ঢাকায় ফেরায় ভোগান্তিতে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা

পদ্মায় স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় শিমুলিয়া (মাওয়া)-কাঁঠালবাড়ি রুটে অর্ধেক ফেরি বন্ধ রয়েছে। বাকিগুলো রাতে বন্ধ থাকছে, দিনে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। স্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চে যাত্রী পারাপার থেমে থেমে বন্ধ রাখা হয়। সকাল ও বিকালে স্পিডবোটেও যাত্রী পারাপার বন্ধ ছিল। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরিতে গাড়ি পারাপারে সময় বেশি লাগছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুধবার বিকাল এ রুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়। অপরদিকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে ছিল উপচেপড়া যাত্রী। এসব লঞ্চেও স্বাস্থ্যবিধি মানেননি অনেক যাত্রী। এসব কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন খুলনা, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। তবে অন্যান্য অঞ্চলের যাত্রীরা অনেকটা স্বস্তিতে ঢাকা ফিরেছেন।

যাত্রী ভোগান্তি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান খাজা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ডাম্প ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। স্রোত বেশি হওয়ায় টাগবোট দিয়ে এসব ফেরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে সব ফেরি চলছে। তিনি বলেন, স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন হওয়া যাত্রীদের একটু কষ্ট হচ্ছে।

দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া ঘাটে। পদ্মার তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা। তাই গাদাগাদি করে লঞ্চ ও স্পিডবোটে পাড়ি দিচ্ছেন তারা। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে মঙ্গলবার পৌনে ৯টা থেকে টানা ৯ ঘণ্টা বন্ধ ছিল শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চলাচল। বুধবার সকালে সীমিত পরিসরে চালু হয় মাত্র ৭টি ফেরি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই হাজার হাজার মানুষ উত্তাল নদী পার হয়েছেন লঞ্চ ও স্পিডবোটে। বাগেরহাট থেকে আসা যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মাইক্রোবাসে ভালোভাবেই কাঁঠালবাড়ি এসেছি। ঘাটে এসে দেখি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত। তাই বাধ্য হয়ে ফেরিতে নদী পার হয়েছি। এতেই দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। অথচ সাধারণ সময়ে লঞ্চে পার হতে ৪৫ মিনিট লাগে। তিনি বলেন, ফেরিতে মানুষের এত বেশি চাপ ছিল যে গায়ে গায়ে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল। সামাজিক দূরত্ব বলতে ফেরিতে কিছু ছিল না। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, মাওয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ১৪টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি চলেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ রুটে থেমে থেমে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলেছে। বিকাল থেকে স্পিডবোটও বন্ধ করে দেয়া হয়। অপরদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় বিকাল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এদিকে ঢাকায় আসা লঞ্চগুলোতে যাত্রী ছিল টুইট¤ু^র। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে বুধবার ঢাকা নদী বন্দরে প্রায় শ’খানেক লঞ্চ এসেছে। বেশিরভাগ লঞ্চে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেননি ডেকের (তৃতীয় শ্রেণির) যাত্রীরা। অনেকের মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। তবে বাস মালিক ও চালকেরা জানান- উত্তরাঞ্চল, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল থেকে অনেকটাই নির্বিঘ্নে ঢাকায় এসেছেন যাত্রীরা। রাস্তায় গাড়ির চাপ খুব বেশি নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রী বহন করা হয়েছে। চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসা আবে জমজম লঞ্চের যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এত যাত্রী উঠলে সামাজিক দূরত্ব কিভাবে মেনে চলব। পাশাপাশি সিটে বসেই যাত্রীরা ঢাকায় এসেছেন। অনেকের মুখে মাস্ক ছিল আবার অনেক যাত্রীর মুখে মাস্ক ছিল না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে এভাবেই সবাই যাতায়াত করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের চাপ: গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। এতে ঘাট এলাকার মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও ফেরি ও লঞ্চে পারাপার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

ঈদের আগে-পরে ৭ দিন পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পুনরায় যান চলালল শুরু হলে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই যানবাহন আসতে শুরু করে। এতে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানবাহনের সারি দেখা যায় দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানেল ঘাট পর্যন্ত অন্তত আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত। এছাড়া ঘাটের ওপর চাপ কমাতে গোয়ালন্দ মোড় ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৪ কিমি এলাকাজুড়ে অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এগুলোর পাশাপাশি রয়েছে শতশত ব্যক্তিগত গাড়ি। ব্যক্তিগত গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য জরুরি যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নদী পার করা হচ্ছে।

সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে কর্মমুখী মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ গণপরিবহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, ব্যাটারি চালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে দৌলতদিয়া ঘাটে জমা হচ্ছে। পরে তারা নদী পার হয়ে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে যাচ্ছে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। মঙ্গলবার বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের দায়ে দুটি বাসের চালককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে ফেরি উঠে যাওয়ার পর আর কেউ নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আবদুুল্লাহ রনি জানান, যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য এ রুটে ছোট-বড় ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। তীব্র স্রোতের ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় সড়কে যানবাহন আটকা পড়ছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত