কোটা চিরন্তন ব্যবস্থা হতে পারে না: ড. আকবর আলি খান

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা চিরন্তন ব্যবস্থা হতে পারে না
ড. আকবর আলি খান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে কোটা ব্যবস্থা আছে, তা অত্যন্ত দুর্বল। কোটা হল কোনো লক্ষ্য অর্জনের ব্যবস্থামাত্র।

কোটা কখনও চিরন্তন ব্যবস্থা হতে পারে না। প্রতিবন্ধীদের জন্য যে ১ শতাংশ কোটা আছে, তা-ও বাধ্যতামূলক নয়। দেশে ১০ শতাংশ লোক প্রতিবন্ধী। এ বিবেচনায় তাদের জন্য সরকারি চাকরির কোটা ১ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করা উচিত।

তবে প্রতিবন্ধীদের আরও শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে।

শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘যুক্তি আলোয় দেখি’ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আকবর আলি খান বলেন, প্রতিবন্ধীদের কোথায় কোথায় কাজে দেয়া যায়, সে বিষয়ে সরকারের তেমন কোনো বিশ্লেষণ ও গবেষণা নেই। প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও অনেক সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে।

তারা বিভিন্ন কারণে মূলধারায় আসতে পারছে না। তবে প্রতিবন্ধীদেরও যদি শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে তারাও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়ে উঠবে। ফলে সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও তারা নিয়োগের সুযোগ পাবে। তখন হয়তো আর কোটার কোনো প্রয়োজন থাকবে না।

আকবর আলি খান আরও বলেন, আগে নারীরা পুলিশে বা প্রতিরক্ষা বিভাগে সুযোগ পেত না। কিন্তু বর্তমানে তারা এসব জায়গায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। নারীদের জন্য বর্তমানে ১০ শতাংশ কোটা রয়েছে।

কিন্তু নারীরা এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সে বিবেচনায় কোথায় কোন কোটা দরকার, ১০ বছর পর পর তা বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংস্কার করার প্রয়োজন।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সিভিল সার্ভিসে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা ও নন ক্যাডার সার্ভিসে ৩ শতাংশ কোটার কথা উল্লেখ করা হলেও এগুলো মূলত সাব-কোটা।

বিসিএস পরীক্ষায় প্রতিবার গড়ে ২ হাজার প্রার্থী ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু দেখা গেছে, এ পর্যন্ত শুধু ৫-৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থী ক্যাডার সার্ভিসে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। তাহলে প্রতিবন্ধীদের জন্য যে ১ শতাংশ কোটার কথা বলা হয়, সেটা কোথায়?

মূলত কোটা পদ্ধতিতে মেধায় ৪৫ শতাংশ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৫৫ শতাংশ নিয়োগের কথা উল্লেখপূর্বক এ কোটা থেকে প্রার্থী পাওয়া না গেলে প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের মধ্য থেকে ১ শতাংশ সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

‘টেকসই উন্নয়নে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয়। প্

রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক ঝুমুর বারি, সাংবাদিক জাহিদ রহমান, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং মু. শাহ আলম চৌধুরী। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter