করোনা চিকিৎসায় এক্সরে ও রক্তের কিছু পরীক্ষার ভূমিকা রয়েছে
jugantor
জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভা
করোনা চিকিৎসায় এক্সরে ও রক্তের কিছু পরীক্ষার ভূমিকা রয়েছে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় এক্স-রে ও রক্তের কিছু পরীক্ষার ভূমিকা রয়েছে। শহরের হাসপাতালগুলোতে এ ব্যবস্থা থাকলেও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ে বর্ধিত হারে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রোববার রাতে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ২০তম অনলাইন সভায় কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা এসব কথা বলেন। সভায় জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। কমিটির সভাপতির পক্ষে ড. এসএম আলমগীর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এ সময় জানানো হয়, জাতীয় পরামর্শক কমিটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের ল্যাবরেটরি কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে কোভিড-১৯ টেস্টের নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে সংক্রমিত ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইসোলেট করতে হবে।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরা বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি, হাসপাতালের সেবার পরিধি ও মান উন্নয়ন করা হয়েছে। সরকারের ও বিভিন্ন সংস্থার পদক্ষেপের কারণেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। যেসব দিকে এখনও উন্নয়ন প্রয়োজন সেসব দিকের ঘাটতিও চিহ্নিত হয়েছে, এখন ঘাটতি পূরণ করে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে। তারা বলেন, বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ উন্মুক্ত হচ্ছে ও হতে থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। এ সবগুলোর কারণে আমাদের দেশেও পুনরায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি সংক্রমণ হলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ের লক্ষ্যে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এখনই করণীয় বিষয়ে রোডম্যাপ প্রস্তুত করে সেই মোতাবেক পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে রোডম্যাপ প্রস্তুতিতে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সহযোগিতা কামনা করা হয়। জাতীয় পরামর্শক কমিটিও তার সাব-কমিটিগুলোর মাধ্যমে এ রোডম্যাপ প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়।

কমিটি জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আমাদের দেশে সংক্রমণের হার নিুমুখী, যদিও এ হার স্বস্তিকর মাত্রায় এখনও পৌঁছেনি। সম্প্রতি কিছু কিছু হাসপাতালের শয্যা খালি থাকছে, আবার অন্য রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ও সাশ্রয় করতে কোভিড-১৯ হাসপাতালের অব্যবহৃত শয্যা সংখ্যা সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে এখনও আইসোলেশন কেন্দ্রের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সংকোচন করা হলেও পুরোপুরি বন্ধ না করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যাতে পুনরায় ব্যবহার করা যায়, সেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।

সভায় কোভিড ভ্যাকসিন বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে অলোচনা করা হয়। সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে জাতীয় পরামর্শক কমিটির দেয়া পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে সুপারিশ করা হয়। কোভিড ভ্যাকসিনের টেকনোলজি নিয়ে এ দেশেই উৎপাদন করার সরকারের পরিকল্পনার প্রশংসা করা হয়। যদিও টিকা উৎপাদনে সারা বিশ্ব সক্রিয় তারপরও কার্যকর টিকার প্রাপ্যতা সময়সাপেক্ষ ও সময়সীমা এখনও অনিশ্চিত।

তারা বলেন, যেহেতু লকডাউন জীবিকার স্বার্থে সম্ভব নয়, তাই এ মুহূর্তে সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই কোভিড-১৯ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে আরও সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

কমিটির বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রীরা দেশে আসছে। এ বিষয়ে ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ/নিয়মজারি করা প্রয়োজন। সংক্রমণ প্রতিরোধে পয়েন্ট অব এন্ট্রিতে প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে আগতদের স্ক্রিনিং, কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে করোনাট্রেসার অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার জন্য আন্তঃহাসপাতাল নেটওয়ার্ক স্থাপন করার বিষয়ে ইতোপূর্বে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রযুক্তিভিত্তিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটি সফল হলে পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালেও সম্প্রসারণ করা হবে।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভা

করোনা চিকিৎসায় এক্সরে ও রক্তের কিছু পরীক্ষার ভূমিকা রয়েছে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় এক্স-রে ও রক্তের কিছু পরীক্ষার ভূমিকা রয়েছে। শহরের হাসপাতালগুলোতে এ ব্যবস্থা থাকলেও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ে বর্ধিত হারে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রোববার রাতে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ২০তম অনলাইন সভায় কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা এসব কথা বলেন। সভায় জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। কমিটির সভাপতির পক্ষে ড. এসএম আলমগীর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এ সময় জানানো হয়, জাতীয় পরামর্শক কমিটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের ল্যাবরেটরি কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে কোভিড-১৯ টেস্টের নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে সংক্রমিত ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইসোলেট করতে হবে।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরা বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি, হাসপাতালের সেবার পরিধি ও মান উন্নয়ন করা হয়েছে। সরকারের ও বিভিন্ন সংস্থার পদক্ষেপের কারণেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। যেসব দিকে এখনও উন্নয়ন প্রয়োজন সেসব দিকের ঘাটতিও চিহ্নিত হয়েছে, এখন ঘাটতি পূরণ করে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে। তারা বলেন, বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ উন্মুক্ত হচ্ছে ও হতে থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। এ সবগুলোর কারণে আমাদের দেশেও পুনরায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি সংক্রমণ হলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ের লক্ষ্যে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এখনই করণীয় বিষয়ে রোডম্যাপ প্রস্তুত করে সেই মোতাবেক পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে রোডম্যাপ প্রস্তুতিতে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সহযোগিতা কামনা করা হয়। জাতীয় পরামর্শক কমিটিও তার সাব-কমিটিগুলোর মাধ্যমে এ রোডম্যাপ প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়।

কমিটি জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আমাদের দেশে সংক্রমণের হার নিুমুখী, যদিও এ হার স্বস্তিকর মাত্রায় এখনও পৌঁছেনি। সম্প্রতি কিছু কিছু হাসপাতালের শয্যা খালি থাকছে, আবার অন্য রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ও সাশ্রয় করতে কোভিড-১৯ হাসপাতালের অব্যবহৃত শয্যা সংখ্যা সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে এখনও আইসোলেশন কেন্দ্রের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সংকোচন করা হলেও পুরোপুরি বন্ধ না করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যাতে পুনরায় ব্যবহার করা যায়, সেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।

সভায় কোভিড ভ্যাকসিন বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে অলোচনা করা হয়। সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে জাতীয় পরামর্শক কমিটির দেয়া পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে সুপারিশ করা হয়। কোভিড ভ্যাকসিনের টেকনোলজি নিয়ে এ দেশেই উৎপাদন করার সরকারের পরিকল্পনার প্রশংসা করা হয়। যদিও টিকা উৎপাদনে সারা বিশ্ব সক্রিয় তারপরও কার্যকর টিকার প্রাপ্যতা সময়সাপেক্ষ ও সময়সীমা এখনও অনিশ্চিত।

তারা বলেন, যেহেতু লকডাউন জীবিকার স্বার্থে সম্ভব নয়, তাই এ মুহূর্তে সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই কোভিড-১৯ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে আরও সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

কমিটির বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রীরা দেশে আসছে। এ বিষয়ে ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ/নিয়মজারি করা প্রয়োজন। সংক্রমণ প্রতিরোধে পয়েন্ট অব এন্ট্রিতে প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে আগতদের স্ক্রিনিং, কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে করোনাট্রেসার অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার জন্য আন্তঃহাসপাতাল নেটওয়ার্ক স্থাপন করার বিষয়ে ইতোপূর্বে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রযুক্তিভিত্তিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটি সফল হলে পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালেও সম্প্রসারণ করা হবে।