স্মরণসভায় হাবীবের মৃত্যুর তদন্ত চাইলেন প্রিয়জনরা
jugantor
স্মরণসভায় হাবীবের মৃত্যুর তদন্ত চাইলেন প্রিয়জনরা

  ঢাবি প্রতিনিধি  

২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক হাবীব রহমানের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে তার বন্ধু-শিক্ষক-সহযোদ্ধারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক স্মরণসভায় এই দাবি ওঠে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে হাবীবের বন্ধুদের আয়োজনে এই স্মরণসভা হয়। এতে তার বিভাগ, হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-শিক্ষক-সাংবাদিকতার সহকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

হাবীবের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের রুমমেট শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন ইসলাম বলেন, এত সহজে মানুষের কাছে যেতে পারত, সেটা অনেকেই পারত না। হাবীবের কেবল মুখে আঘাত। আসলেই কি এটা দুর্ঘটনা? আসল ঘটনা উদঘাটন হওয়া জরুরি।

হাবীবের বন্ধু সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমি পেশায় অপরাধ সাংবাদিকতা করি। প্রায়ই আমাকে মর্গে যেতে হয়। কিন্তু সেই মর্গে স্বজন নিয়ে কোনোদিন যাব ভাবতে পারিনি। মর্গের সেখানে কাজ করা মানুষ আমাকে চেনে। তারা আমাকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এটাকে দুর্ঘটনা মানতে আমার পেশাগত অভিজ্ঞতা সায় দেয় না। এটা উদঘাটনের দাবি করছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সাখাওয়াত মুন বলেন, বসে বসে তার ছেলেটিকে দেখছিলাম। ও বুঝতেই পারছে না, ও কী হারিয়েছে। আমরা তার পাশে থাকব। তার বন্ধু ফারাবি হাফিজ বলেন, দোস্ত ছোট ভাইয়ের চাকরি লাগবে, কাউকে হলে তুলতে হবে-এ রকম নানা ইস্যুতে কথা হয়েছে হাবীবের সঙ্গে। এনটিভির সাংবাদিক মিজান রহমান বলেন, ছোট হয়েও আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে। তার কমিউনিটি ফিলিংস, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি দিয়ে আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, বন্ধুদের মাঝে আড্ডা জমিয়ে রাখত হাবীব। বন্ধুদের মাঝে কোনো ঝামেলা হলে সেটা মিটমাট করত সে। হাবীবের বাচ্চার পাশে থাকতে চাই। হাবীব যেন উপরে বসে কষ্ট না পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন প্রিন্স বলেন, হাবীব ভাইয়ের মৃত্যু যদি কোনো নাশকতা হয়, তাহলে তা উপড়ে ফেলতে হবে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, আমার কোনো শিক্ষার্থীর স্মরণসভায় আসতে হবে, সেটা আমি ভাবিনি। একদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেদিন আমাকে একা একা রাতে চলাফেরা করতে নিষেধ করেছিল হাবীব। তখন আমি বলেছি, তোমরা থাকতে আমার ভয় কী? যারা আমাকে অভয় দেয়, তাদের একজন চলে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাবীবের বন্ধু পুলিশ কর্মকর্তা তয়াসির জাহান বাবু বলেন, আমার যখন প্রচণ্ড মন খারাপ হতো, তখন হাবীবের কাছে সেটা বলতাম। ভরসা পেতাম। গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, আমি হাবীবকে ক্লাসরুমে পেয়েছি। তাকে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিয়া শারমিন বলেন, হাবীবরা যখন ক্যাম্পাসে এসেছিল, তখন নীল শাড়ি পরে দল নিয়ে এখানেই কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম ওদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে। আজ নীল জামা পরে ওকে স্মরণ করতে এসেছি। আজ সামনের মানুষদের চোখে জল।

ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আপন করে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা ছিল তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদি হাসান বলেন, হাবীব ভাই একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুর একটি ব্যাখ্যা চাই। আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা দেবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগ সব সময়ই ছিল। তার মৃত্যুর খবরটি দেখে আমার বিশ্বাস হয়নি। একটা সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

স্মরণসভায় হাবীবের মৃত্যুর তদন্ত চাইলেন প্রিয়জনরা

 ঢাবি প্রতিনিধি 
২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক হাবীব রহমানের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে তার বন্ধু-শিক্ষক-সহযোদ্ধারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক স্মরণসভায় এই দাবি ওঠে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে হাবীবের বন্ধুদের আয়োজনে এই স্মরণসভা হয়। এতে তার বিভাগ, হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-শিক্ষক-সাংবাদিকতার সহকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

হাবীবের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের রুমমেট শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন ইসলাম বলেন, এত সহজে মানুষের কাছে যেতে পারত, সেটা অনেকেই পারত না। হাবীবের কেবল মুখে আঘাত। আসলেই কি এটা দুর্ঘটনা? আসল ঘটনা উদঘাটন হওয়া জরুরি।

হাবীবের বন্ধু সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমি পেশায় অপরাধ সাংবাদিকতা করি। প্রায়ই আমাকে মর্গে যেতে হয়। কিন্তু সেই মর্গে স্বজন নিয়ে কোনোদিন যাব ভাবতে পারিনি। মর্গের সেখানে কাজ করা মানুষ আমাকে চেনে। তারা আমাকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এটাকে দুর্ঘটনা মানতে আমার পেশাগত অভিজ্ঞতা সায় দেয় না। এটা উদঘাটনের দাবি করছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সাখাওয়াত মুন বলেন, বসে বসে তার ছেলেটিকে দেখছিলাম। ও বুঝতেই পারছে না, ও কী হারিয়েছে। আমরা তার পাশে থাকব। তার বন্ধু ফারাবি হাফিজ বলেন, দোস্ত ছোট ভাইয়ের চাকরি লাগবে, কাউকে হলে তুলতে হবে-এ রকম নানা ইস্যুতে কথা হয়েছে হাবীবের সঙ্গে। এনটিভির সাংবাদিক মিজান রহমান বলেন, ছোট হয়েও আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে। তার কমিউনিটি ফিলিংস, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি দিয়ে আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, বন্ধুদের মাঝে আড্ডা জমিয়ে রাখত হাবীব। বন্ধুদের মাঝে কোনো ঝামেলা হলে সেটা মিটমাট করত সে। হাবীবের বাচ্চার পাশে থাকতে চাই। হাবীব যেন উপরে বসে কষ্ট না পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন প্রিন্স বলেন, হাবীব ভাইয়ের মৃত্যু যদি কোনো নাশকতা হয়, তাহলে তা উপড়ে ফেলতে হবে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, আমার কোনো শিক্ষার্থীর স্মরণসভায় আসতে হবে, সেটা আমি ভাবিনি। একদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেদিন আমাকে একা একা রাতে চলাফেরা করতে নিষেধ করেছিল হাবীব। তখন আমি বলেছি, তোমরা থাকতে আমার ভয় কী? যারা আমাকে অভয় দেয়, তাদের একজন চলে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাবীবের বন্ধু পুলিশ কর্মকর্তা তয়াসির জাহান বাবু বলেন, আমার যখন প্রচণ্ড মন খারাপ হতো, তখন হাবীবের কাছে সেটা বলতাম। ভরসা পেতাম। গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, আমি হাবীবকে ক্লাসরুমে পেয়েছি। তাকে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিয়া শারমিন বলেন, হাবীবরা যখন ক্যাম্পাসে এসেছিল, তখন নীল শাড়ি পরে দল নিয়ে এখানেই কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম ওদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে। আজ নীল জামা পরে ওকে স্মরণ করতে এসেছি। আজ সামনের মানুষদের চোখে জল।

ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আপন করে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা ছিল তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদি হাসান বলেন, হাবীব ভাই একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুর একটি ব্যাখ্যা চাই। আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা দেবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগ সব সময়ই ছিল। তার মৃত্যুর খবরটি দেখে আমার বিশ্বাস হয়নি। একটা সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন