জলবায়ু সংকটের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব : জাতিসংঘ
jugantor
জলবায়ু সংকটের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব : জাতিসংঘ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবিলার সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু সংকটের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটির সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানায় আলজাজিরা। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ভয়াবহ পরিস্থিতির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হওয়ার কিনারায় চলে এসেছি। ২০২১ সাল মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বছর। আমাদের হাতে হেলায় নষ্ট করার মতো সময়টুকু নেই। জলবায়ু বিপর্যয় আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশগুলোকে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করা বন্ধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে শুরু হতে যাওয়া ৪০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অংশগ্রহণে জলবায়ু সম্মেলনের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব এ আহ্বান জানাল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী সমুদ্র বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ শীতল থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম তিনটি বছরের (২০১৬ ও ২০১৯) একটি। বিশ্বজুড়ে গড় তাপমাত্রা ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

মহামারির কারণে ২০২০ সালে নিঃসরণ কম হওয়া সত্ত্বেও বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ও নিউট্রোস অক্সাইডের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের দুই মাসে আর্কটিক সমুদ্রে সর্বনিু বরফ জমার পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায় কোটি কোটি টন বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র দাবদাহের কারণে বিশ্বের ৮০ ভাগ সমুদ্র অঞ্চল সামুদ্রিক দাবদাহের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘এই বছর ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশগুলোকে শূন্য কার্বন নিঃসরণ বাস্তবায়িত করতে হবে। জনসাধারণকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মারাত্মক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে হবে।’

বছরের প্রথমার্ধে বন্যা, খরা, হারিকেন ও ভূমিধসে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৯৮ লাখ। আটলান্টিকের ৩০টি ঝড়ে প্রায় ৪শ প্রাণহানি ও ৪১ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বৃহত্তর অঞ্চলে তীব্র বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এই দুই অঞ্চলই এবার পঙ্গপালের কবলে পড়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে আঘাত হেনেছে সাইক্লোন আম্পান। তীব্র খরার মুখে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। শুধু ব্রাজিলেই কৃষিখাতে ক্ষতি হয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

জলবায়ু সংকটের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব : জাতিসংঘ

 যুগান্তর ডেস্ক 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবিলার সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু সংকটের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটির সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানায় আলজাজিরা। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ভয়াবহ পরিস্থিতির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হওয়ার কিনারায় চলে এসেছি। ২০২১ সাল মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বছর। আমাদের হাতে হেলায় নষ্ট করার মতো সময়টুকু নেই। জলবায়ু বিপর্যয় আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশগুলোকে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করা বন্ধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে শুরু হতে যাওয়া ৪০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অংশগ্রহণে জলবায়ু সম্মেলনের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব এ আহ্বান জানাল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী সমুদ্র বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ শীতল থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম তিনটি বছরের (২০১৬ ও ২০১৯) একটি। বিশ্বজুড়ে গড় তাপমাত্রা ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

মহামারির কারণে ২০২০ সালে নিঃসরণ কম হওয়া সত্ত্বেও বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ও নিউট্রোস অক্সাইডের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের দুই মাসে আর্কটিক সমুদ্রে সর্বনিু বরফ জমার পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায় কোটি কোটি টন বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র দাবদাহের কারণে বিশ্বের ৮০ ভাগ সমুদ্র অঞ্চল সামুদ্রিক দাবদাহের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘এই বছর ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশগুলোকে শূন্য কার্বন নিঃসরণ বাস্তবায়িত করতে হবে। জনসাধারণকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মারাত্মক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে হবে।’

বছরের প্রথমার্ধে বন্যা, খরা, হারিকেন ও ভূমিধসে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৯৮ লাখ। আটলান্টিকের ৩০টি ঝড়ে প্রায় ৪শ প্রাণহানি ও ৪১ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বৃহত্তর অঞ্চলে তীব্র বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এই দুই অঞ্চলই এবার পঙ্গপালের কবলে পড়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে আঘাত হেনেছে সাইক্লোন আম্পান। তীব্র খরার মুখে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। শুধু ব্রাজিলেই কৃষিখাতে ক্ষতি হয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন