আইএমএফের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আলোচনা মধ্য অক্টোবরে
jugantor
ডলারের চাপ মোকাবিলা
আইএমএফের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আলোচনা মধ্য অক্টোবরে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মধ্য অক্টোবর থেকে শুরু হবে। সমঝোতা হলে ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় করতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর আগে আইএমএফের কাছ থেকে জরুরিভিত্তিতে ঋণ পাওয়া সম্ভাবনা নেই।

সূত্র জানায়, আগামী ১০ অক্টোবর থেকে আমেরিকায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা হবে। চলবে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ওই সভায় বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলও অংশ নেবে। সভার কোনো একটি পর্যায়ে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের ঋণ বিষয়ে আলোচনা হবে। ওই আলোচনায়ই ঠিক হবে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে এগোবে। ওই বৈঠকের পরে আইএমএফ মিশন বাংলাদেশে আসতে পারে।

তবে যেহেতু বাংলাদেশ জরুরিভিত্তিতে ঋণ চেয়েছে এবং ঋণের কিছু শর্ত বাস্তবায়নও হয়ে গেছে- এ কারণে দ্রুতই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ওই বৈঠকের সময় সাইডলাইনে থেকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও ঋণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সূত্র জানায়, রপ্তানির চেয়ে আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে রিজার্ভ থেকে ডলার দিয়ে বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এভাবে রিজার্ভ থেকে বেশিদিন ডলারের জোগান দেওয়াও সম্ভব নয়। এ কারণে ডলার সংকট মোকাবিলা করতে সরকার আইএমএফসহ বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। আইএমএফের কাছ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হতে পারে। তবে এখনো ঋণের অংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। গত মাসে সরকার থেকে আইএমএফের কাছে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ চাওয়া হয়েছে। ১৪ জুলাই আইএমএফের একটি মিশন বাংলাদেশে এসে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে গেছে। দলটি ২২ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করে। তারা বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে ঋণের জন্য। এর মধ্যে ভর্তুকি কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ করা, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, ঋণের সুদের হারের বর্তমান সীমা তুলে দেওয়া উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে সরকার সারের ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে এই দুই খাতে ভর্তুকি কিছুটা কমেছে। যদিও জ্বালানি তেল আমদানিকারক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিট হিসাবে মুনাফা করছে। সুদের হারের সীমার ব্যাপারেও আগামীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুটা শিথিলতা দেখাবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি রয়েছে। কেননা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করে, বৈদেশিক মুদ্রার মালিক সরকার। এ কারণে সব ধরনের বৈদেশিক মুদ্রাই রিজার্ভের অংশ। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের চলতি হিসাবে যেগুলো রয়েছে সেগুলো রিজার্ভে নেই। এছাড়া টাকার বিনিময় হার হঠাৎ করে বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে অস্থিরতা দেখা দেবে।

ডলারের চাপ মোকাবিলা

আইএমএফের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আলোচনা মধ্য অক্টোবরে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মধ্য অক্টোবর থেকে শুরু হবে। সমঝোতা হলে ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় করতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর আগে আইএমএফের কাছ থেকে জরুরিভিত্তিতে ঋণ পাওয়া সম্ভাবনা নেই।

সূত্র জানায়, আগামী ১০ অক্টোবর থেকে আমেরিকায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা হবে। চলবে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ওই সভায় বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলও অংশ নেবে। সভার কোনো একটি পর্যায়ে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের ঋণ বিষয়ে আলোচনা হবে। ওই আলোচনায়ই ঠিক হবে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে এগোবে। ওই বৈঠকের পরে আইএমএফ মিশন বাংলাদেশে আসতে পারে।

তবে যেহেতু বাংলাদেশ জরুরিভিত্তিতে ঋণ চেয়েছে এবং ঋণের কিছু শর্ত বাস্তবায়নও হয়ে গেছে- এ কারণে দ্রুতই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ওই বৈঠকের সময় সাইডলাইনে থেকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও ঋণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সূত্র জানায়, রপ্তানির চেয়ে আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে রিজার্ভ থেকে ডলার দিয়ে বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এভাবে রিজার্ভ থেকে বেশিদিন ডলারের জোগান দেওয়াও সম্ভব নয়। এ কারণে ডলার সংকট মোকাবিলা করতে সরকার আইএমএফসহ বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। আইএমএফের কাছ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হতে পারে। তবে এখনো ঋণের অংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। গত মাসে সরকার থেকে আইএমএফের কাছে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ চাওয়া হয়েছে। ১৪ জুলাই আইএমএফের একটি মিশন বাংলাদেশে এসে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে গেছে। দলটি ২২ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করে। তারা বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে ঋণের জন্য। এর মধ্যে ভর্তুকি কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ করা, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, ঋণের সুদের হারের বর্তমান সীমা তুলে দেওয়া উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে সরকার সারের ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে এই দুই খাতে ভর্তুকি কিছুটা কমেছে। যদিও জ্বালানি তেল আমদানিকারক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিট হিসাবে মুনাফা করছে। সুদের হারের সীমার ব্যাপারেও আগামীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুটা শিথিলতা দেখাবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি রয়েছে। কেননা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করে, বৈদেশিক মুদ্রার মালিক সরকার। এ কারণে সব ধরনের বৈদেশিক মুদ্রাই রিজার্ভের অংশ। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের চলতি হিসাবে যেগুলো রয়েছে সেগুলো রিজার্ভে নেই। এছাড়া টাকার বিনিময় হার হঠাৎ করে বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে অস্থিরতা দেখা দেবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন