মোদিকে হটাতে জোট গঠনের ডাক মমতার
jugantor
মোদিকে হটাতে জোট গঠনের ডাক মমতার
অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে মঞ্চ গড়ার প্রস্তাব * মমতার সঙ্গে কৃষক আন্দোলন নেতাদের সাক্ষাৎ

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে ভারতের সব বিরোধী দলকে জোটবদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কেন্দ্র থেকে হটানোর ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দেশটির সব রাজ্যের অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের মঞ্চ গড়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদিকে সরানোই এই মুহূর্তে তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের নেতারা কলকাতার নবান্নে মমতার সঙ্গে দেখা করেতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কৃষক আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘যতদিন কৃষক আন্দোলনের দাবি পূরণ না হচ্ছে, ততদিন আমরা সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। দেশকে বাঁচাতে গেলে সবাইকে একসঙ্গে হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্য সরকারগুলোর একটি যৌথ মঞ্চ হওয়া দরকার। যদি কোনো রাজ্যকে কেন্দ্র হয়রানি করে, তাহলে সব রাজ্য মিলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করবে।’

বিজেপিবিরোধী সব শক্তিকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপির যারা পুরোনো লোক আছেন, পুরোনো ঘরানার মানুষ এবং যেসব যুবক-যুবতী বিজেপিতে গেছেন, মোদিকে দেখে তারা ফিরে আসুন। সবাইকে একাট্টা হয়ে দেশকে বাঁচাতে হবে। ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাজেশ টিকায়েত মমতাকে অনুরোধ করেন কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে কেন্দ্রবিরোধী সব দলের মুখ্যমন্ত্রীদের একজোট করার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে সবার পক্ষ থেকে একটি মিলিত চিঠি তৈরি করা হবে। যাতে লোকসভা নির্বাচনের আগে অন্যদেরও সুবিধা হয়।

কৃষকনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বলেন, ‘ভারতের কৃষকদের প্রধান শত্রু বিজেপি। কৃষক স্বার্থবিরোধী বিজেপিকে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।’ উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে এই কৃষক জোটের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। কীভাবে এই কৃষক আন্দোলনকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেন কৃষকনেতারা।

কৃষক সংযুক্ত মোর্চার এই আন্দোলন শুধু পাঞ্জাব-হরিয়ানা নয়, গোটা দেশের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকরা দেশের সব প্রান্তে রয়েছেন। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে তাদের সঙ্গে থাকি, তাহলে সেটা ভালো হবে।’ তিনি কি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে মমতা জানান, ‘আমি নেতৃত্ব দিতে চাই না। কারণ এটা একটা যৌথ পরিবার। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। আমি আর কিছু করতে চাই না, শুধু মোদিজিকে সরাতে চাই।’

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে ‘নো ভোট ফর মোদি’ প্রচারে এসেছিলেন কৃষকনেতারা। আগামী বছর উত্তর প্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেখানেও একইভাবে মোদিবিরোধী প্রচারে নামবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত। মমতা তাদের বলেছেন, ‘এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না। সাত বছর ধরে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকার চালাচ্ছে। সেটা কেবল খবরদারি করার জন্য। জবরদস্তি করার জন্য। কালো আইন নিয়ে আসার জন্য। কৃষকদের হত্যার জন্য। শিল্প বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য। এই সরকার শুধু কৃষকবিরোধী নয়, জনবিরোধী।’

কলকাতা ছাড়ার আগে বৃহস্পতিবার কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জির ক্ষমতা সবাই দেখেছেন। মমতাজি বাংলাকে বাঁচিয়েছেন আর এখন দেশকে বাঁচানো দরকার।’ দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের আন্দোলনে আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন জানান তিনি। সেখানে আরেকটি মঞ্চ তৈরি করা হবে এর জন্য। মুখ্যমন্ত্রী কৃষকনেতাদের জানান, কোভিড পরিস্থিতি কাটলে এ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন তিনি। কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছি। কেউ কিছু বললেই এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এটাই এখন ওদের একমাত্র কাজ। এমনকি অফিসারদেরও ভয় দেখাচ্ছে। তাদের জন্য আইন বানিয়েছে। ওরা কিছু লিখতেও পারবে না, বলতে পারবে না। বুলি বন্ধ করে দিয়েছে। আগে যেমন নোটবন্দি করেছিল, এখন বুলিবন্দি করে দিয়েছে। এভাবে চলতে পারে না।’

মোদিকে হটাতে জোট গঠনের ডাক মমতার

অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে মঞ্চ গড়ার প্রস্তাব * মমতার সঙ্গে কৃষক আন্দোলন নেতাদের সাক্ষাৎ
 কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে ভারতের সব বিরোধী দলকে জোটবদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কেন্দ্র থেকে হটানোর ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দেশটির সব রাজ্যের অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের মঞ্চ গড়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদিকে সরানোই এই মুহূর্তে তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের নেতারা কলকাতার নবান্নে মমতার সঙ্গে দেখা করেতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কৃষক আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘যতদিন কৃষক আন্দোলনের দাবি পূরণ না হচ্ছে, ততদিন আমরা সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। দেশকে বাঁচাতে গেলে সবাইকে একসঙ্গে হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্য সরকারগুলোর একটি যৌথ মঞ্চ হওয়া দরকার। যদি কোনো রাজ্যকে কেন্দ্র হয়রানি করে, তাহলে সব রাজ্য মিলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করবে।’

বিজেপিবিরোধী সব শক্তিকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপির যারা পুরোনো লোক আছেন, পুরোনো ঘরানার মানুষ এবং যেসব যুবক-যুবতী বিজেপিতে গেছেন, মোদিকে দেখে তারা ফিরে আসুন। সবাইকে একাট্টা হয়ে দেশকে বাঁচাতে হবে। ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাজেশ টিকায়েত মমতাকে অনুরোধ করেন কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে কেন্দ্রবিরোধী সব দলের মুখ্যমন্ত্রীদের একজোট করার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে সবার পক্ষ থেকে একটি মিলিত চিঠি তৈরি করা হবে। যাতে লোকসভা নির্বাচনের আগে অন্যদেরও সুবিধা হয়।

কৃষকনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বলেন, ‘ভারতের কৃষকদের প্রধান শত্রু বিজেপি। কৃষক স্বার্থবিরোধী বিজেপিকে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।’ উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে এই কৃষক জোটের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। কীভাবে এই কৃষক আন্দোলনকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেন কৃষকনেতারা।

কৃষক সংযুক্ত মোর্চার এই আন্দোলন শুধু পাঞ্জাব-হরিয়ানা নয়, গোটা দেশের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকরা দেশের সব প্রান্তে রয়েছেন। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে তাদের সঙ্গে থাকি, তাহলে সেটা ভালো হবে।’ তিনি কি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে মমতা জানান, ‘আমি নেতৃত্ব দিতে চাই না। কারণ এটা একটা যৌথ পরিবার। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। আমি আর কিছু করতে চাই না, শুধু মোদিজিকে সরাতে চাই।’

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে ‘নো ভোট ফর মোদি’ প্রচারে এসেছিলেন কৃষকনেতারা। আগামী বছর উত্তর প্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেখানেও একইভাবে মোদিবিরোধী প্রচারে নামবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত। মমতা তাদের বলেছেন, ‘এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না। সাত বছর ধরে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকার চালাচ্ছে। সেটা কেবল খবরদারি করার জন্য। জবরদস্তি করার জন্য। কালো আইন নিয়ে আসার জন্য। কৃষকদের হত্যার জন্য। শিল্প বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য। এই সরকার শুধু কৃষকবিরোধী নয়, জনবিরোধী।’

কলকাতা ছাড়ার আগে বৃহস্পতিবার কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জির ক্ষমতা সবাই দেখেছেন। মমতাজি বাংলাকে বাঁচিয়েছেন আর এখন দেশকে বাঁচানো দরকার।’ দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের আন্দোলনে আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন জানান তিনি। সেখানে আরেকটি মঞ্চ তৈরি করা হবে এর জন্য। মুখ্যমন্ত্রী কৃষকনেতাদের জানান, কোভিড পরিস্থিতি কাটলে এ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন তিনি। কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছি। কেউ কিছু বললেই এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এটাই এখন ওদের একমাত্র কাজ। এমনকি অফিসারদেরও ভয় দেখাচ্ছে। তাদের জন্য আইন বানিয়েছে। ওরা কিছু লিখতেও পারবে না, বলতে পারবে না। বুলি বন্ধ করে দিয়েছে। আগে যেমন নোটবন্দি করেছিল, এখন বুলিবন্দি করে দিয়েছে। এভাবে চলতে পারে না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন