পানিতে ডুবে আছে ফতুল্লা ফায়ার স্টেশন

গাড়ি নিয়ে কর্মীরা খোলা আকাশের নিচে

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফতুল্লা প্রতিনিধি

ফতুল্লা ফায়ার স্টেশন ৩-৪ ফুট পানিতে ডুবে আছে। গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ফায়ারকর্মীরা স্টেশনের অদূরে খোলা আকাশের নিচে জরুরি ডাকের অপেক্ষায় বসে থাকেন। অপরিকল্পিতভাবে তৈরি এ ফায়ার স্টেশন অল্প বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। কারণ ওই স্টেশনে পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়রা জানান, ডিএনডির বাইরে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকায় ফতুল্লা ফায়ার স্টেশন গত বছরের শেষের দিকে উদ্বোধন করা হয়। এ স্টেশনের চারপাশে রয়েছে বিসিক শিল্পনগরীর শত শত কলকারখানা। এ ছাড়া আশপাশে রয়েছে কয়েক হাজার বাসাবাড়ি। এসব বাড়িতে বিসিকে কর্মরত শ্রমিকরা বসবাস করেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বিসিকসহ আশপাশের এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আশপাশে দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের ফতুল্লা স্টেশনের সহযোগিতা তাৎক্ষণিক পাওয়াও সম্ভব নয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

এ ছাড়া ফতুল্লায় ডিএনডির ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি এলাকায়ই বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও হাটবাজারে জমেছে হাঁটুপানি। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সোমবার সকাল থেকেই জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক মামুনুর রশিদ যুগান্তরকে জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং আশপাশে ডোবা-নালা বালি দিয়ে ভরে ফেলায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই ফতুল্লা ফায়ার স্টেশনের। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই ফায়ার স্টেশনে হাঁটু বা তার উপরে পানি জমে। এতে কাজকর্মে যাতে বাধা সৃষ্টি না হয় এ জন্য স্টেশন থেকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে কিছুটা দূরে উঁচু স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। ফায়ারকর্মীরাও সেখানে বসে থাকেন। সেখান থেকে অপারেশন পরিচালনা করা হয়। আর পানি দিয়ে হেঁটে স্টেশনের দোতলায় গিয়ে বিশ্রাম করেন ফায়ারকর্মীরা। তিনি আরও জানান, স্টেশনের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং স্থানীয় এক শিল্পপতি বলেছেন তিনি স্টেশনের ভবনটি মাটি ফেলে উঁচু করে দেবেন।