ঢাবির সুফিয়া কামাল হল

ছাত্রলীগের ২৪ কর্মীকে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের ২৪ কর্মীকে বহিষ্কারের নোটিশ দিয়েছে ছাত্রলীগ। ১০ এপ্রিল রাতে ওই হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইশরাত জাহান এশাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন। তবে বহিষ্কৃতদের দাবি, কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। কারণ বহিষ্কৃতদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি ওই ঘটনার দুদিন আগে দেশত্যাগ করেছেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন সোমবার বহিষ্কারের কারণ হিসেবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন, ‘১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন জড়িত। এই অভিযোগে ওই হলের ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুনসহ ২৪ জনকে বহিষ্কার করা হল।’

এ বিষয়ে খালেদা হোসেন মুন যুগান্তরকে বলেন, বহিষ্কারের কারণ এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। কারণ ঘটনার রাতে আমি হলে ছিলাম না। তারপরও এ ধরনের আচরণ মোটেও কাম্য নয়। আর যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের একজন ঘটনার আগের দিন দেশের বাইরে চলে গেছেন। আরেকজনের ৩১ মার্চ বাম হাতের লিগামেন্টে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাহলে তারা কিভাবে এর সঙ্গে জড়িত থাকেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতার এটি তদন্ত করে থাকলে বিষয়গুলো উঠে আসার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি। 

ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

খালেদা হোসেন মুন আরও বলেন, বহিষ্কৃতদের মধ্যে আটজনের পদ উল্লেখ করা হলেও বাকিদের করা হয়নি। তাহলে বহিষ্কার করা হয়েছে কিভাবে আর যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, সেখানে বেশির ভাগ মেয়ের পুরো নাম উল্লেখ করা হয়নি। মিতু নামের একজনের বিভাগের নাম ভুল দেয়া হয়েছে। কমিটি করে তদন্ত করা হলে তারা তো অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের বক্তব্য নেবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটিও হয়নি। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আমি দাবি জানাই। 

এছাড়া এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন মুন। 


এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, তদন্তের ভিত্তিতেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতা যুগান্তরকে বলেন, এতদিন এশাকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল-শিবিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগের ২৪ জন বহিষ্কারের মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেরা নিজেদের মারধরের দায় স্বীকার করে নিল। তাহলে আগে ছাত্রলীগ এ বিষয়ে যত কথা ছড়িয়েছে তা ভুল প্রমাণিত হলো। 

কয়েকজন নেতা জানান, মূলত তদন্ত কমিটি নয়, এশার বক্তব্যের ভিত্তিতেই কয়েকজন ছাত্রীকে ছাত্রলীগের কর্মী বানিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে এশার সঙ্গে যাদের দ্বন্দ্ব আছে তাদের নামই এই তালিকায় এসেছে।

বহিষ্কারের তালিকায় নাম আসা একাধিক ছাত্রী যুগান্তরকে বলেন, তাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের দাবি- ঘটনার সময় তারা ছিলেন না।