নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্প

আকাশে মেঘ দেখলেই আঁতকে ওঠেন দুই লাখ বাসিন্দা!

  এ হাই মিলন, রূপগঞ্জ ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আকাশে মেঘ দেখলেই আঁতকে ওঠেন দুই লাখ বাসিন্দা!
ছবি: সংগৃহীত

আকাশে মেঘ দেখলেই আঁতকে ওঠে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী-অগ্রণী সেচ প্রকল্পের দুই লাখ বাসিন্দা। টানা চারদিনের বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ আর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এখানকার বাসিন্দাদের।

টানা ভারি বর্ষণে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে পানি ঢুকে গেছে। অনেক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃষ্টিতে এলাকার কোথাও জমেছে হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর পানি। আবার কোথাও অথৈই পানি।

দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এখানকার মানুষ। ইতিমধ্যে অনেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সরকারি নিয়মকানুন না মেনে অপরিকল্পিতভাবে বালু ভরাট, ভবন নির্মাণ ও বাড়িঘর নির্মাণ জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা। পানি নিষ্কাশনে যাত্রামুড়া ও বানিয়াদির পাম্প হাউসগুলো কোনো কাজে আসছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের মাসাব, বরপা বাগানবাড়ি, শান্তিনগর, সুতালড়া, আড়িয়াবো, তেতলাব, কর্ণগোপ, মৈকুলী, মিয়াবাড়ী, ভায়েলা, পাঁচাইখা, মোগড়াকুল, পবনকুল, বরাব, খাদুন, গোলাকান্দাইল, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, ৫নং ক্যানেল, কাহিনা, রূপসী, গন্ধর্বপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, গত কয়েক বছরে সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতারা খালগুলো ভরাট করে মার্কেট, ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

এতে সামান্য বর্ষণ হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না বলে দাবি করেন তারা। অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও পানি সরাসরি ফেলানোর কারণে খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। যার কারণে দুটি প্রকল্পের জনগণের পিছু ছাড়ছে না জলাবদ্ধতা।

গোলাকান্দাইল এলাকার রিপন, বাতেন, মনিরুল ইসলাম, উত্তম হাওলাদার, দেলোয়ার, খোরশেদ, রুহুল আমিন, জহির, শহিদ অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে কোমর পানি পর্যন্ত জমে যায়।

এ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানি ভেঙে স্কুলে যেতে হয়। পানিবাহিত রোগেও আক্রান্ত হয়েছে অনেকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, সরকারিভাবে খালগুলো খননের জন্য যে বরাদ্দ আসে তা ঠিকমতো কাজে লাগালে হয়তো এ সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া যেত।

বরাদ্দকৃত টাকা স্থানীয় প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। ষাটোর্র্ধ্ব বৃদ্ধা সিরিয়া বেগম ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘বড় বড় মেইল মালিকরা (শিল্প মালিকরা) খালগুলা দহল (দখল) করছে হেরলেইগ্গা আমাগো পানির তলে থাহোন (থাকা) লাগে।’ এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু ফাতেহ মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুব দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব অগ্রণীবাসীকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter