জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে হাসান সরকারের তিন অভিযোগ

  গাজীপুর প্রতিনিধি ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে হাসান সরকারের তিন অভিযোগ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট মেয়রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে পৃথক তিন অভিযোগ দাখিল করেছেন।

সোমবার তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ওই অভিযোগগুলো দাখিল করেন। অভিযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার এবং হয়রানির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে হাসান উদ্দিন সরকার যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগ তিনটি বিষয় হল- ধর্মীয় উপাসনালয়- মসজিদে ভোট চাওয়া ও নগদ অনুদান দেয়া।

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি, পুলিশের গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের আবেদন এবং অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ বানচালের অপচেষ্টা।

অভিযোগে হাসান উদ্দিন সরকার যা উল্লেখ করেছেন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমি নিুস্বাক্ষরকারী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে মেয়রপ্রার্থী।

সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টাকে আমি আন্তরিক অভিন্দন জানাই। কিন্তু শাসক দল আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে নির্বাচন কমিশনের সেই আন্তরিক প্রচেষ্টা বার বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই তিনি ও তার সমর্থকেরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের বহু আকাক্সিক্ষত ‘লেভের প্লেয়িং ফিল্ড’ বিনষ্ট করছেন। ১১ মে, জাহাঙ্গীর আলম টঙ্গী সরকারি কলেজ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে এসে মুসল্লিদের কাছে প্রকাশ্যে ভোট চান এবং ওই মসজিদে নগদ ২০ হাজার টাকার অনুদান দেন।

অপরদিকে বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে মাইকিং এবং প্রচারণামূলক গান-বাজনার আয়োজন করা হচ্ছে। গত ১৩ মে, সিটি কর্পোরেশনের গাছা অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকের মাইকিং করা হয় এবং একই দিন মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালানো হয়। এসব কর্মকাণ্ড ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা’-এর যথাক্রমে ৪, ২০ ও ৩ নং বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

দ্বিতীয় অভিযোগ : মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি, পুলিশের গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের আবেদন।

এ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গাজীপুর সিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের বহু আকাক্সিক্ষত ‘লেভের প্লেয়িং ফিল্ড’ বিনষ্ট করছেন। একই সঙ্গে আমাকে ও আমার সমর্থকদেরকে ভোট অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখতে পুলিশ দিয়ে গণগ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দায়েরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন।

৬ মে উচ্চ আদালতের রায়ে নির্বাচন স্থগিত হলে ক্ষুব্ধ জনতা আমার বাড়ির সামনে এসে জড়ো হন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ওই সময় আমি সংবাদ মাধ্যমে আনুুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাই। প্রেস ব্রিফিং শেষ হলে গাজীপুরের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ আমার বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং বাড়ির সামনে থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যন আবদুল্লাহ-আল-নোমানসহ ১২ নেতাকর্মীকে বিনা কারণে আটক করে টঙ্গী থানায় নিয়ে যায়।

ওই দিন রাতেই নোমান সাহেবকে ছেড়ে দিলেও বাকি ১২ জনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। অথচ মামলায় আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। এমতাবস্থায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার মুক্তি ও গণগ্রেফতার বন্ধ না হলে আমার একার পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

৩য় অভিযোগ : অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ বানচাল করার অপচেষ্টা প্রসঙ্গে।

এ অভিযোগে হাসান সরকার উল্লেখ করেন, আমি নির্বাচনী আচরণবিধি তথা দেশের প্রচলিত সব আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করে আমার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।

প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে মেয়র পদপ্রার্থী ও তার কর্মীরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এমনকি তারা অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে শান্তি ভঙ্গ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

গত (শনিবার) ৫ মে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দফায় দফায় আমার বসতবাড়ির সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়রপ্রার্থীর কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল যুবককর্মী নৌকা প্রতীকের স্লোগানে নৃত্য প্রদর্শন ও আমার বাড়ির দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয় (বাড়ির সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ সংরক্ষিত)।

৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আউচপাড়া সুলতানা রাজিয়া রোডের আমার উক্ত বাড়ির গেটের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় কাঠের তৈরি ছোট্ট নৌকা প্রতীক নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের উসকানিমূলক এমন কর্মকাণ্ডে আমার পরিবারের সদস্যরা ও আশপাশের বাসাবাড়ির লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে আপনার দফতরে ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে জানানো হলেও দৃশ্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়াও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীর কর্মীরা সেসব স্থানে নৌকা প্রতীকের স্লোগান দিয়ে আমাদের প্রচার কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।

আমার নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় জনতার ঢল দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়ে ‘মানি ও মাসল’ শক্তি প্রয়োগে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। তারা অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দ্বারা শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বানচালের চেষ্টা চালান।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter