বিস্তীর্ণ প্রান্তরে শুধুই শূন্যতা
jugantor
অমর একুশে বইমেলা
বিস্তীর্ণ প্রান্তরে শুধুই শূন্যতা

  হক ফারুক আহমেদ  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে বইমেলায় পাঠক-দর্শক আসছেন না। স্টলও পুরো সময় ফাঁকা পড়ে থাকছে। প্রায় অলস সময় কাটাচ্ছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

বিকাল থেকে রাতের মেলা দুপুর থেকে বিকালে গড়িয়েছে। কিন্তু বিকিকিনি নেই বলেই চলে। এমন বিক্রি-বাট্টায় প্রকাশকদের লোকসান গুনতে হবে। বইমেলা প্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে এখন শুধুই শূন্যতা।

বইপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের অভাবে মেলা প্রাঙ্গণ বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ায় প্রকাশকরা বাংলা একাডেমিকেই দায়ী করছেন। তাদের মতে, মেলা বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চললে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। মানুষ যে সময় বিশ্রাম নেন এবং অফিস-আদালতে থাকেন সেই সময় মেলা শুরু হলে মেলা জমবে কী করে। যখন তাদের আসার সময় হয় তখন মেলা প্রাঙ্গণ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে দিনে দিনে লোকসানের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন প্রকাশকরা।

শুরু থেকে মেলা যেভাবে জমে উঠেছিল তাতে প্রকাশকরা ভেবেছিলেন তারা সফলতা অর্জন করবেন। কিন্তু মাঝপথে বাদ সাধলো সময়সূচি। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টার পর্যন্ত করা হলো। তবে ২৯ মার্চ ১ ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হলো। এর পরের দিন ৩০ মার্চ থেকে বাংলা একাডেমি বইমেলার সময়সূচিতে ফের পরিবর্তন আনে। পরিবর্তিত সময়সূচিতে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মেলার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। আলোচনা না করে হঠাৎ বাংলা একাডেমির এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অনীহা প্রকাশ করে প্রকাশকরা। বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন সময়সূচি প্রস্তাব করে প্রকাশকদের দুই সমিতি। জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রস্তাব সম্পর্কে বাংলা একাডেমি জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। এরপরে ৫ এপ্রিল থেকে নেমে আসে এক সপ্তাহের লকডাউন। আর এ সময়টাতে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নতুন সময়সূচি বেঁধে দেয় একাডেমি কর্তৃপক্ষ। নতুন সময়সূচি প্রকাশকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে এমন দাবি মেলায় অংশ নেওয়া প্রায় প্রত্যেক প্রকাশকের।

বর্ণমালা প্রকাশনীর কর্ণধার মামুন-অর-রশিদ বলেন, করোনার মধ্যেও শুরু থেকে মেলা জমে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনায় লোকজনের আসা কমে গেছে। বিকাল ৫টায় মেলা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিকাল সাড়ে ৪টায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় প্রতিদিন অনেক পাঠক নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাংলা একাডেমির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মানুষকেই আসতে দেবেন না তাহলে মেলা চালু রাখলেন কেন? মেলা বন্ধ করে দিলেই তো পারতেন। মেলার এমন সময় নির্ধারণ করলেন যাতে মানুষ আসতে না পারে। লোকজন না থাকতে পারায় আমরা বিক্রিও করতে পারছি না আবার বন্ধ করতেও পারছি না। বাংলা একাডেমির অদূরদর্শিতার কারণে আমাদের এখন পথে বসার উপক্রম। প্রতিদিন যা খরচ হয় তা বিক্রিও করতে পারছি না।

অবসর প্রকাশনীর মাসুদ রানা বলেন, মেলা বন্ধ করে দিলে আমরা বড় ধরনের লোকসান থেকে বেঁচে যেতাম। ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে বাংলা একাডেমি মেলা বন্ধ করছে না। মেলা বন্ধ করে দিলে আমাদের লোকসান আরেকটু কম হতো।

বৃহস্পতিবার মেলার ২২তম দিনে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল বিরানভূমি। প্রায় বইপ্রেমী শূন্য ছিল এদিনের মেলা। প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীদের চেয়েও অনেক কম ছিল বইপ্রেমী ও দর্শনার্থীর সংখ্যা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে প্রকাশক ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া বইপ্রেমী খুব একটা পাওয়া যায়নি। হাতেগোনা যে কয়েকজন এসেছিলেন তারাও ব্যস্ত ছিলেন ঘোরাঘুরি আর সেলফি তোলাতে।

ক্ষতিপূরণের দাবিতে পাবলিশার্স ফোরাম কাটাবন : করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে পাবলিশার্স ফোরাম কাটাবন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় ফোরাম সদস্যরা জানান, আগামী রোববারের মধ্যে বইমেলা ও করোনার কারণে ফোরামের সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের তালিকা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে। এছাড়া আসন্ন বাজেটে সৃজনশীল বই ক্রয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। ফোরামের সভাপতি শওকত আলী তারার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন ফোরামের সম্পাদক দেলোয়ার হাসান।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ২২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৪৭টি। এর মধ্যে গল্পের বই ছিল আটটি, উপন্যাস ছয়টি, প্রবন্ধ পাঁচটি, কবিতা ১৯টি, গবেষণা একটি, ছড়া দুটি, জীবনী দুটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দুটি, নাটক একটি ও অন্য বিষয়ের একটি। ২২ দিনে মোট নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৩৩৩টি। এ পর্যন্ত মোট গল্পের বই প্রকাশ হয়েছে ২৯৯টি, উপন্যাস ৩৭৬টি, প্রবন্ধ ১৪১টি, কবিতা ৭৮৪টি, গবেষণা ৪৩টি, ছড়া ৩৯টি, শিশুতোষ ৩২টি, জীবনী ৭২টি, রচনাবলি ১৫টি, মুক্তিযুদ্ধ ৭৬টি, নাটক ১১টি, বিজ্ঞান ৩৮টি, ভ্রমণ ৩১টি, ইতিহাস ৫৪টি, রাজনীতি ১৫টি, চিকিৎসা বিষয়ক ১২টি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ৪৮টি, রম্য ও ধাঁধাঁ ১২টি, ধর্মীয় ২৪টি, অনুবাদের ২৪টি, সায়েন্সফিকশন ১৮টি ও অন্য বিষয়ের ওপর ১৬৯টি।

অমর একুশে বইমেলা

বিস্তীর্ণ প্রান্তরে শুধুই শূন্যতা

 হক ফারুক আহমেদ 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে বইমেলায় পাঠক-দর্শক আসছেন না। স্টলও পুরো সময় ফাঁকা পড়ে থাকছে। প্রায় অলস সময় কাটাচ্ছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

বিকাল থেকে রাতের মেলা দুপুর থেকে বিকালে গড়িয়েছে। কিন্তু বিকিকিনি নেই বলেই চলে। এমন বিক্রি-বাট্টায় প্রকাশকদের লোকসান গুনতে হবে। বইমেলা প্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে এখন শুধুই শূন্যতা।

বইপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের অভাবে মেলা প্রাঙ্গণ বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ায় প্রকাশকরা বাংলা একাডেমিকেই দায়ী করছেন। তাদের মতে, মেলা বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চললে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। মানুষ যে সময় বিশ্রাম নেন এবং অফিস-আদালতে থাকেন সেই সময় মেলা শুরু হলে মেলা জমবে কী করে। যখন তাদের আসার সময় হয় তখন মেলা প্রাঙ্গণ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে দিনে দিনে লোকসানের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন প্রকাশকরা।

শুরু থেকে মেলা যেভাবে জমে উঠেছিল তাতে প্রকাশকরা ভেবেছিলেন তারা সফলতা অর্জন করবেন। কিন্তু মাঝপথে বাদ সাধলো সময়সূচি। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টার পর্যন্ত করা হলো। তবে ২৯ মার্চ ১ ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হলো। এর পরের দিন ৩০ মার্চ থেকে বাংলা একাডেমি বইমেলার সময়সূচিতে ফের পরিবর্তন আনে। পরিবর্তিত সময়সূচিতে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মেলার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। আলোচনা না করে হঠাৎ বাংলা একাডেমির এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অনীহা প্রকাশ করে প্রকাশকরা। বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন সময়সূচি প্রস্তাব করে প্রকাশকদের দুই সমিতি। জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রস্তাব সম্পর্কে বাংলা একাডেমি জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। এরপরে ৫ এপ্রিল থেকে নেমে আসে এক সপ্তাহের লকডাউন। আর এ সময়টাতে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নতুন সময়সূচি বেঁধে দেয় একাডেমি কর্তৃপক্ষ। নতুন সময়সূচি প্রকাশকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে এমন দাবি মেলায় অংশ নেওয়া প্রায় প্রত্যেক প্রকাশকের।

বর্ণমালা প্রকাশনীর কর্ণধার মামুন-অর-রশিদ বলেন, করোনার মধ্যেও শুরু থেকে মেলা জমে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনায় লোকজনের আসা কমে গেছে। বিকাল ৫টায় মেলা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিকাল সাড়ে ৪টায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় প্রতিদিন অনেক পাঠক নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাংলা একাডেমির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মানুষকেই আসতে দেবেন না তাহলে মেলা চালু রাখলেন কেন? মেলা বন্ধ করে দিলেই তো পারতেন। মেলার এমন সময় নির্ধারণ করলেন যাতে মানুষ আসতে না পারে। লোকজন না থাকতে পারায় আমরা বিক্রিও করতে পারছি না আবার বন্ধ করতেও পারছি না। বাংলা একাডেমির অদূরদর্শিতার কারণে আমাদের এখন পথে বসার উপক্রম। প্রতিদিন যা খরচ হয় তা বিক্রিও করতে পারছি না।

অবসর প্রকাশনীর মাসুদ রানা বলেন, মেলা বন্ধ করে দিলে আমরা বড় ধরনের লোকসান থেকে বেঁচে যেতাম। ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে বাংলা একাডেমি মেলা বন্ধ করছে না। মেলা বন্ধ করে দিলে আমাদের লোকসান আরেকটু কম হতো।

বৃহস্পতিবার মেলার ২২তম দিনে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল বিরানভূমি। প্রায় বইপ্রেমী শূন্য ছিল এদিনের মেলা। প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীদের চেয়েও অনেক কম ছিল বইপ্রেমী ও দর্শনার্থীর সংখ্যা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে প্রকাশক ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া বইপ্রেমী খুব একটা পাওয়া যায়নি। হাতেগোনা যে কয়েকজন এসেছিলেন তারাও ব্যস্ত ছিলেন ঘোরাঘুরি আর সেলফি তোলাতে।

ক্ষতিপূরণের দাবিতে পাবলিশার্স ফোরাম কাটাবন : করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে পাবলিশার্স ফোরাম কাটাবন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় ফোরাম সদস্যরা জানান, আগামী রোববারের মধ্যে বইমেলা ও করোনার কারণে ফোরামের সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের তালিকা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে। এছাড়া আসন্ন বাজেটে সৃজনশীল বই ক্রয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। ফোরামের সভাপতি শওকত আলী তারার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন ফোরামের সম্পাদক দেলোয়ার হাসান।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ২২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৪৭টি। এর মধ্যে গল্পের বই ছিল আটটি, উপন্যাস ছয়টি, প্রবন্ধ পাঁচটি, কবিতা ১৯টি, গবেষণা একটি, ছড়া দুটি, জীবনী দুটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দুটি, নাটক একটি ও অন্য বিষয়ের একটি। ২২ দিনে মোট নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৩৩৩টি। এ পর্যন্ত মোট গল্পের বই প্রকাশ হয়েছে ২৯৯টি, উপন্যাস ৩৭৬টি, প্রবন্ধ ১৪১টি, কবিতা ৭৮৪টি, গবেষণা ৪৩টি, ছড়া ৩৯টি, শিশুতোষ ৩২টি, জীবনী ৭২টি, রচনাবলি ১৫টি, মুক্তিযুদ্ধ ৭৬টি, নাটক ১১টি, বিজ্ঞান ৩৮টি, ভ্রমণ ৩১টি, ইতিহাস ৫৪টি, রাজনীতি ১৫টি, চিকিৎসা বিষয়ক ১২টি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ৪৮টি, রম্য ও ধাঁধাঁ ১২টি, ধর্মীয় ২৪টি, অনুবাদের ২৪টি, সায়েন্সফিকশন ১৮টি ও অন্য বিষয়ের ওপর ১৬৯টি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন