ঢাকাকে মাদকমুক্ত করতে থানাগুলোকে নির্দেশনা

মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন তালিকা করছে ডিএমপি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএমপি কমিশনার
ডিএমপি কমিশনার

চলমান অভিযানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। আত্মগোপনে চলে গেছে তালিকাভুক্ত অনেক ব্যবসায়ী। সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যে মাদক কেনাবেচা কমলেও বন্ধ হয়নি।

রাজধানীর অনেক মাদক স্পটে এখনও প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা করছে ব্যবসায়ীরা। পুলিশের ধারণা, অভিযানের কারণে তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় নতুন কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়াচ্ছে।

কোথাও কোথাও আবার পুলিশের শেল্টারে মাদক বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় ঢাকাকে মাদকমুক্ত করতে থানাগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

সম্প্রতি ডিএমপি সদর দফতরে বৈঠক করে থানাগুলোকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি সদর দফতর। নির্দেশনায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, জামিনে বেরিয়ে আসা মাদক ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি ও নতুন মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত হলে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক নির্মূলে অভিযানের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে জনমত গড়ে তুলতে হবে।

ডিএমপির একাধিক থানার ওসিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিএমপিকে মাদকমুক্ত করতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পুরনো ব্যবসায়ীদের অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে।

আবার অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে, এই সুযোগে অনেকেই নতুন করে মাদক ব্যবসা শুরু করতে পারে। তাই নতুন মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি সদর দফতর। নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা কাজ শুরু করেছে।

ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশ-বিদেশে মাদকবিরোধী চলমান অভিযান প্রশংসিত হয়েছে। তাই স্থানীয় জনগণকে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে জনমত গড়ে তুলতে হবে।

নিজ নিজ থানা এলাকা মাদকমুক্ত করতে না পারলে সেটা ওই থানার কর্মকর্তাদের অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কর্মকর্তারা আরও বলেন, মাদক মামলায় কেউ জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তার ওপর নজরদারি রাখতে হবে।

নতুন করে সে মাদকের সঙ্গে জড়াচ্ছে কিনা- সেটার খোঁজ রাখতে হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে পালালে, বাসা ছেড়ে দিলে স্থানীয় ও বাসার মালিকদের বক্তব্য রেকর্ড করে থানায় রিপোর্ট করতে হবে।

কোনো মাদক ব্যবসায়ী যদি জেলে থাকে তাহলে পরিবারকে তাদের জামিন না করাতে অনুরোধ করতে হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী যদি ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। যারা মাদক ছাড়তে চায়, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঢাকা শহর থেকে যে কোনো মূল্যে মাদক নির্মূল করা হবে। যারা মাদকের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাউকে একচুল ছাড় দেয়া হবে না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা আজকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি। ঢাকা মহানগরীতে মাদকের কোনো আখড়া থাকতে দেয়া হবে না। সব আখড়া গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক, যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক, যে দলেরই হোক, যে পেশার হোক, এমনকি আমার পুলিশ বাহিনীর হলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না। যে কোনো মূল্যে ঢাকা শহর থেকে মাদক নির্মূল করা হবে।’

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter