাসোসিয়েশনের কারসাজি ছিল। কারণ দেশে উৎপাদিত মোট চামড়ার ৭০ ভাগ রফতানি করা হলেও বাকি ৩০ ভাগ অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত