দ্রুত ছড়ালেও ভয়ংকর নয় ওমিক্রন: ড. বিজন কুমার শীল
jugantor
দ্রুত ছড়ালেও ভয়ংকর নয় ওমিক্রন: ড. বিজন কুমার শীল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধারণার চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। ইতোমধ্যে ৪৫টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। তবে ডেল্টা ধরনের মতো এটি ততটা ভয়ংকর নয় বলে জানিয়েছেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল। ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মঙ্গলবার ‘কোভিড-১৯ ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন ডেল্টা-ওমিক্রন : বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও বৈষম্য’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই তথ্য জানান।

সেমিনারে তিনি মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, ওমিক্রনকে ভয়ঙ্কর ভাবার কারণ এর মিউটেশন। এখন পর্যন্ত ডেল্টা ধরনের সর্বোচ্চ ১৫টি মিউটেশন হয়েছে। সেখানে ওমিক্রনের হয়েছে ৫০টি। যার ৩২টি স্পাইক প্রোটিন। যা দিয়ে ধরনটি মানুষকে খুব অল্প সময়ে সংক্রমিত করতে পারে। অন্যান্য ধরনের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় সহজেই মানুষের শরীরের করোনা টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে। এ জন্যই মনে করা হচ্ছে ওমিক্রন ডেল্টার চেয়েও ভয়ানক।

তবে ফিউরিন নামক একটি প্রোটিন সম্পূর্ণ ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। এটি সার্সকোভ-১ এ ছিল না, তবে সার্সকোভ-২ এ আছে। এখন এটি যদি আরও বিস্তার লাভ করে তাহলে ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। এই মুহূর্তে ডেল্টার মতো আতঙ্কিত হওয়ার মতো অবস্থায় যায়নি ওমিক্রন। তবে এটাই শেষ নয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ আফ্রিকা থেকে অন্যান্য দেশে শনাক্তের পর এটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সংক্রমণ যত বাড়বে ধরনটি ততই মারাত্মক হতে থাকবে।

এই গবেষক বলেন, ইতিমধ্যে যারা করোনা টিকা নিয়েছেন, তারা অনেকটা সুরক্ষিত। কিন্তু এর বিপরীতে টিকার কার্যকারিতা কতটুকু সে সম্পর্কে পর্যালোচনা চলছে। সেমিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরুস বলেন, আমরা জানি দেশে টিকার জন্য নিবন্ধিত ৮০ থেকে ৯০ লাখ এবং নিবন্ধন ছাড়া প্রায় এক কোটির মতো বয়স্ক মানুষ এখনও টিকার বাইরে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে ভার্চুয়ালি অংশ নেন গণস্বাস্থের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্বিগুণ দামে করোনা টিকা কিনতে উৎসাহী। তারা প্লেনের ভাড়া ছাড়াই প্রায় ১৪ ডলার ব্যয়ে প্রতিডোজ টিকা কিনেছেন। সেমিনারটি পরিচালনা করেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।

দ্রুত ছড়ালেও ভয়ংকর নয় ওমিক্রন: ড. বিজন কুমার শীল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধারণার চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। ইতোমধ্যে ৪৫টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। তবে ডেল্টা ধরনের মতো এটি ততটা ভয়ংকর নয় বলে জানিয়েছেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল। ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মঙ্গলবার ‘কোভিড-১৯ ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন ডেল্টা-ওমিক্রন : বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও বৈষম্য’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই তথ্য জানান।

সেমিনারে তিনি মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, ওমিক্রনকে ভয়ঙ্কর ভাবার কারণ এর মিউটেশন। এখন পর্যন্ত ডেল্টা ধরনের সর্বোচ্চ ১৫টি মিউটেশন হয়েছে। সেখানে ওমিক্রনের হয়েছে ৫০টি। যার ৩২টি স্পাইক প্রোটিন। যা দিয়ে ধরনটি মানুষকে খুব অল্প সময়ে সংক্রমিত করতে পারে। অন্যান্য ধরনের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় সহজেই মানুষের শরীরের করোনা টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে। এ জন্যই মনে করা হচ্ছে ওমিক্রন ডেল্টার চেয়েও ভয়ানক।

তবে ফিউরিন নামক একটি প্রোটিন সম্পূর্ণ ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। এটি সার্সকোভ-১ এ ছিল না, তবে সার্সকোভ-২ এ আছে। এখন এটি যদি আরও বিস্তার লাভ করে তাহলে ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। এই মুহূর্তে ডেল্টার মতো আতঙ্কিত হওয়ার মতো অবস্থায় যায়নি ওমিক্রন। তবে এটাই শেষ নয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ আফ্রিকা থেকে অন্যান্য দেশে শনাক্তের পর এটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সংক্রমণ যত বাড়বে ধরনটি ততই মারাত্মক হতে থাকবে।

এই গবেষক বলেন, ইতিমধ্যে যারা করোনা টিকা নিয়েছেন, তারা অনেকটা সুরক্ষিত। কিন্তু এর বিপরীতে টিকার কার্যকারিতা কতটুকু সে সম্পর্কে পর্যালোচনা চলছে। সেমিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরুস বলেন, আমরা জানি দেশে টিকার জন্য নিবন্ধিত ৮০ থেকে ৯০ লাখ এবং নিবন্ধন ছাড়া প্রায় এক কোটির মতো বয়স্ক মানুষ এখনও টিকার বাইরে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে ভার্চুয়ালি অংশ নেন গণস্বাস্থের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্বিগুণ দামে করোনা টিকা কিনতে উৎসাহী। তারা প্লেনের ভাড়া ছাড়াই প্রায় ১৪ ডলার ব্যয়ে প্রতিডোজ টিকা কিনেছেন। সেমিনারটি পরিচালনা করেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন