আহ্বায়কের অপসারণ ও কমিটি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ
jugantor
পাকুন্দিয়া উপজেলা আ.লীগ
আহ্বায়কের অপসারণ ও কমিটি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি বাতিল ও কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের অপসারণের দাবিতে উত্তাল স্থানীয় আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীরা বলছেন, যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিনকে আমরা কোনোভাবেই দলের কমিটিতে চাই না। অবিলম্বে তাকে কমিটি থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এ দাবিতে রোববার বিকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরে ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে স্থানীয় নেতারা বলেছেন, এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পাকুন্দিয়া অচল করে দেওয়া হবে। তারা এ দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে রোববার বিকাল ৩টার সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির, জেলা কৃষক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ, পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বুরুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মিজবাহ উদ্দীন, উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বাবুল আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশে ব্যানার-ফেস্টুন ও বৈঠা নিয়ে আওয়ামী লীগ, দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, শত শত মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। এ সময় তারা স্লোগান ধরেনÑসোহরাব তুই রাজাকার, এই মুহূর্তে পাকুন্দিয়া ছাড়।’ তবে প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সোহরাব উদ্দিনের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, এর আগে ২০০০ সালে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। ইতিমধ্যেই বার্ধক্যজনিত কারণে দুজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৩১ সদস্য মারা যান। ২০১৩ সালে আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহও পদত্যাগ করেন। ওই অবস্থায় খুঁড়িয়ে চলছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। এমন পরিস্থিতিতে ত্যাগী, দায়িত্বশীল ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে গত জুলাই মাসে বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদের উদ্যোগে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০টি সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কাজও শেষ হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিরোধে ১০ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া সম্মেলন করা থেকে বিরত থাকতে নূর মোহাম্মদ এমপিকে সতর্ক করে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি চিঠি পাঠান।

চিঠি পেয়ে এ উপজেলার ১টি ইউনিয়নসহ ১০টি ইউনিটের সম্মেলন কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জ-০২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করা হয়। এর পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আ.লীগ

আহ্বায়কের অপসারণ ও কমিটি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি বাতিল ও কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের অপসারণের দাবিতে উত্তাল স্থানীয় আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীরা বলছেন, যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিনকে আমরা কোনোভাবেই দলের কমিটিতে চাই না। অবিলম্বে তাকে কমিটি থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এ দাবিতে রোববার বিকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরে ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে স্থানীয় নেতারা বলেছেন, এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পাকুন্দিয়া অচল করে দেওয়া হবে। তারা এ দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে রোববার বিকাল ৩টার সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির, জেলা কৃষক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ, পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বুরুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মিজবাহ উদ্দীন, উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বাবুল আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশে ব্যানার-ফেস্টুন ও বৈঠা নিয়ে আওয়ামী লীগ, দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, শত শত মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। এ সময় তারা স্লোগান ধরেনÑসোহরাব তুই রাজাকার, এই মুহূর্তে পাকুন্দিয়া ছাড়।’ তবে প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সোহরাব উদ্দিনের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, এর আগে ২০০০ সালে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। ইতিমধ্যেই বার্ধক্যজনিত কারণে দুজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৩১ সদস্য মারা যান। ২০১৩ সালে আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহও পদত্যাগ করেন। ওই অবস্থায় খুঁড়িয়ে চলছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। এমন পরিস্থিতিতে ত্যাগী, দায়িত্বশীল ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে গত জুলাই মাসে বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদের উদ্যোগে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০টি সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কাজও শেষ হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিরোধে ১০ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া সম্মেলন করা থেকে বিরত থাকতে নূর মোহাম্মদ এমপিকে সতর্ক করে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি চিঠি পাঠান।

চিঠি পেয়ে এ উপজেলার ১টি ইউনিয়নসহ ১০টি ইউনিটের সম্মেলন কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জ-০২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করা হয়। এর পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন