দেশে পরিবর্তন হবেই : গয়েশ্বর

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশে পরিবর্তন হবেই। সেই পরিবর্তনে বিএনপির ভূমিকা কতটুকু থাকবে সেটা বিষয়। কিন্তু পরিবর্তন হবেই। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণ সভায় তিনি একথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য এম. শামসুল ইসলাম মৃত্যুতে ও জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন এমন মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, তখন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হতে পারে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তদবির ও তোষামোদ করে পদ পাওয়া যায় কিন্তু জনগণের সালাম পাওয়া যায় না। সুতরাং কাজে নেমে পড়ুন। কাজ করলে সালাম পাওয়া যাবে। তাতে পদ লাগবে না।

খুলনা সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন খুলনা নির্বাচন আমি নিজে মনিটরিং করেছি। সত্য কথা বলেছেন। আবার বলেছেন, আমার ভাই শেখ হেলালও মনিটরিং করেছে। তার মানে ইসির ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনা নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা আমাদের একটা বার্তা দিয়েছেন। এটা বুঝতে পারলে ভালো, না বুঝতে পারলে আমাদের বিপদ আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ক্ষমতায় বসিয়েছে মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, শেখ হাসিনা অনেক শক্তিশালী সেটা আমি মনে করি না। তবে তার পেছনে যে শক্তি কাজ করে অনেকে বলেন ইন্ডিয়ার কথা। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেকে সম্পর্ক করার কথাও বলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা আর ইন্ডিয়ার মধ্যে তো ভালো সংসার চলছে। সেই সংসারে ভাঙানি দেয়া কি ঠিক হবে?

গয়েশ্বর বলেন, আমাদের উচিত হবে ভারতের মুখ থেকে একথা বের করা যে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে কিনা? প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু তাই বলে খবরদারি কেন করবে? আমাদের দেশের সরকার কে হবে তা জনগণ পছন্দ করবে। ভারতের সরকার তো সে দেশের জনগণ পছন্দ করে। সেটা তো শেখ হাসিনা পছন্দ করে দেয় না। তাই ভারতকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে তারা তাদের নীতি পরিবর্তন করবে কিনা। কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জেল থেকে বের হওয়ার পর মনে হচ্ছে ভেতরেই ভালো ছিলাম। কারণ বের হয়েও তেমন কিছু করতে পারছি না। আমরা ভয়ের কারণে কথা বলি না। জেলখানায় বসে দেখলাম আমাদের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা। আরে নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা তো থাকবেই। কারণ বিএনপি তো নির্বাচনমুখী দল। দলের প্রতিষ্ঠাতা বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আওয়ামী লীগের মতো একদলীয় গণতন্ত্র না।