ইরানের মোকাবেলায় ‘প্লান বি’ আনছে যুক্তরাষ্ট্র

ইতিহাসের ‘কঠিনতম নিষেধাজ্ঞায়’ পড়বে ইরান : পম্পেও

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: এএফপি

ইরানের মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্লান বি’ নিয়ে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ইরান বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির নতুন এ পরিকল্পনা পম্পেও শিগগিরই প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন মাইক পম্পেও।

সোমবার ওয়াশিংটনে এক ভাষণে তিনি বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার পর নিজেদের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখতে হিমশিম খাবে ইরান। ইরানের ‘আগ্রাসন’ রুখতে পেন্টাগন ও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন পম্পেও। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬ জাতিগোষ্ঠীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৮ মে ইরানের বিরুদ্ধে সমঝোতা ক্ষুণেœর অভিযোগ তুলে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জয়েন্ট কমপ্রিহেন্সিভ প্লান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের এ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চুক্তি কার্যকর রাখতে প্রতি ৩ মাস পরপর দেশটির প্রেসিডেন্টের সম্মতি দরকার। ১২ মে পরবর্তী ৩ মাসের জন্য এ চুক্তিতে ট্রাম্প স্বাক্ষর না করায় যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সমঝোতা ভেস্তে গেছে।

পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপই জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার তিনি ইরানকে ১২টি শর্ত বেঁধে দেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সিরিয়া থেকে সব সেনা প্রত্যাহার ও ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের অর্থায়ন বন্ধ করা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক আণবিক বিদ্যুৎ সংস্থাকে তাদের পারমাণবিক পরীক্ষার বিস্তারিত জানানো ও এ পরীক্ষা বন্ধ করা, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি হুমকিস্বরূপ আচরণ বন্ধ করতে হবে। ইসরাইলকে ধ্বংস করা, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে মিসাইল হামলার হুমকি বন্ধ করা এবং আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি দেয়ার শর্তও দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

পম্পেও বলেন, ইরান যদি তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনে তবেই নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপে রাখব।