নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) তিন পরিচালকসহ কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো তদন্তের নির্দেশনার বিষয়ে কিছু জানি না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিসহ কোনো পর্যায় থেকে কিছু জানানোও হয়নি। তবে যে কোনো তদন্ত মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা ওই অভিযোগপত্রে কয়েক পরিচালকের ব্যাপারে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওইসব পরিচালক বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কয়েকজন সদস্যের যোগসাজশে অনিয়ম করে যাচ্ছেন। জনসংযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তার বিষয়েও এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের কোনো চিঠি এখন পর্যন্ত আমার হাতে আসেনি। তবে খোদ সরকার প্রধানের দফতর থেকে আসা এ ধরনের নির্দেশনা আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে থাকি। তিনি বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে এর আগে একাধিক তদন্তে আমরা নানা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, আইন বহির্ভূত বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জমি কেনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা খরচ করে দেশের বাইরে বিওটির সভা করাসহ নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের অপচয় করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের জবাবে গত ৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) সংবাদ সম্মেলন করে। তাতে সংস্থাটি দাবি করেছে, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে। এ লক্ষে প্রতি বছর সরকার অনুমোদিত বেসরকারি ফার্মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা আর্থিক বিষয় নিরীক্ষা করা হয়। সেই নিরীক্ষা রিপোর্ট রাষ্ট্রপতি কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হয়।