ভারতীয় প্রযুক্তির দুটি টিকা হাতে এখনই লকডাউন নয় : মোদি
jugantor
জাতির উদ্দেশে ভাষণ
ভারতীয় প্রযুক্তির দুটি টিকা হাতে এখনই লকডাউন নয় : মোদি

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির উদ্দেশে মঙ্গলবার রাতে ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দু’টি টিকা রয়েছে।

এই নয়া টিকা তৈরির চেষ্টায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ওষুধ সংস্থাগুলো খুব ভালো কাজ করছে। লকডাউন বলবৎ করার দরকার নেই।

আগামী ১ মে থেকে ১৮ বছরের উপরে বয়স হলেই টিকা মিলবে। আগের মতোই সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টিকা পাওয়া যাবে। দু’টি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে।’

মোদি এমন সময় ভাষণ দিলেন, যখন ভারতে দৈনিক প্রায় তিন লাখ ছুঁই ছুঁই করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি, মারাও যাচ্ছেন প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। ভাষণে মোদি বলেন, ‘তুফানের মতো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। আপনারা যে পীড়া সহ্য করছেন, তা আমি জানি।

যারা আপনজনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আমি দেশের সমস্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সফাইকর্মী, সেনাবাহিনীর জওয়ান ও পুলিশকর্মীদের সম্মান জানাচ্ছি। আপনারা নিজের পরিবার ও সুখের চিন্তা ছেড়ে অন্যদের জীবন বাঁচাতে দিনরাত কষ্ট করেছেন।’ করোনা আবহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনের জোগান কম থাকায় হাহাকার নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, অক্সিজেনের জোগান বাড়িয়ে তুলতে সমস্ত চেষ্টা করা হচ্ছে। ওষুধের উৎপাদন বাড়াতে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এদিন অক্সিজেন ও ওষুধের জোগান নিয়ে আমজনতার মনোবল বাড়ালেও করোনা মোকাবিলার কোনো দাওয়াই ছিল না প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে।

বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরেই পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, সমস্যা হলো, প্রধানমন্ত্রী যা মুখে বলেন কাজে তা করেন না। আগের বার থালা বাজাতে বলেছিলেন, ২১ দিনে করোনা ভারত থেকে চলে যাবে বলে ঘোষণাও করেছিলেন। তার কোনোটাই হয়নি।’

মানুষকে দিশা দেখাতে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রীব বলে কটাক্ষ করে বামপরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিজেপির রাজ্যগুলোতে আগে জ্ঞান প্রয়োগ করুক প্রধানমন্ত্রী, তাহলে বোঝা যাবে কে কার কথা শোনে।’

এদিকে ফের করোনা ভয়াবহ আকার নেওয়ায় বিদেশ থেকে ভারতীয় শ্রমিকদের ঘরমুখো হওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার খুবই চাপে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেন, ‘রাজ্যগুলোর উচিত বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের যে যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করতে বলা। নিজের কর্মস্থলেই তাদের টিকা দেওয়া হবে। দেশবাসী যেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। দেশের শীর্ষ ভ্যাকসিন নির্মাতাদের সঙ্গে এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

সেখানে টিকার উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, রাজ্যগুলোকে যে পরিমাণ টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তার প্রায় ২৩ শতাংশ নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ

ভারতীয় প্রযুক্তির দুটি টিকা হাতে এখনই লকডাউন নয় : মোদি

 কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির উদ্দেশে মঙ্গলবার রাতে ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দু’টি টিকা রয়েছে।

এই নয়া টিকা তৈরির চেষ্টায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ওষুধ সংস্থাগুলো খুব ভালো কাজ করছে। লকডাউন বলবৎ করার দরকার নেই।

আগামী ১ মে থেকে ১৮ বছরের উপরে বয়স হলেই টিকা মিলবে। আগের মতোই সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টিকা পাওয়া যাবে। দু’টি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে।’

মোদি এমন সময় ভাষণ দিলেন, যখন ভারতে দৈনিক প্রায় তিন লাখ ছুঁই ছুঁই করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি, মারাও যাচ্ছেন প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। ভাষণে মোদি বলেন, ‘তুফানের মতো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। আপনারা যে পীড়া সহ্য করছেন, তা আমি জানি।

যারা আপনজনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আমি দেশের সমস্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সফাইকর্মী, সেনাবাহিনীর জওয়ান ও পুলিশকর্মীদের সম্মান জানাচ্ছি। আপনারা নিজের পরিবার ও সুখের চিন্তা ছেড়ে অন্যদের জীবন বাঁচাতে দিনরাত কষ্ট করেছেন।’ করোনা আবহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনের জোগান কম থাকায় হাহাকার নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, অক্সিজেনের জোগান বাড়িয়ে তুলতে সমস্ত চেষ্টা করা হচ্ছে। ওষুধের উৎপাদন বাড়াতে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এদিন অক্সিজেন ও ওষুধের জোগান নিয়ে আমজনতার মনোবল বাড়ালেও করোনা মোকাবিলার কোনো দাওয়াই ছিল না প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে।

বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরেই পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, সমস্যা হলো, প্রধানমন্ত্রী যা মুখে বলেন কাজে তা করেন না। আগের বার থালা বাজাতে বলেছিলেন, ২১ দিনে করোনা ভারত থেকে চলে যাবে বলে ঘোষণাও করেছিলেন। তার কোনোটাই হয়নি।’

মানুষকে দিশা দেখাতে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রীব বলে কটাক্ষ করে বামপরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিজেপির রাজ্যগুলোতে আগে জ্ঞান প্রয়োগ করুক প্রধানমন্ত্রী, তাহলে বোঝা যাবে কে কার কথা শোনে।’

এদিকে ফের করোনা ভয়াবহ আকার নেওয়ায় বিদেশ থেকে ভারতীয় শ্রমিকদের ঘরমুখো হওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার খুবই চাপে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেন, ‘রাজ্যগুলোর উচিত বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের যে যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করতে বলা। নিজের কর্মস্থলেই তাদের টিকা দেওয়া হবে। দেশবাসী যেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। দেশের শীর্ষ ভ্যাকসিন নির্মাতাদের সঙ্গে এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

সেখানে টিকার উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, রাজ্যগুলোকে যে পরিমাণ টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তার প্রায় ২৩ শতাংশ নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন