কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের যোগাযোগ ৪৭ সেকেন্ড বন্ধ ছিল

নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট * অবতরণের আগে আকাশে এয়ারক্রাফটির অবস্থান সঠিক ছিল না * রানওয়ের বাইরে ছিটকে পড়ে

  বিশেষ সংবাদদাতা ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের যোগাযোগ ৪৭ সেকেন্ড বন্ধ ছিল

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউএস-বাংলার এয়ারক্রাফট অবতরণের আগ মুহূর্তে আকাশে স্থির (এলাইনমেন্ট) ছিল না। বাম দিকে কাত অবস্থায় ছিল। পাইলট বারবার চেষ্টা করেও এয়ারক্রাফটটি স্বাভাবিক (অবতরণের অবস্থান) রাখতে পারেননি।

এ সময় টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের ৪৭ সেকেন্ড যোগাযোগ বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে এয়ারক্রাফটটি রানওয়ে থেকে কিছুটা দূরে ঘাষের ওপর আছড়ে পড়ে। এ অবস্থায় ৪৪২ মিটার দূরে গিয়ে একটি গর্তের মধ্যে পড়ে আগুন ধরে যায়।

বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রধান কার্যালয়ে এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা ধারণা করছেন, টাওয়ার ও পাইলটদের মধ্যে সংকেতের ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, এয়ারক্রাফটে কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনে কোনো ত্রুটি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ১৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে’র মধ্যে যে কোনো সময় বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ব্ল্যাকবক্স খোলা হবে। ইতিমধ্যে ব্ল্যাকবক্সটি কানাডায় পাঠানো হয়েছে। কানাডার ইনডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট এ সময়ের মধ্যে ব্ল্যাকবক্সটি খুলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। নেপালের সরকারি তদন্ত কমিটির সব সদস্য এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন আরও জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়া বিষয়ে মূল তদন্ত প্রতিবেদন দুর্ঘটনা ঘটার এক বছর পর প্রকাশ হবে। ৯ এপ্রিল ৫ পৃষ্ঠার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নেপালে গঠিত তদন্ত কমিটি।

সেই প্রতিবদনের দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ খুঁজে পায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়। এ ঘটনার মূল কারণ জানতে বিমানটির ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছে তদন্ত কমিটি।

ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকদের পড়ে শোনান। প্রাথমিক প্রতিবদনে উঠে এসেছে বিমানটি অবতরণের শেষ মুহূর্তে ককপিটের সঙ্গে বিমানবন্দরের টাওয়ারের যোগযোগের সমস্যা ছিল। তবে কি ধরনের সমস্যা এটি আরও পরিষ্কার হবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের তথ্য উদ্ধারের পর।

টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা মূলত নেপালের কন্ট্রোল টাওয়ারে রেকর্ড শুনেছি। একেবারেই শেষের দিকে আমরা ৪৭ সেকেন্ডের কোনো কনভারসেশন শুনতে পাইনি। আমরা দেখেছি, ককপিট থেকে কথা বলছে, ওভারল্যাপিং ডিস্টার্ভেন্সের জন্য কন্ট্রোল টাওয়ার তখন বলেনি।

কিন্তু আদৌ কি বলেনি, এটি পরিষ্কার হবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার পাওয়ার পর। এরপর আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের করব, প্রয়োজনে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করব।

ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন আরও বলেন, বিমানটি অবতরণ চেষ্টা করে দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে, যদিও বিমানটি রানওয়ের বাইরে চলে যায়। পরে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রানওয়ের ৪৪২ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। এরপর বিমানটিতে আগুন ধরে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়।

বিমানটি অবতরণের সময় এলাইনমেন্ট ঠিক ছিল না। তিনি বলেন, বিমানে আগুন ধরার ২ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। উদ্ধার কাজে ৪টি বড় ফোম টেন্ডার, একটি মাঝারি ফোম টেন্ডার এবং ২টি পানির ট্যাংক অংশ নেয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেপালে ১২ মার্চ একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন প্রত্যক্ষদর্শী, উদ্ধারকর্মীসহ অন্যসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। যে সব তথ্য পাওয়া গেছে তা নিরীক্ষা শেষে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

বিমানের ব্ল্যাকবক্সসহ অন্যান্য অংশ ট্রাসপোর্ট সেফটি বোর্ড অব কানাডায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে থেকে প্রাপ্ত তথ্যও মূল প্রতিবেদনে যোগ করা হবে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন।

বিমানটির কোনো ত্রুটি ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন বলেন, বিমানটির সার্টিফিকেশন ঠিক ছিল। কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না। পাইলট ও কো-পাইলটের অভিজ্ঞতা ছিল। দুই পাইলটের মধ্যে কে ফ্লাইটটি অবতরণ করিয়েছিলেন এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter