বাসে ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টায় মামলা

তুরাগ বাসের চালকসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বাড্ডায় তুরাগ পরিবহনের বাসে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টায় মামলা হয়েছে। ওই ছাত্রীর স্বামী বাদী হয়ে রোববার রাতে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। সোমবার বিকালে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তুরাগ পরিবহনের বাসের চালক রোমান (২৭), কন্ডাক্টর মনির (২৭) ও হেলপার নয়নকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও এর আশপাশ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় তুরাগ পরিবহনের কোনো বাস রাস্তায় নামতে দেননি শিক্ষার্থীরা। বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন তারা। গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, রোববার ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত আইন ২০০৩-এর ১০/৩০ ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলায় তুরাগ পরিবহনের গাড়িচালক, সুপারভাইজার ও সহকারীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো তার স্ত্রী রোববার বাড্ডা থেকে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার উদ্দেশে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে চড়ে। পথে বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা নেমে যায়। গাড়িটি যখন নতুনবাজার এলাকায় পৌঁছে, তখন গাড়ির হেলপার, কন্ডাক্টর মিলে তার স্ত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে তার স্ত্রী গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করলেও হেলপার-কন্ডাক্টর পথ আটকে বলে আপনি তো উত্তরায় যাবেন, এখানে নামবেন কেন? এ সময় চালককে দ্রুত চালিয়ে বিশ্বরোডের ফাঁকা স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তারা। গাড়িটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামনে জ্যামে পড়লে ওই ছাত্রী জোর করে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুর্র্বৃত্তরা বাসটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

মামলার বাদী যুগান্তরকে বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। এখনই উচিত হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) গুলশান থানা পুলিশের এসআই তপন ওঁঝা যুগান্তরকে বলেন, এজাহারের আলোকে মামলার তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অবস্থায় বাড্ডা থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত সড়কের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে পুলিশের উত্তরা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল যুগান্তরকে জানান, তুরাগ পরিবহন কর্তৃপক্ষ সায়েদাবাদ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে গুলশান থানায় সোপর্দ করেছে। ভিকটিম থানায় গিয়ে দেখবেন আটক ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা।

এদিকে এ ঘটনায় সোমবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা আজ বেলা ১২টার মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দুপুর ১টা থেকে আবারও আন্দোলনে যাবেন তারা।