সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওসিকে শোকজ
jugantor
জেকেজির জালিয়াতি
সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওসিকে শোকজ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত জেকেজি হেলথ কেয়ারের করোনা টেস্ট জালিয়াতির মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী রোববার এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান যুগান্তরকে বলেন, মামলায় তিনজন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মশিউর রহমান নামের এক সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। অপর দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। দুই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে কারণ দর্শাতে বলেছেন। ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় অদ্যাবধি ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের (জেকেজি) বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা শনাক্তের পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে উঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্র্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হিরু জেকেজির জালিয়াতির কথা স্বীকার করে। গত বছরের ২৩ জুন জিকেজিতে অভিযান চালিয়ে তা সিলগালা করে দেওয়া হয়।

একই দিন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফুলসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আর আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। গত বছরের ১২ জুলাই সাবরিনাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৫ আগস্ট সাবরিনাসহ নয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়। চার্জ?শি?টে বলা হয়, ডা. সাবরিনা ও তার সহযোগী আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে পজিটিভ, নেগেটিভ জাল রিপোর্ট সরবরাহ করেছেন। এই কাজ করে তারা শুধু টাকা আÍসাৎই করেননি, জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রমণ বিস্তারে সহায়তা করেছে। এছাড়া জেকেজি থেকে বিদেশ গমনকারীদের করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্টও দেওয়া হ?য়ে?ছে। গত বছরের ২০ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের আদেশ দেন। ওই বছরের ২৭ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার অপর আসামিরা হলো সাবরিনার স্বামী আরিফুল চৌধুরী, সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, জেকেজি নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ। আসামিদের সবাই করাগারে।

জেকেজির জালিয়াতি

সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওসিকে শোকজ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত জেকেজি হেলথ কেয়ারের করোনা টেস্ট জালিয়াতির মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী রোববার এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান যুগান্তরকে বলেন, মামলায় তিনজন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মশিউর রহমান নামের এক সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। অপর দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। দুই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে কারণ দর্শাতে বলেছেন। ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় অদ্যাবধি ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের (জেকেজি) বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা শনাক্তের পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে উঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্র্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হিরু জেকেজির জালিয়াতির কথা স্বীকার করে। গত বছরের ২৩ জুন জিকেজিতে অভিযান চালিয়ে তা সিলগালা করে দেওয়া হয়।

একই দিন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফুলসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আর আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। গত বছরের ১২ জুলাই সাবরিনাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৫ আগস্ট সাবরিনাসহ নয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়। চার্জ?শি?টে বলা হয়, ডা. সাবরিনা ও তার সহযোগী আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে পজিটিভ, নেগেটিভ জাল রিপোর্ট সরবরাহ করেছেন। এই কাজ করে তারা শুধু টাকা আÍসাৎই করেননি, জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রমণ বিস্তারে সহায়তা করেছে। এছাড়া জেকেজি থেকে বিদেশ গমনকারীদের করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্টও দেওয়া হ?য়ে?ছে। গত বছরের ২০ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের আদেশ দেন। ওই বছরের ২৭ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার অপর আসামিরা হলো সাবরিনার স্বামী আরিফুল চৌধুরী, সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, জেকেজি নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ। আসামিদের সবাই করাগারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন