অভিযানের ছোঁয়া লাগেনি

উখিয়ায় মাদক গডফাদাররা বেপরোয়া

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ২৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উখিয়ায় মাদক গডফাদাররা বেপরোয়া

সরকার মাদক নির্মূলে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। কিন্তু কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা ইয়াবা স্বর্গরাজ্যখ্যাত উখিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের ছোঁয়া লাগেনি।

ফলে এখানে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া। এ নিয়ে সচেতন মহলে মাদক নির্মূল অভিযানে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সরেজমিন সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে নাফ নদীর হাঁটুপানি পার হয়ে ইয়াবা চালান সরাসরি আঞ্জুমানপাড়া গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বাড়িতে মজুদ হয়।

পরে এসব ইয়াবা চালান বিভিন্ন হাত ঘুরে সড়কপথে দেশের প্রত্যন্ত এলকায় পাচার হয়। মাঝেমধ্যে সোর্স থেকে পাওয়া খররের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন কিছু কিছু ইয়াবা চালান আটক করতে সক্ষম হলেও বেশিরভাগ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য এখন রোহিঙ্গাশূন্য। এমন অবস্থায় সেখান থেকে ইয়াবা চালান কীভাবে পাচার হয়ে আসছে এ নিয়ে কথা হয় কয়েক রোহিঙ্গার সঙ্গে। তারাও আগে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

জানান, মংডু টাউনশিপ এলাকায় অর্ধশতাধিক ইয়াবা কারখানা রয়েছে। সেখানেই উৎপাদিত ইয়াবা বাংলাদেশে ঢোকে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত সালামাতুল্লাহ, রমজান আলীসহ বেশ কয়েকজন জানান, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গারা চলে আসার কারণে ইয়াবা বাণিজ্য আরও বেড়েছে। আগে নগদ টাকা দিয়ে ইয়াবা লেনদেন হতো। এখন নগদ টাকা দিতে হয় না।

ইয়াবা লেনদেনের পর টাকা পরিশোধ করার সুযোগ থাকায় ফায়দা লুটছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট। ইয়াবা পাচার নিয়ে আরও কথা হয়, রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম, আবু তাহেরের সঙ্গে।

তারা বলেন, এখন রোহিঙ্গাদের ইয়াবা ব্যবসা করার মতো পরিবেশ নেই। এখন ব্যবসা করছে সীমান্ত সংলগ্ন ধামনখালী, উলুবনিয়া, আঞ্জুমানপাড়া, রহমতেরবিল, বালুখালীপানবাজার, তুমব্র“, ঘুমধুম এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

তাদের কাছ থেকে ইয়াবার খুচরা চালান নিয়ে যাচ্ছে থাইংখালী, পালংখালী, বালুখালী, কুতুপালং, উখিয়া সদর, কোর্টবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া এলাকার ৫ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েক উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, যারা মাদক নির্মূল করবে তারাই তো মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে কারণে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্য দিবালোকে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সিনিয়র অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ সরকারের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, উখিয়া-টেকনাফ এলাকা ইয়াবার ক্রাইমজোন নামে পরিচিত।

এ অভিযানের আওতায় এখানকার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দমন করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter