করোনা ও ডলার সংকটে কমেছে আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহার
jugantor
করোনা ও ডলার সংকটে কমেছে আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা ও ডলার সংকটে দেশের ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন কমে গেছে। ডলার সংকটের কারণে কার্ডের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্স করা যাচ্ছে না। করোনার সময় থেকে বৈদেশিক কার্ডে লেনদেন কমতে থাকে। সম্প্রতি ডলার সংকটের কারণে তা আরও কমেছে। তবে দেশের ভেতরে কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করার মতো ইস্যু করা বিভিন্ন কার্ড এটিএম, পস মেশিন ও ই-কমার্সে ব্যবহৃত হয়। গত জুনে এসবে লেনদেন হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। মে মাসে হয়েছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এপ্রিলে হয়েছিল ১৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মে মাসে এটিএমে ৭৯ কোটি টাকা, পস মেশিনে ৫৯ কোটি টাকা ও ই-কমার্সে ২৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ওই মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিকভাবে গত বছর এপ্রিলে মোট লেনদেন হয়েছিল ২৭১ কোটি টাকা, মার্চে ২৭০ কোটি টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ২৩৮ কোটি টাকা ও জানুয়ারিতে ২৬৯ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, করোনার আগে আন্তর্জাতিক মানের কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন বেশ বেড়েছিল। করোনার সময় বৈশ্বিক স্থবিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ফলে দেশবিদেশে ভ্রমণ কমে যায়। এতে কমে যায় আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহারও। করোনার পর কার্ডের লেনদেন বেড়েছিল। কিন্তু গত মে মাস থেকে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করলে আবার কার্ডের লেনদেন কমতে থাকে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে নানা প্রক্রিয়ায় কার্ড নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটনায় অনেকে কার্ড ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। আগে রপ্তানিকারক ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন তাদের প্রত্যেকেই আন্তর্জাতিক মানের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন। এখন সে প্রবণতাও কম। প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটিএম কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ৯০৫ কোটি টাকা। এর আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছিল ১ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। একই সময়ের ব্যবধানে পস মেশিনে লেনদেন হয়েছিল ৮০১ কোটি টাকা। আগের বছর হয়েছিল ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। ই-কমার্সে ১৪৯ কোটি টাকা থেকে কমে ১০৫ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্র্থবছরে মোট লেনদেন হয় ৯৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পস মেশিনে ৬১২ কোটি টাকা এবং ই-কমার্সে ১২৩ কোটি টাকা। বাকি অর্থ এটিএম কার্ডে। সাম্প্রতিক ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকাররা নগদ ডলার না দিয়ে কার্ডে ডলার নিতে উৎসাহিত করছেন। তারপরও কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে না। কার্ডে ডলার নিলে নগদ ডলারের চাপ কমে। ফলে বাজারে নগদ ডলার নিয়ে কাড়াকাড়ি হয় না।

ডলারের বিপরীতে ইউরো ও পাউন্ডের দাম কমায় ব্যাংকাররা এখন গ্রাহকদের এসব মুদ্রা কার্ডে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কেননা এসব মুদ্রা সব দেশেই চলে। ফলে এ মুদ্রা নিলে গ্রাহকদের লাভ হচ্ছে। তারা ডলারের চেয়ে বেশি ইউরো ও পাউন্ড পাচ্ছেন। তেমনি ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে ডলারের পরিবর্তে রুপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেননা ডলারের বিপরীতে রুপির মান যেভাবে কমেছে, সেভাবে টাকার বিপরীতে কমেনি। ফলে ডলার না নিয়ে রুপি নিলে গ্রাহকদের লাভ হচ্ছে বেশি।

করোনা ও ডলার সংকটে কমেছে আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা ও ডলার সংকটে দেশের ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন কমে গেছে। ডলার সংকটের কারণে কার্ডের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্স করা যাচ্ছে না। করোনার সময় থেকে বৈদেশিক কার্ডে লেনদেন কমতে থাকে। সম্প্রতি ডলার সংকটের কারণে তা আরও কমেছে। তবে দেশের ভেতরে কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করার মতো ইস্যু করা বিভিন্ন কার্ড এটিএম, পস মেশিন ও ই-কমার্সে ব্যবহৃত হয়। গত জুনে এসবে লেনদেন হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। মে মাসে হয়েছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এপ্রিলে হয়েছিল ১৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মে মাসে এটিএমে ৭৯ কোটি টাকা, পস মেশিনে ৫৯ কোটি টাকা ও ই-কমার্সে ২৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ওই মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিকভাবে গত বছর এপ্রিলে মোট লেনদেন হয়েছিল ২৭১ কোটি টাকা, মার্চে ২৭০ কোটি টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ২৩৮ কোটি টাকা ও জানুয়ারিতে ২৬৯ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, করোনার আগে আন্তর্জাতিক মানের কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন বেশ বেড়েছিল। করোনার সময় বৈশ্বিক স্থবিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ফলে দেশবিদেশে ভ্রমণ কমে যায়। এতে কমে যায় আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহারও। করোনার পর কার্ডের লেনদেন বেড়েছিল। কিন্তু গত মে মাস থেকে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করলে আবার কার্ডের লেনদেন কমতে থাকে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে নানা প্রক্রিয়ায় কার্ড নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটনায় অনেকে কার্ড ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। আগে রপ্তানিকারক ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন তাদের প্রত্যেকেই আন্তর্জাতিক মানের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন। এখন সে প্রবণতাও কম। প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটিএম কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ৯০৫ কোটি টাকা। এর আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছিল ১ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। একই সময়ের ব্যবধানে পস মেশিনে লেনদেন হয়েছিল ৮০১ কোটি টাকা। আগের বছর হয়েছিল ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। ই-কমার্সে ১৪৯ কোটি টাকা থেকে কমে ১০৫ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্র্থবছরে মোট লেনদেন হয় ৯৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পস মেশিনে ৬১২ কোটি টাকা এবং ই-কমার্সে ১২৩ কোটি টাকা। বাকি অর্থ এটিএম কার্ডে। সাম্প্রতিক ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকাররা নগদ ডলার না দিয়ে কার্ডে ডলার নিতে উৎসাহিত করছেন। তারপরও কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে না। কার্ডে ডলার নিলে নগদ ডলারের চাপ কমে। ফলে বাজারে নগদ ডলার নিয়ে কাড়াকাড়ি হয় না।

ডলারের বিপরীতে ইউরো ও পাউন্ডের দাম কমায় ব্যাংকাররা এখন গ্রাহকদের এসব মুদ্রা কার্ডে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কেননা এসব মুদ্রা সব দেশেই চলে। ফলে এ মুদ্রা নিলে গ্রাহকদের লাভ হচ্ছে। তারা ডলারের চেয়ে বেশি ইউরো ও পাউন্ড পাচ্ছেন। তেমনি ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে ডলারের পরিবর্তে রুপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেননা ডলারের বিপরীতে রুপির মান যেভাবে কমেছে, সেভাবে টাকার বিপরীতে কমেনি। ফলে ডলার না নিয়ে রুপি নিলে গ্রাহকদের লাভ হচ্ছে বেশি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন