ব্যাংক এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে তদারকি শিথিল
jugantor
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার
ব্যাংক এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে তদারকি শিথিল
ভ্রমণের ব্যয়ের উৎস ও পরিবারের সদস্য সম্পর্কে তথ্য জানাতে হবে না

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরোপিত তদারকি শিথিল করা হয়েছে। আগে বিদেশ ভ্রমণের আগে ব্যক্তিগত ও পরিবারসহ ১৬ ধরনের তথ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করতে হতো। এখন থেকে পারিবারিক কোনো তথ্য দিতে হবে না। কেবল ব্যক্তিগত কিছু তথ্য দিতে হবে।

এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ নির্দেশনা জারির দিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। গত বছরের ২৩ মার্চ এ বিষয়ে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, কতিপয় ব্যাংকের এমডি অফিসের কাজে বা ব্যক্তিগত ছুটিতে দীর্ঘদিনের জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। এতে ব্যাংকের কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণে ব্যাংক এমডিদের বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, বিদেশ ভ্রমণের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে আবেদন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে এমডির বিদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে পর্ষদের সিদ্ধান্তের অনুলিপি, ভ্রমণের সময়, উদ্দেশ্য ও দেশের বাইরে অবস্থানকালীন ঠিকানা, একাধিক দেশ হলে প্রত্যেক দেশের নাম, সম্ভাব্য অবস্থানের মেয়াদ ও ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া পিতার নাম, মাতার নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, মোট বেতন (মূল বেতন আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে), পর্ষদের অনুমোদনের তারিখ, একা বা পরিবারের সদস্যসহ ভ্রমণ কিনা, সপরিবারের ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের নাম, বয়স সম্পর্ক, সর্বশেষ ভ্রমণ কতদিনের জন্য এবং কী উদ্দেশ্যে, বিগত দুই বছরের বিদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য ও ভ্রমণের ব্যয়ের উৎস উল্লেখসহ মোট ১৬ ধরনের তথ্য উল্লেখ করতে হতো।

নতুন সার্কুলারে ৭ ধরনের তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমডির পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য, গত ২ বছরের বিদেশ ভ্রমণের তথ্য, ভ্রমণের ব্যয়ের উৎস জানাতে হবে না। এসব তথ্য ছাড়া বাকি নয় ধরনের তথ্য দিতে হবে।

সূত্র জানায়, গত বছরের জারি করা সার্কুলারের পরই এমডিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি করা হয়। তারা বলেছেন, ভ্রমণের ব্যাপারে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে কেন? এ ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তদবিরও করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের নীতিমালাটি শিথিল করেছে। ওই নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর এমডিদের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে কঠোরভাবে তদারকি করা হতো। তারা কাদের সঙ্গে এবং কাদের ব্যয়ে বিদেশ ভ্রমণ করছেন সেসব বিষয় পর্যালোচনা করে অনেক এমডির বিদেশ ভ্রমণ আটকে দিত। অতিসম্প্রতি ফাস ফাইন্যান্সের এমডির বিদেশ ভ্রমণ আটকে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

ব্যাংক এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে তদারকি শিথিল

ভ্রমণের ব্যয়ের উৎস ও পরিবারের সদস্য সম্পর্কে তথ্য জানাতে হবে না
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরোপিত তদারকি শিথিল করা হয়েছে। আগে বিদেশ ভ্রমণের আগে ব্যক্তিগত ও পরিবারসহ ১৬ ধরনের তথ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করতে হতো। এখন থেকে পারিবারিক কোনো তথ্য দিতে হবে না। কেবল ব্যক্তিগত কিছু তথ্য দিতে হবে।

এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ নির্দেশনা জারির দিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। গত বছরের ২৩ মার্চ এ বিষয়ে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, কতিপয় ব্যাংকের এমডি অফিসের কাজে বা ব্যক্তিগত ছুটিতে দীর্ঘদিনের জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। এতে ব্যাংকের কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণে ব্যাংক এমডিদের বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, বিদেশ ভ্রমণের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে আবেদন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে এমডির বিদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে পর্ষদের সিদ্ধান্তের অনুলিপি, ভ্রমণের সময়, উদ্দেশ্য ও দেশের বাইরে অবস্থানকালীন ঠিকানা, একাধিক দেশ হলে প্রত্যেক দেশের নাম, সম্ভাব্য অবস্থানের মেয়াদ ও ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া পিতার নাম, মাতার নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, মোট বেতন (মূল বেতন আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে), পর্ষদের অনুমোদনের তারিখ, একা বা পরিবারের সদস্যসহ ভ্রমণ কিনা, সপরিবারের ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের নাম, বয়স সম্পর্ক, সর্বশেষ ভ্রমণ কতদিনের জন্য এবং কী উদ্দেশ্যে, বিগত দুই বছরের বিদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য ও ভ্রমণের ব্যয়ের উৎস উল্লেখসহ মোট ১৬ ধরনের তথ্য উল্লেখ করতে হতো।

নতুন সার্কুলারে ৭ ধরনের তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমডির পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য, গত ২ বছরের বিদেশ ভ্রমণের তথ্য, ভ্রমণের ব্যয়ের উৎস জানাতে হবে না। এসব তথ্য ছাড়া বাকি নয় ধরনের তথ্য দিতে হবে।

সূত্র জানায়, গত বছরের জারি করা সার্কুলারের পরই এমডিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি করা হয়। তারা বলেছেন, ভ্রমণের ব্যাপারে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে কেন? এ ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তদবিরও করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের নীতিমালাটি শিথিল করেছে। ওই নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর এমডিদের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে কঠোরভাবে তদারকি করা হতো। তারা কাদের সঙ্গে এবং কাদের ব্যয়ে বিদেশ ভ্রমণ করছেন সেসব বিষয় পর্যালোচনা করে অনেক এমডির বিদেশ ভ্রমণ আটকে দিত। অতিসম্প্রতি ফাস ফাইন্যান্সের এমডির বিদেশ ভ্রমণ আটকে দিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন