আশা কর্মকর্তা হত্যায় রাজার স্বীকারোক্তি

ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খাইয়ে হত্যা

  ইকবাল হাসান ফরিদ ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিহত আশার খিলগাঁও জোনের ঋণ কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন
ছবি সংগৃহীত

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশার খিলগাঁও জোনের ঋণ কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনকে দুপুরে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে অটোরিকশায় করে নেয়া হয় বালু নদীর পারে নির্জন স্থানে। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যার পর লুটে নেয়া হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

লাশ বেঁধে রাখা হয় গাছের সঙ্গে। রাত ১০টার পর আবার সেখানে গিয়ে হাত-পা বেঁধে লাশ তোলা হয় নৌকায়। লাশের সঙ্গে স্ল্যাব বেঁধে ফেলে দেয়া হয় মাঝ নদীতে।

বিল্লাল হোসেন খুনে গ্রেফতার রাজা মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পুলিশের কাছেও সে হত্যার দায় স্বীকার করে। বলেছে, টাকার লোভেই সে বিল্লাল হোসেনকে খুন করেছে।

রাজা আদালতকে বলে, একাধিক জায়গা থেকে নেয়া ঋণে জর্জরিত ছিলাম। হাতে একদম টাকা ছিল না। এরই মধ্যে ১২ মে ছিল আশার ঋণের কিস্তি। ওইদিন দুপুরে কিস্তির টাকার জন্য ফোন দেন বিল্লাল হোসেন। হাতে টাকা নেই।

তারপরও তাকে বাসায় আসতে বলি। তিনি বাসায় এলে বসতে বলে বেরিয়ে যাই। চিন্তা করলাম, তাকে যদি হত্যা করা যায় তবে তার কাছ থেকে লাখ খানেক টাকা পাওয়া যেতে পারে। এক পাতা উচ্চ মাত্রার ঘুমের ওষুধ কিনলাম।

তা গুঁড়া করে প্রাণ ফ্রুটোর সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে আসলাম। বাসার নিচে এসে বিল্লাল হোসেনকে ফোন দিই। তিনি নিচে নেমে আসেন। তার হাতে জুসের বোতল ধরিয়ে দিই। তার সঙ্গে এতদিনে এতটাই মধুর সম্পর্ক হয়েছে যে, তিনি না খেয়ে পারলেন না।

রাজা আদালতকে আরও বলেন, জুস খাওয়ার পর তাকে বলি আমার সঙ্গে চলেন বাড্ডায় যাব। সেখানে একজনের কাছে টাকা পাব। টাকা নিয়ে আপনাকে দিয়ে দেব। এরপর একটি সিএনজিতে করে দু’জনে রওনা হই বাড্ডায়। যত সময় যাচ্ছে ততই ওষুধের প্রতিক্রিয়া হতে থাকে বিল্লাল হোসেনের শরীরে।

আস্তে আস্তে বিল্লাল হোসেন ঘুমিয়ে গেলে এ রাস্তা ও রাস্তা ঘুরে বালু নদীর পারে গিয়ে অটোরিকশা ছেড়ে দিই। বিল্লাল হোসেনকে নিয়ে নৌকা দিয়ে নদী পার হই। নদীর ওপারে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করি। পকেটে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে লাশ গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে আসি।

নির্ধারিত সময়ের পরও অফিসে না ফেরায় বিকালে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। সবাই আমার বাসাতেও আসছিল। তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করি।

রাজা জানায়, রাত ১০টায় নিজের ফোনটি বাসায় রেখে বেরিয়ে যায়। বালু নদী থেকে একটি নৌকা নিয়ে মৃতদেহটি হাত-পা বেঁধে বালু নৌকায় উঠাই। নদীর পাশে পড়ে থাকা দুটি ভাঙা সিমেন্টের স্ল্যাবও নিয়ে যায়। পরে লাশের সঙ্গে স্ল্যাব বেঁধে মাঝনদীতে ফেলে দেয়। এরপরও লাশ ভেসে উঠলে চাকু দিয়ে পেটে আঘাত করে। এরপর সে নৌকা নিয়ে চলে আসে।

খিলগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নাদিয়া জুঁই যুগান্তরকে বলেন, বিল্লাল হত্যার পর ওইদিনই রাজাকে আটক করা হয়। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে দায় স্বীকার করে।

নাদিয়া জুঁই বলেন, খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের পাশে রাজার একটা দোকান আছে। সেখানে সে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের এজেন্ট এবং বিকাশের এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করে। পাশেই একটি ভবনের ৪ তলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে।

তিনি বলেন, রাজার কোনো আয় ইনকাম নেই। একাধিক জায়গা থেকে ঋণ নেয়া আছে। একজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সে আরেকজনের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে।

কিছুদিন আগে সে তার আরেক সহযোগীকে নিয়ে বিকাশের টাকা ছিনতাইয়েরও পরিকল্পনা করছিল। নাদিয়া জুঁই বলেন, রাজার কাছ থেকে ৫৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বিল্লালের মোবাইল ফোনটি সে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে।

১২ মে সকালে কর্মস্থল থেকে লোনের কিস্তি আদায় করতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন বিল্লাল হোসেন। ১৪ মে সকালে বাবুর জায়গা সাকিনের নুর মোহাম্মদের বাড়ির পূর্ব দক্ষিণে বালু নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও কোমরের সঙ্গে লোহার তার দিয়ে ইট-বালু সিমেন্টের পুরনো দুটি বড় আকারের ভাঙা স্ল্যাব বাধা অবস্থায় বিল্লাল হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আশার খিলগাঁও শাখার ম্যানেজার আফরোজা বেগম যুগান্তরকে জানান, রাজা গত বছরের মাঝামাঝিতে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল আশা থেকে। তিনি জানান, বিল্লাল হোসেন বগুড়ার গাবতলী এলাকার দুলাল প্রামাণিকের ছেলে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter