বিআইডব্লিউটিএর জিডি

বুড়িগঙ্গার ওয়াকওয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পলাশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুড়িগঙ্গা নদী দখলমুক্ত রাখতে নির্মিত ওয়াকওয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে। পাগলা থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত এ ওয়াকওয়ে ভেঙে ফেলায় পলাশের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) একেএম আরিফ উদ্দিন ৩ মে ওই জিডি করেন। এতে পলাশের দখলদারিত্বে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা পলাশের বাড়িতে আসার পর থেকে পলাশ যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন।

এ ব্যাপারে কাউসার আহমেদ পলাশ মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, জিডির বিষয়টি আমি জানি না। তবে কেউ যদি ওয়াকওয়ে ভেঙে থাকে তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা নিক, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ আমি বা আমার পরিবারের কেউ ভেঙেছে কিনা সেটাই প্রশ্ন। পাশাপাশি এটাও দেখা উচিত, কারা ভেঙেছে অথবা নিুমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কারণে সেটি ভেঙে গেছে কিনা। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি থাকায় অনেক সময় বড় আকারের জাহাজগুলো ওয়াকওয়ের সঙ্গে নোঙর করে। সে কারণেও ভেঙে থাকতে পারে। সাধারণ ডায়েরির ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মঞ্জুর কাদের জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

জানা গেছে, আলীগঞ্জ এলাকায় গণপূর্ত অধিদফতরের নিজস্ব জমিতে প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় একনেকে অনুমোদন পাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮টি ১৫ তলা ভবনের ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে বাধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে পলাশের বিরুদ্ধে। ওই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিবিএল-ডিসিএলের (জেভি) পক্ষে গত বছরের ১২ নভেম্বর প্রকল্প কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এখন আবার নতুন করে ওই প্রকল্পের কাজে বাধা, প্রাণনাশের হুমকি ও মালামাল লুটের অভিযোগ এনে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে গণপূর্ত বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান ৩ মে ফতুল্লা থানায় অপর একটি জিডি করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কাউসার আহমেদ পলাশের ভয়ে তার নামটি পর্যন্ত মুখে আনতে সাহস পাচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) একেএম আরিফ উদ্দিন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় যে জিডি করেছেন সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘বিভিন্ন স্থানে নদী এবং নদীর তীরভূমি দখল ও ভরাটের কারণে নদী ও নদীর তীরভূমি রক্ষায় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ হতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং- ৩৫২০/২০০৯) করা হয়। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদ-নদীর তীরভূমি হতে সব প্রকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদপূর্বক নদীর সীমানা নির্ধারণ ও চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে, গাইড ওয়াল, নির্মাণসহ বনায়নের আদেশ প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফতুল্লা থানাধীন ফতুল্লার লঞ্চঘাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে পাগলা বাজার থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত ওয়াকওয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। নদীর বিপুল পরিমাণ অংশ অবৈধভাবে ভরাট করে ইট, বালি, পাথর রেডিমিক্সের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। আলীগঞ্জ নিবাসী মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে কাউছার আহমেদ পলাশ এবং তার নেতৃত্বে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ওয়াকওয়ে ভেঙে নদীর তীরভূমি ভরাট করে অবৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিবিএল-ডিসিএলের জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ৮ ও ১১ নভেম্বর রমজান ও হান্নানের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক প্রকল্পের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয়। এদিকে ফতুল্লা থানায় করা জিডির ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী শাহাদাত জানান, হুমকি প্রদানকারীরা পলাশের লোক হিসেবে পরিচিত। তবে ৮টি ১৫ তলা ভবনের মধ্যে আমরা ২টি ভবন করছি এবং আমাদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেলেও কম-বেশি ঝামেলা আছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter