রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

মিয়ানমারকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান

শুধু দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয়, বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে * ‘বাংলাদেশকে ১১ জুনের মধ্যে আইসিসিকে তথ্য দেয়া উচিত’

  ঢাবি প্রতিনিধি ০৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘জবাবদিহিতা : আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে তারা এ আহ্বান জানান।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) উদ্যোগ ও বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর কেট ভিগনেসওয়ারেন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিলিপ রুডক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনার তদন্ত ও বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে করা সম্ভব বলে সেমিনারে মত দেন বক্তারা। আর এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগামী ১১ জুনের মধ্যে বাংলাদেশের কাছে আইসিসি যে তথ্য চেয়েছে তা দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য তাদের।

বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের ঘটনাকে গণহত্যা বলার মতো যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ আছে। তাই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। এ জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ সবার একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আইসিসি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এর সমাধান সম্ভব নয়। বহুপাক্ষিক চাপের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। রাশিয়াকেও এ ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে নিতে হবে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বাংলাদেশের কাছে যে তথ্য ও প্রমাণ চেয়েছে সেগুলো দেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মূলভিত্তি ‘রোম বিধি’ অনুযায়ী আইসিসি চাইলে মিয়ানমার যে নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার তদন্ত করতে পারে। কারণ, অনেক মানুষ হত্যা করা হয়েছে। সাত লাখেরও বেশি মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যার মধ্যে অর্ধেক শিশু। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘স্টেট পার্টি’ হিসেবে এখানে ভূমিকা পালন করতে পারে।

কেট ভিগনেসওয়ারেন বলেন, হত্যা ও নীপিড়নের পর মানুষ বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তাই এ ক্ষেত্রে আইসিসি ভৌগোলিক বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। রোম বিধি ধারা-১২ অনুযায়ী মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।

এ ছাড়া যেহেতু মিয়ানমার হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিলিপ রুডক বলেন, মিয়ানমারের ঘটনাকে গণহত্যা বলার মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে। তাই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

এ জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ সবার একসঙ্গে কাজ করা খুবই জরুরি। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে এ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গণহত্যার বিচার কিংবা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আইসিসি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে হবে। আর এটা করা সম্ভব। কারণ, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার যে হত্যা, ধর্ষণ, নীপিড়ন করেছে, তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। সে জন্য শুধু দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এর সমাধান সম্ভব নয়। বহুপাক্ষিক চাপের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। রাশিয়াকেও এ ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে নিতে হবে।

ফারাহ্ কবির বলেন, মিয়ানমারকে যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা না যায়, ততক্ষণ তারা বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না। সে কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘকে উদ্যোগী হয়ে মিয়ারমারকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter